Gynaecology & Obstetrics, কারণ ও প্রতিকার

জরায়ুমুখে টিউমার চিকিৎসায় করণীয়

আপনার কি ঋতুস্রাবের সময় অতিরিক্ত রক্তপাত হচ্ছে? এমন দিন গুলোতে আপনি কি তলপেটে প্রচন্ড ব্যথা অনুভব করছেন? অথবা ঋতুস্রাব কি সাত দিনের বেশি হচ্ছে? এমন সব লক্ষণ দেখা দিলে আর অবহেলা নয়। হয়তোবা এই সমস্ত লক্ষণের কারণে আপনি আক্রান্ত হতে পারেন মারাত্মক কোনো শারীরিক সমস্যায়।

আসলে বয়স বাড়ার সাথে সাথে বিবাহিত অথবা অবিবাহিত যেকোন মহিলাদের কম বেশি নানা ধরনের শারীরিক সমস্যার সম্মুক্ষিন হতে হয়। জরায়ুমুখে টিউমার মহিলাদের জন্য একটি বহুল আলোচিত সমস্যা। সাধারণত ১৫ থেকে ৫০ বছর বয়সের মহিলাদের এই সমস্যা দেখা দেয়।

জরায়ুমুখে টিউমার প্রতিরোধের জন্য এই সমস্যাটির কারণ গুলো জানা খুবই জরুরী।

  • যেসকল মহিলা কখনোই গর্ভধারণ করেন নি বা কম গর্ভধারণ করেছেন তাদের জরায়ুমুখে টিউমার হওয়ার প্রবণতা অনেক বেশি।
  • যেসকল মহিলা সঠিক সময়ে গর্ভধারণ করেন না তাদের এই সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে।

অনেকক্ষেত্রে দেখা যায় জরায়ুমুখে টিউমারে আক্রান্ত হওয়ার পরেও অনেক মহিলা বুঝতে পারেন না। সেক্ষেত্রে এই সমস্যার লক্ষণ সমূহ জানা থাকলে দ্রুত চিকিৎকের শরণাপন্ন হওয়া সম্ভব।

  • ঋতুস্রাবের সময় রক্তপাতের পরিমাণ বেড়ে যাবে।
  • চাকা চাকা রক্তপাত হতে পারে।
  • তলপেটে প্রচন্ড ব্যথা হবে।
  • ঘনঘন প্রস্রাব হওয়া।
  • সহবাসের সময় জরায়ুতে অস্বস্তি বা ব্যথা অনুভব করা।

কম বয়সী বিবাহিত মহিলাদের ক্ষেত্রে টিউমার প্রাথমিক অবস্থায় ধরা পড়লে চিকিৎসকেরা দ্রুত গর্ভধারণের পরামর্শ দিয়ে থাকেন। তবে টিউমারের আকার বড় হলে রোগীকে অপারেশন করানো হয়। বর্তমানে উন্নত বিশ্বের মত বাংলাদেশেও লেজার সার্জারি চালু হয়েছে। কোন প্রকার কাটা- ছেঁড়া ছাড়া, রক্তপাতহীন ও ঝুঁকিমুক্তভাবে অপারেশন করে রোগীকে সুস্থ করে তোলা হয়।

জরায়ুমুখে টিউমার হলে অনেকে ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়েন। আসলে এই ধরনের শারীরিক সমস্যার জন্য দ্রুত ও সঠিক চিকিৎসা দিলে রোগীকে পুরোপুরো সুস্থ করা সম্ভব। তাই জরায়ুমুখে টিউমার ধরা পড়লে অবহেলা না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন এবং সুস্থ থাকুন।

Previous Post Next Post

You Might Also Like

Comments are closed.