কারণ, প্রতিরোধ, শারীরিক সমস্যা, স্বাস্থ্য কথা

মেদ এবং স্থূলতা

প্রায় সময়ই অধিকাংশ মেয়ের অভিযোগ “আমার বান্ধবীর চেয়ে আমি কম খাই তাহলে আমার ওজন তার চেয়ে বেশি কেন?” হ্যাঁ, এমন সমস্যায় এই ধরনের প্রশ্ন আপনার মনে আসতেই পারে। আপনার অতিরিক্ত মেদ এবং স্থূলতার কারণ শুধুমাত্র দৈন্দন্দিন জীবনের খাবার নয় বরং এটি হতে পারে নানাবিধ কারণে। জানেন কি?

উচ্চতা অনুযায়ী শরীরের ওজন বেশি হলে মেদ এবং স্থূলতা দেখা দেয়। অধিক ওজনের ব্যক্তিকে শারীরিক, মানসিক এবং সামাজিক ভাবে হেয় প্রতিপন্ন হতে হয়। শরীরে একবার মেদ জমলে তা কমানো বেশ কঠিন। তাই এই সমস্যার কারণ গুলো সম্পর্কে আমাদের অবশ্যই জ্ঞান থাকতে হবে।

আসুন আমরা জেনে নেই মেদ এবং স্থূলতার জন্য কোন কোন বিষয় গুলো দায়ী।

  • প্রয়োজনের অতিরিক্ত খাবার খেলে শরীরে মেদ জমে।
  • বংশে বা পরিবারে কারো স্থূলতা সমস্যা থাকলে আপনারও এই সমস্যাটি হতে পারে।
  • শারীরিক পরিশ্রম কম করলে বা একেবারেই না করলে এই সমস্যাটি দেখা দিবে।
  • অনেকেই আছেন মানসিক চাপ বা দুশ্চিন্তার মধ্যে থাকলে অধিক পরিমাণে খাবার খেয়ে ফেলেন। এতে করে শরীর মুটিয়ে যায়।
  • বিভিন্ন প্রকার কোমল পানীয়তে প্রচুর পরিমাণে ক্যালরি থাকে। তাই এসমস্ত পানীয় শরীরে মেদ সৃষ্টি করে।
  • অতিরিক্ত মদ পানের কারণেও ওজন বাড়ে।

মেদ এবং স্থূলতার কারণে আমাদের শরীরে দেখা দেয় নানাবিধ সমস্যা।

  • বাড়তি ওজন হৃদরোগের অন্যতম কারণ।
  • অধিক ওজনের কারণে উচ্চ রক্তচাপ দেখা
  • শরীরে মেদ জমার কারণে ডায়াবেটিস টিইপ-২ দেখা দিতে পারে।
  • অধিক ওজনের মহিলাদের জরায়ু, প্রস্টেস্ট এবং কোলন ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে।
  • অতিরিক্ত ওজনের কারণে পিত্তথলিতে পাথর হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।
  • এই সমস্যাটির কারনে যৌনক্ষমতা কমে যেতে পারে।
  • মেদ এবং স্থূলতার কারণে মহিলাদের অনিয়মিত ঋতুস্রাব দেখা দেয়।
  • অধিক ওজনের ব্যক্তিদেরকে বয়সের তুলনায় বয়স্ক দেখায়। বিভিন্ন সময়ে তাদেরকে বিব্রতিকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়।

মেদ এবং স্থূলতা প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ করাই শ্রেয়। তাই আসুন এই সমস্যা প্রতিরোধে আমাদের কি করা উচিত তা জেনে নেই।

  • দৈনন্দিন খাদ্য তালিকায় সুষম খাবার, শাকসবজি, সালাত, ছোট মাছ ইত্যাদি রাখতে হবে।
  • নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে। প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটার অভ্যাস করতে হবে।
  • দীর্ঘক্ষণ বসে কাজ করা শরীরে মেদ সৃষ্টির অন্যতম কারণ। তাই কাজের ফাঁকে ফাঁকে হাঁটা- চলা করতে হবে।
  • আমরা অধিকাংশ সময়ই সিঁড়ির পরিবর্তে লিফট ব্যবহার করি। এই অভ্যাস পরিহার করতে হবে।
  • অতিরিক্ত তেল, চর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলতে হবে।
  • বাচ্চাদেরকে সবসময় ঘরে তৈরি করা খাবার খাওয়ানোর অভ্যাস করতে হবে।
  • সকল প্রকার কোমল পানীয় পরিহার করতে হবে।
  • প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ গ্লাস পানি পান করতে হবে।
  • প্রচুর পরিমাণে তাজা ফলমূল খেতে হবে।

দিন দিন ওজন বাড়লে আমরা চিন্তায় পড়ে যায়। ভেবে পাই না আমাদের কি করা উচিত। মেদ এবং স্থূলতা নানাবিধ সমস্যার কারণ। তাই শরীরে অতিরিক্ত চর্বি বা মেদ জমার আগেই আমাদের সচেতন হওয়া উচিত।

Previous Post Next Post

You Might Also Like

Comments are closed.