neurology, কারণ ও প্রতিকার, লক্ষণ, শারীরিক সমস্যা

সঠিক চিকিৎসা পেলে মৃগী রোগী ভালো থাকে

আপনার চোখের সামনে হঠাৎ করেই কারো খিঁচুনি শুরু হল, হাত- পা শক্ত হয়ে গেল, মুখ দিয়ে ফেনা বের হতে শুরু করলো। আপনি ভয় পেয়ে গেলেন। ভাবলেন লোকটার মনে হয় জীন ভুতের আছড় আছে বা খারাপ বাতাস লেগেছে। হ্যাঁ, এইরকম পরিস্থিতিতে পড়লে আমাদের মনে প্রথমেই এমন সব ভ্রান্ত ধারনা এসে ভীড় জমায়। কিন্তু এই লক্ষণ গুলো দেখা দিতে পারে অতি পরিচিত একটি রোগের কারণে। জানেন কি?

এপিলেপসি বা মৃগী রোগ হচ্ছে মস্তিষ্কের রোগ। এটি যেকোনো বয়সের মানুষের হতে পারে। অনেকের ধারনা এই রোগ নিরাময় করা সম্ভব নয়। আসলে সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসা পেলে এই সমস্যা থেকে সম্পূর্ণভাবে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

মৃগী রোগ প্রতিরোধ করার জন্য প্রথমেই প্রয়োজন এই রোগের কারণ গুলো জানা। আসুন এর সম্ভাব্য কারণ সমূহ জেনে নেই।

  • বাচ্চার জন্মের সময় যদি বাচ্চা মাথায় আঘাত পায় এবং এই কারণে মাথায় অক্সিজেন পেতে দেরি হ্য় তাহলে মৃগী রোগ হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।
  • জন্মের সময় বাচ্চার ওজন স্বাভাবিকের তুলনায় কম হলে এই সমস্যা দেখা দিতে পারে।
  • নির্দিষ্ট সময়ের আগেই জন্ম নেওয়া বাচ্চার মৃগী রোগ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
  • মাথায় আঘাত পেলে এই সমস্যা দেখা দিতে পারে।
  • মস্তিষ্কে টিউমার হলে মৃগী রোগ হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।
  • কারো বার বার স্ট্রোক হলে এই সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।
  • অতিমাত্রায় মদ্যপানের কারণেও মৃগী রোগ হতে পারে।

কোন কোন লক্ষণ দেখা দিলে তাকে আমরা এপিলেপসি বা মৃগী রোগ বলব এটা হয়তোবা আমাদের অনেকেরই অজানা। তাই এই রোগের লক্ষণ গুলো জানা একান্ত জরুরী।

  • রোগী হঠাৎ করেই অজ্ঞান হয়ে যেতে পারে। এই অবস্থা ১০ থেকে ১৫ মিনিটের মত স্থায়ী হতে পারে।
  • রোগীর অল্প বা দীর্ঘ সময়ের জন্য খিঁচুনি হবে।
  • জিহ্বা ও দাঁতে কামড় লাগতে পারে।
  • আক্রান্ত ব্যক্তি খিঁচুনির পরে মাথা ব্যথা সহ দূর্বলতা অনুভব করবে।
  • কান্নার মত চিৎকার করবে।
  • রোগী খিঁচুনির পরে শুয়ে থাকবে এবং কিছু সময় চুপচুপ থাকবে।

মৃগী রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিকে তাৎক্ষণিক ভাবে কি চিকিৎসা দেওয়া উচিত সে সম্পর্কে আমাদের সকলের সঠিক জ্ঞান থাকা প্রয়োজন।

  • রোগীর খিঁচুনি বন্ধ করার জন্য তাকে জোর করে চেপে ধরা উচিত নয়। এতে রোগীর ক্ষতি হতে পারে।
  • রোগীকে খোলামেলা স্থানে রাখতে হবে।
  • আক্রান্ত ব্যক্তির আশেপাশে ধারালো অস্ত্র, পানি কিংবা আগুন থাকলে তা সরিয়ে নিতে হবে।
  • খিঁচুনির পরে তাকে পর্যাপ্ত বিশ্রাম দিতে হবে।
  • যদি ১০ মিনিটেও খিঁচুনি না থামে তাহলে রোগীকে অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের নিকট নিতে হবে।

এই সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিকে অবশ্যই কিছু বিষয় মেনে চলতে হবে।

  • রোগীকে অবশ্যই নিয়মিত ঔষধ খেতে হবে।
  • এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির রাত জেগে থাকা উচিত নয়। তার পর্যাপ্ত ঘুম একান্ত প্রয়োজন।
  • এই সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তির কারো সাহায্য ছাড়া একা একা পানিতে নামা, গাছে ওঠা কিংবা গাড়ী চালানো ঠিক নয়।
  • অতিরিক্ত মানসিক চাপ, দুশ্চিন্তা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
  • ধূমপান এবং মদ্যপান সম্পূর্ণ ভাবে এড়িয়ে চলতে হবে।
  • নিয়মিত ভাবে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

এপিলেপসি বা মৃগী রোগ কোন অভিশাপ নয়। তাই এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিকে অবহেলা নয় বরং তার প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিন। অনেকে এই রোগটি গোপন করে রাখেন। কিন্তু এটা মোটেও ঠিক নয়। সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসা নিলে মৃগী রোগী সম্পূর্ণরূপে সুস্থ হয়ে যায়। তাই আসুন এই রোগ সম্পর্কে নিজে সচেতন হই এবং অন্যকেও সচেতন করি।

Previous Post Next Post

You Might Also Like

Comments are closed.