Gynaecology & Obstetrics, কারণ ও প্রতিকার, প্রতিরোধ, শারীরিক সমস্যা

সিস্ট কি, কেন হয়?

পিরিয়ড অনিয়মিত হলে আমরা খুব চিন্তায় পড়ে যাই। মনে নানা ধরনের প্রশ্নের উদয় হয়। অনেকে মনে করেন আমার বড় ধরনের কোনো সমস্যা হয় নি তো? আসলে পিরিয়ড অনিয়মিত হওয়ার বেশ কিছু কারণ রয়েছে। ওভারিয়ান সিস্ট এই সমস্যার অন্যতম কারণ।

আসুন আমরা জেনে নেই সিস্ট আসলে কি?

সিস্ট হতে পারে নানা আকারের। এগুলোর ভিতরে রক্ত এবং পানির মত তরল পদার্থ থাকে। সিস্ট অধিকাংশ ক্ষেত্রে এমনিতেই ঠিক হয়ে যায়। তবে এটি চার সেন্টমিটারের বেশি বড় হলে অপারেশন করানোই ভালো।

সিস্টের নির্দিষ্ট কোনো কারণ নেই। তবে ধারনা করা হয় বিশেষ কিছু কারণে সিস্ট হয়ে থাকে।

  • অধিক ওজনের মহিলাদের সিস্ট হওয়ার প্রবণতা বেশি থাকে।
  • বন্ধ্যত্ব রোগের চিকিৎসায় যে সমস্ত ঔষধ ব্যবহার করা হয় তার জন্যও দেখা দিতে পারে সিস্ট।
  • সিস্ট হরমোন জনিত কারণেও হতে পারে।
  • বংশে কারো থাকলে আপনারও এই সমস্যা দেখা দিতে পারে।
  • ওভারি ক্যান্সার, ব্রেস্ট ক্যান্সার, খাদ্যলানীর ক্যান্সার যাদের আছে তাদের এই সমস্যাটি হতে পারে।

কোনো মহিলার ওভারিয়ান সিস্ট হলে কিছু লক্ষণ দেখা যায়।

  • খাওয়ার অরুচি হয়।
  • ওজন বেড়ে যেতে পারে।
  • বমি বমি ভাব হতে পারে।
  • পায়খানা কষা হয়।
  • পেট দ্রুত বড় হয়ে যায়।

কিছু নিয়ম মেনে আমরা খুব সহজেই সিস্ট প্রতিরোধ করতে পারি।

  • পরিমাণমত এবং সুষম খাবার খেলে সিস্ট প্রতিরোধ করা সম্ভব।
  • এই সমস্যা প্রতিরোধের অন্যতম উপায় মানসিক চাপ মুক্ত থাকা।
  • হরমোনের স্বাভাবিকতা বজায় রেখেও সিস্ট প্রতিরোধ করা সম্ভব।
  • সুসৃংখল জীবনযাপন এই সমস্যা প্রতিরোধে সহায়ক।

আজকাল মেয়েদের অনেকেরই ডিম্বাশয়ে এক ধরনের সিস্ট হয় যেটা চকলেট সিস্ট নামে পরিচিত। কম বয়সী বিবাহিত মেয়েদের বিয়ের পরে বাচ্চা ধারণ করলে এমনিতেই এটি সেরে যায়। তবে সিস্ট মারাত্মক আকার ধারন করলে চিকিৎসকেরা ঔষধের মাধ্যমে এই রোগের চিকিৎসা করেন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে অপারেশন করে সিস্ট নিরাময় করা হয়।

ওভারিয়ান সিস্ট হলে আতংকিত হওয়ার কিছু নাই। সচেতনতা এবং সময়ানুযায়ী চিকিৎসায় সিস্ট ভালো হয়। তাই আসুন নিজে সিস্ট সম্পর্কে জানি এবং অন্যকেও জানাই।

Previous Post

You Might Also Like

Comments are closed.