অতিরিক্ত মদ্যপান (Abusing alcohol)

শেয়ার করুন

বর্ণনা

অতিরিক্ত মদ্যপান এক ধরনের মানসিক সমস্যা, যার কারণে একজন ব্যক্তি অতিরিক্ত মদ্যপানের  নেতিবাচক প্রভাব সত্ত্বেও তা থেকে বিরত থাকতে পারেন না। অতিরিক্ত মদ্যপানকে অ্যালকোহলিজমও (alcoholism) বলা হয়। মদ্যপায়ীরা সাধারণত  দুই ধরনের হয় - ১.অসামাজিক স্বভাবের কিছু ব্যক্তি প্রমোদ/বিনোদন হিসেবে মদ্যপান করে। ২.কিছু ব্যক্তি মানসিক উদ্বিগ্নতা দূর করতে মদ্যপান করে। এ  ধরনের ব্যক্তিরা দীর্ঘ সময় ধরে  মদ্যপান থেকে বিরত থাকতে পারে, কিন্তু একবার মদ্যপান শুরু করলে সহজে বন্ধ করতে পারে না। দিনে দুই বার মাত্রাতিরিক্ত পরিমাণে মদ্যপান করাকে সাধারণত অতিরিক্ত মদ্যপান হিসেবে গণ্য করা হয়।

সংশ্লিষ্ট লক্ষণসমূহ

এই লক্ষণের সাথে অন্যান্য যে সকল লক্ষণ দেখা যেতে পারে সেগুলো হলোঃ

ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়

নিম্নলিখিত বিষয়গুলির উপর অতিরিক্ত মদ্যপানের ঝুঁকি নির্ভর করে:

  • বয়স ও ওজন
  • শারীরিক অবস্থা
  • সম্প্রতি আপনি মদ্যপান করেছেন কীনা।
  • অ্যালকোহলের সাথে অন্য কোনো নেশাসৃষ্টিকারী দ্রব্য গ্রহণ করা হয়েছে কীনা।
  • মদে বিদ্যমান অ্যালকোহলের পরিমাণ।
  • অ্যালকোহল গ্রহণের পরিমাণ ও হার।
  • অ্যালকোহল গ্রহণ করার সহ্যক্ষমতা।

যারা ঝুঁকির মধ্যে আছে

লিঙ্গ: পুরুষদের মধ্যে এই লক্ষণ দেখা দেওয়ার গড়পরতা সম্ভাবনা থাকে । নারীদের মধ্যে এই লক্ষণ দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা ১ গুণ কম।

জাত: শ্বেতাঙ্গ, কৃষ্ণাঙ্গ এবং হিস্প্যানিকদের মধ্যে এই লক্ষণ দেখা দেওয়ার গড়পরতা সম্ভাবনা থাকে। অন্যান্য জাতির মানুষের মধ্যে এই লক্ষণ দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা ১ গুণ কম।

সাধারণ জিজ্ঞাসা

উত্তর: গবেষণায় দেখা গেছে যে, মদ্যপানের একটি জিনগত কারণ আছে। যেসব পরিবারের ব্যক্তিরা মদ্যপান করে সেসব পরিবারে বেড়ে ওঠা শিশুদের পরবর্তীতে  মদ্যপায়ী হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, কারণ শিশুরা বড়দের বিভিন্ন আচরণ অনুকরণ করার চেষ্টা করে। মদ্যপান করা কখনোই শিশুদের জন্য ভালো উদাহরণ হতে পারে না।

উত্তর: অতিরিক্ত মদ্যপানের কারণে লিভার, স্নায়ুতন্ত্র, হৃৎপিণ্ড এবং পরিপাকতন্ত্রের বিশেষ করে লিভারের স্বাভাবিক ক্রিয়শীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

উত্তর: হ্যাঁ, পারে। অতিরিক্ত মদ্যপানের কারণে লিভার ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে সিরোসিসের জন্য লিভার ফেইলিয়র হলে মদ্যপায়ী ব্যক্তির মৃত্যু হতে পারে।

হেলথ টিপস্‌

নিম্নলিখিত বিষয়গুলি অনুসুরণ করে অতিরিক্ত মদ্যপান রোধ করা যেতে পারে:

  • কথা বলা: মদ্যপায়ী ব্যক্তিদের সাথে অতিরিক্ত মদ্যপানের ঝুঁকি নিয়ে কথা বলে তাদের মদ্যপানে নিরুৎসাহী করা যেতে পারে।
  • মদ্যপায়ীদের কথা শোনা: মদ্যপায়ীদের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনতে হবে। তারা মদ্যপান ত্যাগ করতে চাইলে সে ব্যাপারে তাদের সাহায্য করতে হবে।
  • উদাহরণ সৃষ্টি: আপনি মদ্যপান থেকে বিরত থেকে থাকলে আপনার সন্তানদের মদ্যপানে আসক্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে।
  • সম্পর্ক স্থাপন: সন্তানের সাথে আপনার সুসম্পর্ক বজায় রাখা প্রয়োজন। বাবা-মায়ের সাথে সম্পর্কের অবণতির কারণে অনেকে মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে।