Endocrinology, শারীরিক সমস্যা

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখার কৌশল

আপনি কি ডায়াবেটিসে আক্রান্ত? আপনার আশেপাশের অনেকের ভুল পরামর্শে দিশেহারা হয়ে পড়ছেন? ডায়াবেটিস পুরোপুরি নিরাময় করা যায় না এটি শুনে কি আপনি আতংকিত? আমরা অনেকেই হয়তোবা জানিনা ডায়াবেটিস নিরাময় করা না গেলেও নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

আসুন জেনে নেই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখার কৌশল।

খাদ্য ব্যবস্থাপনাঃ ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের পূর্বশর্ত সঠিক ও পরিমিত খাবার খাওয়া। এই সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিকে অবশ্যই সুষম খাবার দিতে হবে। একবারে বেশি না খেয়ে কম করে ঘনঘন খাবার খাওয়ার অভ্যাস করতে হবে।

শারীরিক পরিশ্রমঃ খাদ্য ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি দৈনিক কায়িক পরিশ্রমের বিষয়টাও নিশ্চিত করতে হবে। ডায়াবেটিস সুনিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য অবশ্যই ৩০ থেকে ৪০ মিনিট যেকোন ধরনের শারীরিক পরিশ্রম করতে হবে। হাঁটা হচ্ছে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে সহজ কায়িক পরিশ্রম।

মিষ্টি জাতীয় খাবারঃ ডায়াবেটিস আক্রান্ত রোগী মানেই সে মিষ্টি খেতে পারবেন না। এমন একটি ভ্রান্ত ধারনা আমাদের অনেকের মাঝেই আছে। কিন্তু ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলে এই সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিও মিষ্টি খেতে পারবেন। তবে অবশ্যই অল্প পরিমাণে খেতে হবে।

সুসৃংখল জীবনযাপনঃ ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের জন্য সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর থেকে রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগ পর্যন্ত খাবার ব্যবস্থাপনা, শারীরিক পরিশ্রম ইত্যাদির একটি চার্ট করতে হবে। দৈনিক কি ধরনের খাবার খেতে হবে, কি পরিমাণে খেতে হবে, কতবার খাবেন, কতটুকু কায়িক পরিশ্রম করবেন ইত্যাদি এই চার্টে উল্লেখ থাকবে।

ওজন নিয়ন্ত্রণঃ ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখার অন্যতম উপায় ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা। এজন্য পরিমিত ও সুষম খাবার খাওয়ার অভ্যাস করতে হবে। নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম (যেমনঃ হাঁটা, সাইকেল চালানো, সাঁতার কাটা) করতে হবে।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে ফলমূল সবজিঃ কালো জাম ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সহায়ক। জামের বিচি শুকিয়ে গুড়া করে খেলেও ভালো ফল পাওয়া যাবে। নিয়মিত কম পরিমাণে নিম পাতা ও তুলসি পাতা খেতে পারেন। রাতে একগ্লাস পানির মধ্যে একটা ঢ়েঁড়স কেটে ভিজিয়ে রাখুন। সকালে ওঠে খালি পেটে এই পানি পান করুন। এটি নিয়মিত করলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

মেথি তেতো করলাঃ প্রতিদিন রাতে এক গ্লাস পানিতে দুই টেবিল চামচ মেথি ভিজিয়ে রাখুন। সকালে খালি পেটে এই পানি পান করুন। তাহলে দেখবেন আপনার ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকবে। তেতো করলা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে খুবই কার্যকরী ভুমিকা পালন করে।

চিকিৎসকের পরামর্শঃ অনেকে অভিযোগ করেন ‘আমি খাবার, ব্যায়াম সকল বিষয়ে খুবই সচেতন তাহলে আমার ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকছে না কেন?’ আসলে এইসমস্ত বিষয়ের পাশাপাশি একজন ডায়াবেটিস আক্রান্ত ব্যক্তিকে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ঔষধ অথবা ইনসুলিন গ্রহন করতে হবে।

ডায়াবেটিসে আতংকিত না হয়ে পরিবারের সবার সাথে এই বিষয়ে কথা বলুন। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে পরিবারের সকল সদস্যদের সহযোগিতা অপরিহার্য। নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন এবং সঠিক ও নিয়মিত ঔষধ সেবন করে এই রোগের লাগাম রাখতে পারেন নিজের হাতেই।

Previous Post Next Post

You Might Also Like

Comments are closed.