ডিলিওশন অথবা হ্যালুসিনেশন (Delusions or Hallucinations)

শেয়ার করুন

বর্ণনা

ডিলিউশন অথবা হ্যালুসিনেশন হল মানব মনে সৃষ্ট এক ধরনের কৃত্রিম অনুভূতি, যা বাস্তব বলে মনে হয়। হ্যালুসিনেশন আমাদের ৫টি ইন্দ্রিয়কেই প্রভাবিত করতে পারে। যেমন- এর কারণে আপনি এমন কোনো অবাস্তব শব্দ শুনতে পারেন বা দৃশ্য দেখতে পারেন, যা অন্য কেউ শুনতে বা দেখতে পায় না। মানসিক রোগ, ঔষধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া, মৃগী ও মাদকাসক্তির মতো সমস্যার কারণে এই লক্ষণ দেখা দিতে পারে। হ্যালুসিনেশনের চিকিৎসার জন্য এর কারণের উপর ভিত্তি করে মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ, স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ বা সাধারণ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।.

কারণ

বিভিন্ন কারণে এই লক্ষণ দেখা যেতে পারে, যেমন:

অতিরিক্ত মদ্যপান (Alcohol abuse) অ্যালঝেইমার ডিজিজ (Alzheimer's disease)
বিষণ্নতা (Depression) ডায়াবেটিস জনিত কিডনির রোগ (Diabetic kidney disease)
ঔষধের অপব্যবহার (Drug abuse) সিজোফ্রেনিয়া (Schizophrenia)
ব্যক্তিত্বের ব্যাধি (Personality disorder) পোস্ট ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিজঅর্ডার (Post-traumatic stress disorder)
বাইপোলার ডিজঅর্ডার (Bipolar disorder) প্লাসেন্টা প্রিভিয়া (Placenta previa)
মারিজুয়ানা অ্যাবিউজ (Marijuana abuse) নিউরোসিস (Neurosis)
কনডাক্ট ডিজঅর্ডার (Conduct disorder) ডেভলপমেন্টাল ডিজঅ্যাবিলিটি (Developmental disability)
ডিসোশিয়েটিভ ডিজঅর্ডার (Dissociative disorder) প্রাইমারী ইনসমনিয়া (Primary insomnia)
ফোলেট ডেফিসিয়েন্সি (Folate deficiency) নারকোলেপসি (Narcolepsy)
হাইপারক্যালসেমিয়া (Hypercalcemia) অ্যালকোহল ইনটক্সিকেশন (Alcohol intoxication)
প্যাজেট ডিজিজ (Paget disease) সাবডুরাল হেমারেজ (Subdural hemorrhage)
অ্যাস্পারজারস সিন্ড্রোম (Asperger's syndrome) টরেট সিন্ড্রোম (Tourette syndrome)
ভারনিকে করসেকফ সিন্ড্রোম (Wernicke Korsakoff syndrome) ফ্র্যাকচার অফ দি পেলভিস (Fracture of the pelvis)
থায়রয়েড ক্যান্সার (Thyroid cancer) কঞ্জেনিটাল ম্যালফরমেশন সিন্ড্রোম (Congenital malformation syndrome)
হাইপারকেলেমিয়া (Hyperkalemia)

সংশ্লিষ্ট লক্ষণসমূহ

এই লক্ষণের সাথে অন্যান্য যে সকল লক্ষণ দেখা যেতে পারে সেগুলো হলো:

ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়

হ্যালুসিনেশনের সঠিক কারণ সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি, তবে  নিম্নলিখিত বিষয়গুলি এর ঝুঁকি বৃদ্ধি করে।.

  • পরিবারে/বংশে সিজোফ্রেনিয়া আক্রান্ত ব্যক্তি থাকা।
  • গর্ভে থাকার সময় শিশুদের ভাইরাস ও বিষাক্ত দ্রব্যের সংস্পর্শে আসা বা অপুষ্টিতে ভোগা। (বিশেষত গর্ভধারণের প্রথম ২৭ সপ্তাহের মধ্যে)
  • ইনফ্লামেশন বা অটোইমিউন ডিজিজের কারণে ইমিউন সিস্টেম অতিরিক্ত সক্রিয় হয়ে যাওয়া।
  • পিতা ও সন্তানের বয়সের পার্থক্য বেশি হওয়া।
  • কৈশোরে বা যৌবনে এমন নেশা জাতীয় দ্রব্য সেবন করা যেগুলির কারণে মানসিক অবস্থার পরিবর্তন ঘটে।

 

যারা ঝুঁকির মধ্যে আছে

লিঙ্গঃ পুরুষদের মধ্যে এই লক্ষণ দেখা দেওয়ার গড়পড়তা সম্ভাবনা থাকে। নারীদের মধ্যে এই লক্ষণ দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা ১ গুণ কম।

জাতঃ শ্বেতাঙ্গ ও হিসপ্যানিকদের মধ্যে এই লক্ষণ দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা ১ গুণ কম। কৃষ্ণাঙ্গ ও অন্যান্য জাতির মানুষের মধ্যে মধ্যে এই লক্ষণ দেখা দেওয়ার গড়পড়তা সম্ভাবনা থাকে।

হেলথ টিপস্‌

হ্যালুসিনেশন প্রতিরোধ করার কোনো সুনিশ্চিত উপায় নেই। তবে প্রাথমিক অবস্থায় চিকিৎসা করা হলে এটি নিয়ন্ত্রণে রাখা যায় এবং দীর্ঘ সময়ের জন্য সুস্থ থাকা যায়। গবেষকরা আশা করেন যে, সিজোফ্রেনিয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধিকারী বিষয়গুলি সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা হ্যালুসিনেশনের দ্রুত পরীক্ষা ও চিকিৎসার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখবে।.