বিষণ্নতাজনিত সমস্যা (Depressive or Psychotic symptoms)

শেয়ার করুন

বর্ণনা

লক্ষণটি ব্লানটেড অ্যাফেক্ট (Blunted affect), কন্সট্রিকটেড অ্যাফেক্ট (Constricted affect), মনোযোগে ব্যাঘাত, উন্মাদনা ও মেজাজ পরিবর্তন নামেও পরিচিত।

ব্লানটেড অ্যাফেক্ট বলতে মানসিক (বা আবেগিক) প্রতিক্রিয়ার অভাবকে বুঝায়। এই সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিরা সঠিকভাবে তার অনুভূতি প্রকাশ করতে পারে না। বিশেষত আবেগ প্রকাশের ক্ষেত্রে এই ব্যক্তিদের বেশি সমস্যা হয়ে থাকে। এই সমস্যার কারণে কথা বলা ও অনুভূতি প্রকাশের সময় আক্রান্ত ব্যক্তির অঙ্গভঙ্গি, মুখভঙ্গি ও গলার স্বরের পরিবর্তন হ্রাস পায়। 

কারণ

বিভিন্ন কারণে এই লক্ষণ দেখা যেতে পারেঃ যেমন-

অতিরিক্ত মদ্যপান (Alcohol abuse) অ্যালঝেইমার ডিজিজ (Alzheimer's disease)
দুশ্চিন্তা/উদ্বেগ (Anxiety) বিষণ্নতা (Depression)
ডায়াবেটিক কিটোএ্যাসিডোসিস (Diabetic ketoacidosis) ঔষধের অপব্যবহার (Drug abuse)
স্ট্রোক (Stroke) হাইপোগ্লাইসেমিয়া (Hypoglycemia)
সিজোফ্রেনিয়া (Schizophrenia) ব্যক্তিত্বের ব্যাধি (Personality disorder)
ফুসফুসের অ্যাবসেস/পুঁজ (Abscess of the lung) পোস্ট ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিজঅর্ডার (Post-traumatic stress disorder)
অটিজম (Autism) বাইপোলার ডিজঅর্ডার (Bipolar disorder)
কার্বন মনোক্সাইড পয়জনিং (Carbon monoxide poisoning) হাইপোথার্মিয়া (Hypothermia)
র‍্যাবডোমায়োলাইসিস (Rhabdomyolysis) ক্রিপ্টোকোক্কোসিস (Cryptococcosis)
মারিজুয়ানা অ্যাবিউজ (Marijuana abuse) নিউরোসিস (Neurosis)
কনডাক্ট ডিজঅর্ডার (Conduct disorder) ডেভলপমেন্টাল ডিজঅ্যাবিলিটি (Developmental disability)
ডিসোশিয়েটিভ ডিজঅর্ডার (Dissociative disorder) ডিজথাইমিক ডিজঅর্ডার (Dysthymic disorder)
এপিডুরাল হেমারেজ (Epidural hemorrhage) ফ্যাক্টিশাস ডিজঅর্ডার (Factitious disorder)
ভলভুলাস (Volvulus) ম্যালিগন্যান্ট হাইপারটেনশন (Malignant hypertension)
হেপাটিক এনসেফালোপ্যাথি (Hepatic encephalopathy) মেনিনজিওমা (Meningioma)
মোয়ামোয়া ডিজিজ (Moyamoya disease) হাইড্রোসেফালাস (Hydrocephalus)
ইন্ট্রাসেরিব্রাল হেমোরেজ (Intracerebral hemorrhage) ইন্ট্রাক্রেনিয়াল হেমোরেজ (Intracranial hemorrhage)
অ্যালকোহল ইনটক্সিকেশন (Alcohol intoxication) লাইম ডিজিজ (Lyme disease)
সোমাটাইজেশন ডিজঅর্ডার (Somatization disorder) হাইপারকেলেমিয়া (Hyperkalemia)
হাইপারনেট্রেমিয়া (Hypernatremia) সাবডুরাল হেমারেজ (Subdural hemorrhage)
অ্যাস্পারজারস সিন্ড্রোম (Asperger's syndrome) টরেট সিন্ড্রোম (Tourette syndrome)
ভারনিকে করসেকফ সিন্ড্রোম (Wernicke Korsakoff syndrome) অ্যাটেনশন ডেফিসিট হাইপারঅ্যাক্টিভিটি ডিজঅর্ডার (এ-ডি-এইচ-ডি) (Attention deficit hyperactivity disorder (ADHD))
ফ্র্যাকচার অফ দি স্কাল (Fracture of the skull) অ্যাকিউট স্ট্রেস রিঅ্যাকশন/ডিজঅর্ডার (Acute stress reaction/disorder)

সংশ্লিষ্ট লক্ষণসমূহ

এই লক্ষণের সাথে অন্যান্য যে সকল লক্ষণ দেখা যেতে পারে সেগুলো হলোঃ

ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়

কোন ধরনের ব্যক্তিদের  বিষণ্নতাজনিত সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা বেশি, সে ব্যাপারে নিশ্চিত করে কিছু বলা সম্ভব নয়। তবে জেনেটিক্স এক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করে বলে গবেষকরা ধারণা করেন। কোনো ব্যক্তির পরিবারের কারো (বাবা-মা ও ভাই-বোন) বিষণ্নতাজনিত সমস্যা থাকলে তার নিজেরও এই সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যেসব শিশুরা  22q11 ডিলেশন সিনড্রম (22q11 deletion syndrome) নামক জেনেটিক মিউটেশন (genetic mutation) নিয়ে জন্মগ্রহণ করে তাদের বিষণ্নতাজনিত সমস্যা হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

যারা ঝুঁকির মধ্যে আছে

লিঙ্গঃ পুরুষদের মধ্যে এই লক্ষণ দেখা দেওয়ার গড়পড়তা সম্ভাবনা থাকে। নারীদের মধ্যে এই লক্ষণ দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা ১ গুণ কম।

জাতঃ শ্বেতাঙ্গ ও কৃষ্ণাঙ্গদের মধ্যে এই লক্ষণ দেখা দেওয়ার গড়পড়তা সম্ভাবনা থাকে। হিস্প্যানিক ও অন্যান্য জাতির মানুষের মধ্যে এই লক্ষণ দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা ১ গুণ কম। 

সাধারণ জিজ্ঞাসা

উত্তরঃ নিম্ন রক্তচাপের সাথে সাইকোসিস ও বিষণ্নতার সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই। তবে কিছু কিছু ব্যক্তির ক্ষেত্রে নিম্ন রক্তচাপের জন্য কর্টিসলের (cortisol) মাত্রা কমে যাওয়ার ফলে বিষণ্নতা দেখা দিতে পারে।।

উত্তরঃ তীব্র বিষণ্নতার ক্ষেত্রে বিষণ্নতার চিকিৎসা করা হলেই সাইকোসিস সেরে যায়।

হেলথ টিপস্‌

  নিম্নলিখিত বিষয়গুলি আপনাকে মানসিক চাপ কমাতে ও বিষণ্নতাজনিত সমস্যা প্রতিরোধ করতে সাহায্য করবে:

  • আপনার নেতিবাচক চিন্তাগুলিকে চিহ্নিত করুন এবং সেগুলিকে ইতিবাচক চিন্তায় রূপান্তর করুন।
  • বিষণ্নতাজনিত সমস্যাগুলিকে পর্যবেক্ষণ করুন এবং এ ব্যাপারে চিকিৎসকের মতামত নিন।
  • নিয়মিত ব্যায়াম করুন। ব্যায়ামের ফলে মস্তিষ্কে সেরোটোনিন নামক এক ধরনের রাসায়নিক পদার্থের নিঃসরণ ত্বরান্বিত হয়। সেরোটোনিনের নিঃসরণ মানসিক অবস্থা ভালো করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখে।
  • ব্যায়ামের মাধ্যমে শরীর শিথিল করা শিখুন।
  • যোগব্যায়াম মানসিক ও শারীরিক চাপ কমাতে সাহায্য করে। এছাড়া মাসাজের মাধ্যমে দুশ্চিন্তা ও উদ্বিগ্নতা কমানো যেতে পারে।
  • পরিবারের সদস্য ও বন্ধুদের সাথে আপনার অনুভূতি ও সমস্যাগুলি নিয়ে আলোচনা করুন। এর ফলে আপনার একাকিত্ব দূর হবে।
  • ধূমপান, অ্যালকোহল এবং অন্যান্য নেশাজাতীয় দ্রব্য পরিহার করুন। নেশাজাতীয় দ্রব্য গ্রহণের ফলে আপনি সাময়িকভা্বে স্বস্তি পেতে পারেন, কিন্তু ভবিষ্যতে এই কারণে আপনার সমস্যা বৃদ্ধি পাবে।