উদ্বেগ বা দুশ্চিন্তা (Anxiety and nervousness)

শেয়ার করুন

বর্ণনা

উদ্বেগ ও দুশ্চিন্তা মানুষের দৈনন্দিন জীবনের একটি অংশ। তবে উদ্বেগ ও দুশ্চিন্তা প্রকট আকার ধারণ করলে একজন ব্যক্তি যে কোনো ব্যপারেই দুশ্চিন্তা ও ভীতির সম্মুখীন হয় যা কয়েক মিনিটের মধ্যেই মারাত্মক আকার ধারণ করে এবং আতংকের সৃষ্টি করে। এই উদ্বেগ ও আতঙ্ক ব্যক্তির পক্ষে নিয়ন্ত্রণ করা খুব কঠিন। এটি দীর্ঘক্ষণ স্থায়ী হয় ও প্রাত্যহিক জীবনে বিভিন্ন সমস্যার সৃষ্টি করে। এর লক্ষণগুলো শৈশব বা কৈশোরেই দেখা দেয় ও সময়ের সাথে সাথে তা আরো বৃদ্ধি পেতে থাকে। এর ফলে বিভিন্ন ধরনের anxiety disorder (অ্যাংজাইটি ডিজঅর্ডার) দেখা যায়, যেমন- social anxiety disorder (সোস্যাল অ্যাংজাইটি ডিজঅর্ডার), separation anxiety disorder (সেপারেশন অ্যাংজাইটি ডিসঅর্ডার) ও ফোবিয়া। একজন ব্যক্তির একই সাথে একাধিক অ্যাঞ্জাইটি ডিজঅর্ডার দেখা দিতে পারে। এই লক্ষণের সাথে অন্যান্য যে সকল লক্ষণ দেখা দেয় সেগুলো হলো - অতিরিক্ত ঘাম হওয়া, খিটখিটে মেজাজ, বমি বমি ভাব, শ্বাসকষ্ট ও ঘুমানোর সময় অসুবিধা হওয়া।

কারণ

বিভিন্ন কারণে এই লক্ষণ দেখা যেতে পারে, যেমন:

অতিরিক্ত মদ্যপান (Alcohol abuse) দুশ্চিন্তা/উদ্বেগ (Anxiety)
বিষণ্নতা (Depression) ঔষধের অপব্যবহার (Drug abuse)
অস্বাভাবিক খাদ্যাভ্যাস (Eating disorder) সিজোফ্রেনিয়া (Schizophrenia)
আতঙ্কগ্রস্ততা (Panic attack) ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম (Irritable bowel syndrome)
ব্যক্তিত্বের ব্যাধি (Personality disorder) পোস্ট ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিজঅর্ডার (Post-traumatic stress disorder)
বাইপোলার ডিজঅর্ডার (Bipolar disorder) ট্রাইকাসপিড ভাল্ভ ডিজিজ (Tricuspid valve disease)
অ্যাড্রেনাল অ্যাডেনোমা (Adrenal adenoma) কনভারশন ডিজঅর্ডার (Conversion disorder)
হান্টিংটন ডিজিজ (Huntington disease) মারিজুয়ানা অ্যাবিউজ (Marijuana abuse)
নিউরোসিস (Neurosis) ডিসোশিয়েটিভ ডিজঅর্ডার (Dissociative disorder)
ডিজথাইমিক ডিজঅর্ডার (Dysthymic disorder) প্রাইমারী ইনসমনিয়া (Primary insomnia)
টেস্টিকুলার ক্যান্সার (Testicular cancer) অ্যালকোহল ইনটক্সিকেশন (Alcohol intoxication)
অ্যামাইলয়ডোসিস (Amyloidosis) সোমাটাইজেশন ডিজঅর্ডার (Somatization disorder)
স্পাইনোসেরিবেলার অ্যাটাক্সিয়া (Spinocerebellar ataxia) প্যারাথাইরয়েড অ্যাডেনোমা (Parathyroid adenoma)
অ্যাস্পারজারস সিন্ড্রোম (Asperger's syndrome) ভারনিকে করসেকফ সিন্ড্রোম (Wernicke Korsakoff syndrome)
অ্যাটেনশন ডেফিসিট হাইপারঅ্যাক্টিভিটি ডিজঅর্ডার (এ-ডি-এইচ-ডি) (Attention deficit hyperactivity disorder (ADHD)) অ্যাকিউট স্ট্রেস রিঅ্যাকশন/ডিজঅর্ডার (Acute stress reaction/disorder)
ব্যাসেট ডিজিজ (Behcet disease) হাইপারট্রোফিক অবস্ট্রাক্টিভ কার্ডিওমায়োপ্যাথি (এইচ-ও-সি-এম) (Hypertrophic obstructive cardiomyopathy (HOCM))

সংশ্লিষ্ট লক্ষণসমূহ

এই লক্ষণের সাথে অন্যান্য যে সকল লক্ষণ দেখা যেতে পারে সেগুলো হলো:

ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়

উদ্বেগ ও দুশ্চিন্তার ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়গুলো নিচে আলোচনা করা হলো:

  • মহিলাদের তুলনায় পুরুষদের ক্ষেত্রে এ লক্ষণ দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
  • শৈশবে কোনো আঘাত, নির্যাতন বা হয়রানির শিকার হলে পরবর্তীতে এ লক্ষণ দেখা দিতে পারে। আবার কোনো ব্যক্তি পূর্ণবয়স্ক অবস্থায়ও কোনো আঘাত বা নির্যাতনের শিকার হলে তার মধ্যে উদ্বেগ ও দুশ্চিন্তা দেখা দিতে পারে।
  • শারীরিক অসুস্থতার কারণেও এ লক্ষণ দেখা দিতে পারে।
  • ব্যক্তিত্বে নির্দিষ্ট কোনো বৈশিষ্ট্যের উপস্থিতিতেও এ লক্ষণ দেখা দেওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি পেতে পারে।
  • অন্য কোনো মানসিক অসুস্থতা থাকলেও (যেমনঃ বিষন্নতা) এ লক্ষণ দেখা দিতে পারে।
  • পরিবারের অন্য কারো উদ্বেগজনিত সমস্যা থাকলে এ লক্ষণ দেখা দিতে পারে।
  • অ্যালকোহল ও মাদক সেবনের কারণেও এ লক্ষণ দেখা দেওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে।

যারা ঝুঁকির মধ্যে আছে

লিঙ্গ: পুরুষদের মধ্যে এই লক্ষণ দেখা দেওয়ার গড়পড়তা সম্ভাবনা রয়েছে। মহিলাদের মধ্যে এই লক্ষণ দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা একগুণ কম।

জাতি: শ্বেতাঙ্গদের মধ্যে এই লক্ষণ দেখা দেওয়ার গড়পড়তা সম্ভাবনা রয়েছে।  কৃষ্ণাঙ্গ, হিস্প্যানিক ও অন্যান্য জাতির মধ্যে এই লক্ষণ দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা ১ গুণ কম।

সাধারণ জিজ্ঞাসা

উত্তরঃ প্রতিদিন সাড়ে সাত থেকে আট ঘন্টা ঘুমাতে হবে। নিয়মিত ব্যায়াম ও পরিশ্রম করতে হবে। স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে হবে। ফাস্ট ফুড, ক্যাফেইন ও অ্যালকোহল গ্রহণ কমাতে হবে। 

উত্তরঃ কলাতে অ্যামাইনো এসিড (GABA) থাকে যা দুশ্চিন্তা কমাতে সাহায্য করে। এই উপাদান কাঠবাদাম ও গমেও পাওয়া যায়। 

হেলথ টিপস্‌

উদ্বেগ ও দুশিন্তা নিয়ন্ত্রণের জন্য বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আক্রান্ত ব্যক্তিকে ঔষধ ও সাইকোথেরাপি দেওয়া হয়। এছাড়াও দৈনন্দিন বিভিন্ন অভ্যাসের পরিবর্তনের সাহায্যেও উদ্বেগ ও দুশ্চিন্তা নিয়ন্ত্রণ করা যায়, যেমন:

  • কর্মবিমুখতা পরিহার করতে হবে। নিয়মিত ব্যায়াম ও পরীশ্রম করতে হবে। নিয়মিত ব্যায়াম বা পরীশ্রমের সাহায্যে খুব সহজে মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তা কমানো যায়।
  • অ্যালকোহল ও অন্যান্য নেশাজাতীয় দ্রব্যের ব্যবহার পরিহার করতে হবে।
  • ধূমপান ও কফি পান ত্যাগ করতে হবে।
  • মেডিটেশন ও যোগব্যায়াম দুশ্চিন্তা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
  • প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমাতে হবে।
  • প্রতিদিন পুষ্টিকর ও স্বাস্থ্যকর খাবার যেমনঃ ফলমূল, শাকসবজি ও শস্যজাতীয় খাবার।