ঔষধের অপব্যবহার (Drug Abuse)

শেয়ার করুন

বর্ণনা

চিকিৎসকের পরামর্শ ব্যতীত নিয়ন্ত্রণহীনভাবে ঔষধ গ্রহণ করাকে ঔষধের অপব্যবহার বলা হয়। ঔষধের অপব্যবহার কেবল মানসিক অবস্থার সাথে সম্পর্কযুক্ত ঔষধের ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়। কোনো ঔষধের ব্যবহারবিধি না মেনে তা ব্যবহার করাকেও ঔষধের অপব্যবহার হিসেবে ধরা হয়ে থাকে, যেমন- ক্রীড়াবিদদের স্টেরয়েড গ্রহণ। নারকোটিকস (narcotics), স্টিমুল্যান্টস্‌ (stimulants), সিডেটিভ, হ্যালুসিনোজেনস্‌ (hallucinogens), গাঁজা, এমনকি আঠা এবং রঙের অপব্যবহারকেও ঔষধের অপব্যবহার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ঔষধের অপব্যবহারের ফলে একজন ব্যক্তি আবেগতাড়িত ও নিয়ন্ত্রণহীন আচরণ করে থাকে।

কারণ

বিভিন্ন কারণে এই লক্ষণ দেখা যেতে পারে, যেমন:      

সংশ্লিষ্ট লক্ষণসমূহ

এই লক্ষণের সাথে অন্যান্য যে সকল লক্ষণ দেখা যেতে পারে সেগুলো হলো:

ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়

যে কোনো বয়সের, লিঙ্গের ও শ্রেণীর ব্যক্তি ঔষধৈর অপব্যবহারে করতে পারে বা মাদকাসক্ত হয়ে পড়তে পারে। তবে নিম্নোক্ত বিষয়গুলি এই সমস্যার ঝুঁকি বৃদ্ধি করে:

  • পরিবারে/বংশে নেশাগ্রস্ত ব্যক্তি থাকা: কিছু কিছু পরিবারে ঔষধের অপব্যবহারকারী ও মাদকাসক্ত ব্যক্তি বেশি থাকে। কোনো ব্যক্তির বাবা-মা বা ভাই-বোন যদি অ্যালকোহল গ্রহণ করে বা ঔষধের অপব্যবহার করে, তাহলে তারও এই সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
  • লিঙ্গ: নারীদের তুলনায় পুরুষদের ঔষধ অপব্যবহারের সম্ভাবনা থাকে। তবে নেশার কারণে সৃষ্ট সমস্যাগুলি নারীদের মধ্যে দ্রুত বৃদ্ধি পায়।
  • মানসিক সমস্যা: কোনো ব্যক্তির বিষণ্নতা, মনোযোগের ঘাটতি/হাইপারঅ্যাকটিভিটি ডিজঅর্ডার (hyperactivity disorder) বা পোস্ট-ট্রম্যাটিক স্ট্রেস ডিজঅর্ডারের (post-traumatic stress disorder) মতো মানসিক সমস্যা থাকলে তার ঔষধ অপব্যবহারের ঝুঁকি থাকে।
  • সঙ্গদোষ: সঙ্গদোষ ঔষধ অপব্যবহার বা মাদকাসক্তির ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখে। বিশেষত অল্পবয়স্করা সঙ্গদোষের প্রভাবে ঔষধ অপব্যবহার বা মাদক গ্রহণ শুরু করে।
  • পারিবারিক বন্ধনের অভাব: বাবা-মা ও ভাই-বোনদের সাথে সুসম্পর্কের অভাব মাদকাসক্তির ঝুঁকি বৃদ্ধি করে। এছাড়া বাবা-মায়ের অনুশাসনের অভাবের কারণেও সন্তানরা মাদকাসক্ত হয়ে পড়তে পারে।
  • উদ্বিগ্নতা, বিষণ্নতা ও একাকিত্ব: উদ্বিগ্নতা, বিষণ্নতা ও একাকিত্বের মতো মানসিক সমস্যা থেকে পরিত্রাণের জন্য অনেকে মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে বা ঔষধের অপব্যবহার করতে শুরু করে। তবে এর ফলে সমস্যাগুলি পরবর্তীতে আরো তীব্র আকার ধারণ করে।

যারা ঝুঁকির মধ্যে আছে

লিঙ্গঃ পুরুষদের মধ্যে এই লক্ষণ দেখা দেওয়ার গড়পড়তা সম্ভাবনা থাকে। নারীদের মধ্যে এই লক্ষণ দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা ১ গুণ কম।

জাতিঃ কৃষ্ণাঙ্গদের মধ্যে এই লক্ষণ দেখা দেওয়ার গড়পড়তা সম্ভাবনা থাকে। শ্বেতাঙ্গ, হিসপ্যানিক ও অন্যান্য জাতির মানুষের মধ্যে এই লক্ষণ দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা ১ গুণ কম।

সাধারণ জিজ্ঞাসা

উত্তরঃ হ্যাঁ, ঔষধের অপব্যবহারের সাথে বেশ কিছু মানসিক সমস্যা সম্পর্কযুক্ত। ঔষধের অপব্যবহারের ফলে সাধারণত বিষন্নতা, মাত্রাতিরিক্ত ক্রোধ, আবেগতাড়িত আচরণ, সাইকোসিস, উদ্বিগ্নতা, সাইকোসিস (psychosis), অসামাজিকতা ও উদ্দীপনার অভাবের মত সমস্যা দেখা দিতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে যে, নির্দিষ্ট কিছু মানসিক রোগের সাথে নির্দিষ্ট কিছু ঔষধের অপব্যবহারের সম্পর্ক রয়েছে।

উত্তত্রঃ গর্ভধারণের পূর্বে নারীদের ঔষধের অপব্যবহারের মতো ঝুঁকিপূর্ণ বিষয় ত্যাগ করা উচিৎ। এমনকি চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবহৃত কিছু ঔষধের কারণেও ভ্রুণের ক্ষতি হতে পারে। তাই অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসকেরা গর্ভবতী নারীদের এ ধরনের ঔষধ না দিয়ে ক্ষতিকর নয় এমন ঔষধ দিয়ে থাকেন। ঔষধের অপব্যবহার ত্যাগ করার একটি নির্দিষ্ট সময়ের পর একজন নারী স্বাভাবিকভাবে গর্ভধারণ করতে পারে।

হেলথ টিপস্‌

শিশু ও টিনেজারদের ঔষধের অপব্যবহার রোধ করতে নিম্নোক্ত বিষয়গুলি অনুসরণ করা যেতে পারে:

  • শিশু ও কিশোরদের ঔষধের অপব্যবহারের ঝুঁকি সম্পর্কে অবগত করুন।
  • শিশু-কিশোরদের সাথে তাদের সমস্যা (যেমন- সঙ্গদোষ) নিয়ে কথা বলুন এবং ঔষধের অপব্যবহার ত্যাগ করতে তাদের সাহায্য করুন।
  • নিজে ঔষধের অপব্যবহার ও মাদকদ্রব্য এড়িয়ে চলে শিশু-কিশোরদের জন্য উদাহরণ সৃষ্টি করুন। বাবা-মা মাদকাসক্ত হলে সন্তানদেরও মাদকাসক্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
  • সন্তানদের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখুন। সুস্থ পারিবারিক বন্ধন ঔষধের অপব্যবহার ও মাদকাসক্তির সম্ভাবনা কমিয়ে দেয়।