নবজাতকের জন্ডিসের কারণ, লক্ষণ ও প্রতিকারের উপায়
নবজাতক ও শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ

নবজাতকের জন্ডিসের কারণ, লক্ষণ ও প্রতিকারের উপায়

আমার নবজাতকেরও কি জন্ডিস হতে পারে? সন্তান জন্মদানের পূর্বে অধিকাংশ মা- বাবার মনে এই ধরনের প্রশ্নের সৃষ্টি হয়। এক জরিপে দেখা গেছে, শতকরা ৮০ ভাগ নবজাতকই এই সমস্যায় আক্রান্ত হতে পারে। অনেকেই মনে করেন জন্ডিস শুধুই প্রাপ্তবয়স্কদের শরীরিক সমস্যা। আসলে জন্ডিস হতে পারে সকল বয়সী মানুষের।

আসুন জেনে নেই নবজাতকের জন্ডিসে আক্রান্ত হওয়ার কারণ।

নবজাতকের জন্ডিস হওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ কিছু কারণ রয়েছে।

  • জন্মের পরে নবজাতকের শরীরে রক্ত ভাঙ্গতে থাকে। যখন রক্ত অধিক মাত্রায় ভাঙ্গতে থাকে তখন বিলুরুবিনের পরিমাণ বেড়ে যায় এবং জন্ডিস দেখা দেয়।
  • নেগেটিভ গ্রুপ এবং ‘ও’ গ্রুপের রক্তের মায়ের শিশুর এই সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
  • কম ওজনের নবজাতকের হতে পারে জন্ডিস।
  • জন্মের পরে মায়ের দুধ পান করতে না পারার কারণে এই সমস্যাটি হতে পারে।

সাধারণত নবজাতকের জন্ডিস দুই ধরনের।

অধিকাংশ ক্ষেত্রে নবজাতক নরমাল বা স্বাভাবিক জন্ডিসে আক্রান্ত হয়। একে “ফিজিওলজিক্যাল” জন্ডিস বলে। এই জন্ডিসের কোনো ক্ষতিকর দিক নেই। এটি এমনিতেই ভালো হয়ে যায়।

নরমাল বা স্বাভাবিক জন্ডিসের কিছু লক্ষণ রয়েছে।

  • নবজাতকের জন্মের তিন থেকে চার দিন পর শরীর হলুদ হয়ে যাবে।
  • প্রথমে মুখ এবং এরপরে হাত ও পা হলুদ হয়ে যাবে।
  • তারপর বুক ও পেট হলুদ দেখাবে।
  • এছাড়া প্রস্রাবও হলুদ হয়ে যাবে।

যদি কোনো নবজাতকের শরীর জন্ডিসের কারণে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হলুদ হয়ে যায় তাহলে বুঝতে হবে নবজাতকটি মারাত্মক জন্ডিসে আক্রান্ত। একে “প্যাথোলজিক্যাল” জন্ডিস বলে।

এই ধরনের জন্ডিসে আক্রান্ত নবজাতকের বিশেষ কিছু লক্ষণ দেখা দেয়।

  • নবজাতক দুধ পান করে না।
  • পেট ফুলে যায়।
  • নড়াচড়া কম করে।
  • নবজাতকের শরীরে তীব্র জ্বর থাকে অথবা শরীর অতিরিক্ত ঠান্ডা হয়ে যেতে পারে।
  • খিঁচুনি হতে পারে।

নবজাতকের জন্ডিস অধিকাংশ ক্ষেত্রে মায়ের রক্তের গ্রুপের উপর নির্ভর করে। এজন্য গর্ভধারণের পূর্বে রক্তের গ্রুপ পরীক্ষা করে এই ধরনের শারীরিক সমস্যা প্রতিরোধ করা সম্ভব। সেসকল মায়ের নবজাতকের জন্ডিস হওয়ার সম্ভাবনা আছে সেসকল মায়ের সন্তান প্রসবের সময় বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহন করে এই ধরনের শারীরিক সমস্যা প্রতিকার করা যায়। এছাড়াও জন্ডিস দেখা দিলে অবশ্যই নবজাতক অথবা শিশুরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে।

তাই আসুন আমরা নবজাতকের জন্ডিস সমস্যায় ভীত না হয়ে এটি প্রতিরোধ ও প্রতিকারে সচেতন হই।

 

Previous Post Next Post

Leave a Reply