প্রতিরোধ, লক্ষণ, শারীরিক সমস্যা

হেপাটাইটিস নিয়ে আমরা কতটুকু সচেতন?

আজ বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস। এই দিবসের মূল উদ্দ্যেশ্য জনগণকে এই রোগ সম্পর্কে সচেতন করা, এটি প্রতিরোধ ও চিকিৎসা বিষয়ে সকলকে উদ্বুদ্ধ করা। হেপাটাইটিস প্রতিরোধে আমাদের সকলের এই সম্পর্কে বিস্তারিত জ্ঞান থাকা একান্ত প্রয়োজন।

হেপাটাইটিস হল এক প্রকার ভাইরাস। এটি আবিষ্কৃত হয় ১৯৮৯ সালে। হেপাটাইটিসের কারণে আমাদের যকৃতে প্রদাহের সৃষ্টি হয়।

এই ভাইরাস পাঁচ প্রকারের। এগুলো হলঃ হেপাটাইটিস এ ভাইরাস (এইচএভি), হেপাটাইটিস বি ভাইরাস (এইচবিভি), হেপাটাইটিস সি ভাইরাস (এইচসিভি), হেপাটাইটিস ডি ভাইরাস (এইচডিভি) এবং হেপাটাইটিস ই ভাইরাস (এইচইভি)।

হেপাটাইটিস এ এবং ই হলো স্বল্প মেয়াদী  এবং পানিবাহিত রোগ। হেপাটাইটিস বি ও সি হচ্ছে দীর্ঘস্থায়ী ও রক্তবাহিত রোগ।

হেপাটাইটিসের লক্ষণ সমূহ হলঃ জন্ডিস, ক্ষুধামন্দা, দুর্বলতা, লিভারে ব্যথা হওয়া, জ্বর, সমস্ত শরীরে ব্যথা হওয়া, বমি বমি ভাব।

আসুন এবার আমরা বিভিন্ন প্রকারের হেপাটাইটিস সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জেনে নেই।

সাধারণত দূষিত খাদ্য ও পানির মাধ্যমে হেপাটাইটিস এ ভাইরাস ছড়ায়। এটি সবচেয়ে পরিচিতি হেপাটাইটিস রোগ। বমিভাব, বমি হওয়া, ত্বক হলুদ হয়ে যাওয়া, জ্বর, পেটে ব্যথা ইত্যাদি এই রোগের লক্ষণ।

সাধারণত বি ভাইরাস সংক্রমিত রক্ত, ইঞ্জেকশনের সুচ, সার্জারির সময় অপরিষ্কার যন্ত্রপাতি বা বীর্যের মাধ্যমেও এই ভাইরাস অন্য ব্যক্তির শরীরে প্রবেশ করে। এই সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তির অধিকাংশ সময়ে বমি বমি ভাব, চামড়া হলুদ হওয়া, ক্লান্তি, পেটে ব্যথা, প্রস্রাব হলুদ হওয়া ইত্যাদি লক্ষণ দেখা দেয়।

হেপাটাইটিস সি সংক্রমিত রক্তের মাধ্যমে, ইঞ্জেকশনের সুঁচ এবং সিরিঞ্জের মাধ্যমে এ রোগ ছড়ায়। দুর্বলতা, ওজন কমে যাওয়া, জন্ডিস, লিভারে ব্যাথা হওয়া, শরীরে ব্যথা হওয়া, বমিভাব কিংবা ক্ষুধামন্দা হেপাটাইটিস সি এর উপসর্গ।

হেপাটাইটিস ই ভাইরাস হেপাটাইটিস রোগ সৃষ্টি করে। দূষিত পানি বা খাবার থেকে এটি ছড়ায়।

হেপাটিইটিস প্রতিরোধে কিছু কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহন করা যেতে পারে।

  • এই রোগ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়াতে হবে।
  • এইচএভি এবং এইচবিভি সংক্রমণ প্রতিরোধে টিকা দিতে হবে।
  • রক্তদাতার কাছ থেকে রক্ত গ্রহনের আগে অবশ্যই রক্ত পরীক্ষা করতে হবে।
  • প্রতিবার ইনজেকশনে নতুন সিরিঞ্জ ব্যবহার করতে হবে।
  • নিরাপদ যৌন সম্পর্ক নিশ্চিত করতে হবে।
  • ইনজেকশনের মাধ্যমে মাদক গ্রহন বন্ধ করতে হবে।
  • বিশুদ্ধ পানি, স্বাস্থ্যসম্মত খাবার, স্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাস ইত্যাদি নিশ্চিত করতে হবে।
  • ধূমপান, মদ্যপান সম্পূর্ণরূপে পরিহার করতে হবে।

পত্রিকা, টেলিভিশন সহ বিভিন্ন গনমাধ্যমে ব্যাপক প্রচার ও নানা সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান আয়োজন করে জনসাধারণকে সচেতন করতে হবে এর প্রভাব সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে হবে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, হেপাটাইটিস প্রতিকারে অনেকে বিভিন্ন ধরনের অপচিকিৎসা যেমন, ঝাড়ফূঁক, পানি পড়া, ডাব পড়া, মালা পড়া, কবিরাজি চিকিৎসা নিয়ে থাকেন। এটা মোটেও ঠিক নয়। এই সমস্যা প্রতিকারে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

Previous Post Next Post

You Might Also Like

Comments are closed.