Endocrinology, শারীরিক সমস্যা, স্বাস্থ্য কথা

ডায়াবেটিস রোগীর খাদ্য ব্যবস্থাপনা

ডায়াবেটিস পুরোপুরি বা সম্পূর্ণ ভাবে নিরাময় করা যায় না। তবে কিছু নিয়ম মেনে চললে এটি নিয়ন্ত্রণে রেখে সুস্থ জীবনযাপন করা সম্ভব। ওষুধ সেবন, নিয়মিত ব্যায়াম করা নানাভাবে এই রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। তবে সব প্রচেষ্টাই ব্যর্থ হবে যদি আপনি খাবার নিয়ন্ত্রণ না করেন।

প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় এমন খাদ্য রাখতে হবে যেগুলো খেলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকবে। তবে অবশ্যই এই সকল খাবার পরিমিত খেতে হবে।

আসুন জেনে নেয়া যাক ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে, এমন কিছু খাবার সম্পর্কে।

খেজুর

অনেকেই ভেবে থাকেন ডায়াবেটিক রোগীদের খেজুর খাওয়া ঠিক নয়। কিন্তু খেজুরে আছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার। তাই এটি ডায়াবেটিস আক্রান্তদের ওষুধ হিসেবে কাজ করে।

দুধের তৈরি খাবার

ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ‘ডি’-এর অন্যতম উৎস দুধ। এজন্য দুধ ডায়াবেটিস আক্রান্তদের জন্য খুবই উপকারী। সকালের নাশতায় আপনি রাখতে পারেন দুধ অথবা দুগ্ধজাত কোনো খাবার।

তুলসী পাতা

ঔষধি গাছ তুলসীকে বলা হয় ডায়াবেটিক রোগীদের ইনসুলিন। তুলসীপাতা নানাভাবে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। খালি পেটে তুলসীপাতার রস খেলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমে যায়। তুলসীর রস চায়ের সাথে মিলিয়েও খেতে পারেন।

মটরশুঁটি

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা পালন করে মটরশুঁটি। বর্তমানে আমাদের দেশে প্রায় সারা বছরই পাওয়া যায় মটরশুঁকি। যখন মটরশুঁটির মওসুম, তখন বেশি করে কিনে ডিপ ফ্রিজে রেখে দিন। এইভাবে সারা বছরই খাদ্য তালিকায় রাখতে পারবেন এই সবজিটি।

শাকসবজি  

ডায়াবেটিস রোগীদের খাবার তালিকায় রাখতে হবে সব ধরনের সবুজ শাক যেমনঃ পালংশাক, পুঁইশাক, কলমিশাক, ডাঁটাশাক, কচুশাক ইত্যাদি। সবজি যেমন- বেগুন, অ্যাসপারাগাস, ফুলকপি, বাঁধাকপি, গাজর, শসা, খিরা, মুলা, ওলকপি, করলা, উচ্ছে, শালগম, কাঁচা টমেটো, পেঁয়াজ, মাশরুম, কাঁচা পেঁপে, ঝিঙে, চিচিঙা, ধুন্দল, পটোল, চালকুমড়া, ডাঁটা, লাউ, ফ্রেঞ্চ বিন, কলার থোড় ও মোচা।

ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য চিকিৎসকেরা খাবার নির্ধারণ করে দিয়ে থাকেন, কিন্তু তারপরেও অনেক ডায়াবেটিক রোগী তা মেনে চলেন না। নিজের যা ইচ্ছা হয় তাই খেয়ে থাকেন। তবে কিছু নির্দিষ্ট খাবার আছে যা একেবারেই খাওয়া উচিৎ নয়। এই খাবার গুলোতে যেই মাত্রায় সুগার থাকে তা ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য ভাল নয়।

জেনে রাখুন খাবারগুলো সম্পর্কে।

ক্যান্ডি

শুধুমাত্র চিনিতে ভরপুর ক্যান্ডিই নয় ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য চিনির তৈরি কুকিস, সিরাপ বা যেকোন ধরণের পানীয় খুব ক্ষতিকর। এগুলো খেলে রক্তের সুগার অনেক বেড়ে পায়। এই কারণে ডায়াবেটিক নিয়ন্ত্রণে থাকেনা। তাই ডায়াবেটিক রোগীদের এই খাবার গুলো এড়িয়ে চলা উচিত।

ফলের জুস

ফলের জুস থেকে আস্ত ফল খাওয়াটাই অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর। বিভিন্ন ধরনের ফলে থাকে ফাইবার এবং কার্বোহাইড্রেট। কিন্তু বাইরে থেকে যেকোন ফলের জুস কিনে খাওয়াটা মোটেও স্বাস্থ্যকর নয়। কারণ এতে থাকে প্রচুর পরিমাণে চিনি ও নানা ধরণের কেমিক্যাল। এই সমস্ত উপাদান ডায়াবেটিক রোগীদের স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে। ফলের জুস খেতে চাইলে বাড়িতেই চিনি ছাড়া জুস বানিয়ে খেতে পারেন।

কিশমিশ

কিশমিশ খাওয়া খুব স্বাস্থ্যকর হলেও ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য কিশমিশ ভাল নয়। যেকোন ফল যখন ড্রাই করা হয় তখন তাতে চিনির পরিমান বেড়ে যায়। তাই তখন তা দেহের জন্য অস্বাস্থ্যকর হয়ে যায়।

ভাজা পোড়া খাবার

ডুবো তেলে ভাজা ফ্রেঞ্চ ফ্রাইস ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। কারণ এই খাবার দেহের ওজন বৃদ্ধি করে। রক্তে প্রয়োজনীয় সুগারের মাত্রা নষ্ট করে দেয়। ফ্রেঞ্চ ফ্রাইস, আলুর চিপস, ডোনাটস এই খাবার গুলো একজন ডায়াবেটিক রোগীর রক্তের গ্লুকোজের পরিমান কমিয়ে দেয়। তাই এই সমস্ত খাবার এড়িয়ে চলা উচিত।

সাদা ব্রেড

শুধু সাদা ব্রেডই নয় বরং সাদা ভাত, সাদা পাস্তা সহজে হজম হলেও এই খাবার গুলোতে যে মাত্রায় সুগার থাকে তা ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য ভাল নয়। এই খাবার গুলো দেহের গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণে বাধা দেয়। তাই ডায়াবেটিক রোগীদের এই জাতীয় খাবার না খাওয়াই ভালো।

 অতিরিক্ত দুধের তৈরি খাবার

দুধ খাওয়া ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য ভাল। কিন্তু যেসমস্ত খাবারে দুধের পরিমাণ খুব বেশি যেমনঃ দই, দুধের তৈরি ক্রিম, চিজ ইত্যাদি খাবার ডায়াবেটিক রোগীদের না খাওয়াই উত্তম।

তাই প্রত্যেক ডায়াবেটিক রোগীকে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের জন্য অবশ্যই চিকিৎসকের নির্ধারিত খাবার মেনু অনুসরন করতে হবে। সুশৃংখল জীবন যাপনের পাশাপাশি একটি আদর্শ খাবার ব্যবস্থা মেনে চললে ডায়াবেটিক রোগীদের পক্ষে সুস্থ ও স্বাভাবিক ভাবে বেঁচে থাকা সম্ভব।

Previous Post Next Post

You Might Also Like

Comments are closed.