হৃদরোগের কারণ ও প্রতিকার
Medicine

হৃদরোগের কারণ ও প্রতিকার

বর্তমানে হৃদরোগ অতি আলোচিত একটি শারীরিক সমস্যা। অথচ আমরা অনেকেই এই শারীরিক সমস্যাটি সম্পর্কে সচেতন নই। হার্ট অ্যাটাক হলেই বুঝতে পারি আমরা হৃদরোগে আক্রান্ত। সাধারনত হার্ট অ্যাটাক বলতে বোঝায় হার্ট ঠিক মত কাজ না করা। এই সমস্যাটির কিছু পরিচিত লক্ষণ আছে যেমনঃ বুকে ব্যথা হওয়া, বুকে চাপ লাগা, অস্থিরতা বোধ করা, হঠাৎ জ্ঞান হারিয়ে ফেলা। কিছু নিয়ম অনুসরণ করলে খুব সহজেই এই মারাত্মক সমস্যাটি এড়িয়ে চলা সম্ভব।

শুধুমাত্র খাওয়া দাওয়া বা ওজন নয়, হৃদরোগ হতে পারে আরো অনেক কারণেই।
আসুন জেনে নেই হৃদরোগের জন্য দায়ী কারণ সমূহ।

অতিরিক্ত শব্দঃ অতিরিক্ত শব্দের কারণে হৃদপিন্ডের উপর চাপ পড়ে। ফলে বেড়ে যায় হৃদরোগের ঝুঁকি

মাত্রাতিক্ত ঘুমঃ আমরা অনেকেই সারা সপ্তাহ কাজ করে ছুটির দিনে বেশিক্ষণ ঘুমাই। অথচ এই ধরনের অভ্যাস শরীরের জন্য খুবই ক্ষতিকর। এই কারণে হতে পারে হৃদরোগ।

ব্লাড গ্রুপঃ এক জরিপে দেখা গেছে, ‘এ’, ‘বি’ এবং ‘এবি’ ব্লাড গ্রুপের ব্যক্তিদের হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তাই এই সমস্ত গ্রুপের ব্যক্তিদের হৃদরোগ সম্পর্কে আগে থেকে সচেতন থাকা উচিত।

স্তন্যপান করানো থেকে বিরত থাকাঃ বর্তমানে মায়েরা মনে করেন জন্মের পরে শিশুকে স্তন পান করানোর কোনো দরকার নেই। অথচ এই ধরনাটি সম্পূর্ন ভুল। এই ভ্রান্ত ধারনার কারণে অনেক মহিলা হৃদরোগে আক্রান্ত হন।

মানসিক চাপঃ দৈনন্দিন জীবনে নানা কারণে আমরা মানসিক চাপে থাকি। এটি হৃদরোগের অন্যতম কারণ।

তেল বা চর্বিযুক্ত খাবারঃ অতিরিক্ত তৈলাক্ত খাবার আমাদের শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এই সমস্ত খাবার শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রাকে বাড়িয়ে দেয়। ফলে হৃদরোগ হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

তাই আসুন আমরা হৃদরোগ প্রতিকারে আমাদের করণীয় বিষয় সমূহ জেনে নেই।

উচ্চরক্তচাপ নিয়ন্ত্রণঃ হৃদরোগের অন্যতম কারণ উচ্চরক্তচাপ। জীবনযাত্রায় পরিবর্তন এনে উচ্চরক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। এর ফলে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমে যাবে।

ধূমপান পরিহারঃ হৃদপিন্ডের অন্যতম প্রধান শত্রু ধূমপান। হৃদরোগ প্রতিকারে অবশ্যই ধূমপান পরিহার করুন। ধূমপায়ীর সংস্পর্শ থেকে দূরে থাকুন।

অতিরিক্ত ওজনঃ নিয়মিত ব্যয়াম ও শারীরিক পরিশ্রম না করার কারণে শরীরের ওজন বেড়ে যায়। অধিক ওজন হৃদরোগের অন্যতম কারণ। তাই এই শারীরিক সমস্যা প্রতিকারে নিয়মিত ব্যয়াম করুন এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন।

খাবারে অতিরিক্ত লবন পরিহারঃ আমরা অনেকেই হয়তবা জানি না খাবারে অতি মাত্রায় লবনের ব্যবহার আমাদের হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই আসুন আমরা আজই খাবারে কম লবন খাওয়ার অভ্যাস করি।

চর্বিযুক্ত খাবার বর্জনঃ হৃদপিন্ডকে সুস্থ ও কার্যক্ষম রাখতে চর্বিযুক্ত খাবার পরিহার অপরিহার্য।

মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণঃ অতিরিক্ত রাগ, ভীতি এবং মানসিক চাপের কারণেও দেখা দিতে পারে হৃদরোগ। নিয়মিত বিশ্রাম, সময় মতো ঘুমানো ইত্যাদির মাধ্যমে মানসিক চাপ থেকে নিজেকে মুক্ত রাখা সম্ভব।

সুন্দর জীবনের জন্য সুস্থতা প্রয়োজন। সুস্থতার জন্য সুস্থ হার্টের বিকল্প নেই। তাই আমরা যদি কিছু নিয়ম মেনে চলি তাহলে হৃদরোগ থেকে অনেকাংশে মুক্তি পেতে পারি।

Previous Post Next Post

You Might Also Like

Leave a Reply