Endocrinology, কারণ ও প্রতিকার, প্রতিরোধ, শারীরিক সমস্যা

গর্ভকালীন ডায়াবেটিস, ঝুঁকি ও প্রতিরোধ

গর্ভাবস্থায় মায়েদের শরীরে দেখা দেয় নানাবিধ সমস্যা। এসকল কারণে মায়ের যেমন ক্ষতি হয় ঠিক তেমনি গর্ভের সন্তানটিরও হতে পারে জটিল কোন সমস্যা। আপনি কি জানেন গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কাদের বেশি? এই সমস্যা প্রতিরোধে করণীয় কি?

আসুন জেনে নেই কোন সব মায়েরা গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হতে পারেন।

  • শরীরের ওজন স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি।
  • পরিবারে কারো ডায়াবেটিস আছে।
  • যাদের বয়স ২৫ এর বেশি।
  • বার বার যৌনিপথে সংক্রমন বা ইনফেকশন।
  • পূর্বে গর্ভকালীন ডায়াবেটিস।
  • গর্ভের থলিতে পানির পরিমাণ বেশি।
  • অধিক ওজনের শিশু প্রসব।

যদি কোনো গর্ভবতী মায়ের এমন ধরনের এক বা একাধিক ঝুঁকিপূর্ণ বিষয় থাকে তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

এবার আসুন জেনে নেওয়া যাক গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস হলে মায়ের কি ধরনের জটিলতা হতে পারে।

  • উচ্চ রক্তচাপ বৃদ্ধি পেতে পারে।
  • গর্ভথলিতে পানির পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে।
  • প্রস্রাবে ইনফেকশন হতে পারে।
  • বাচ্চা নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

এই সমস্যায় আক্রান্ত মায়ের শিশুর নিম্নলিখিত সমস্যা গুলো দেখা দিতে পারে।

  • শিশুর মাথা বড় হতে পারে।
  • শিশু বিকলাঙ্গ হতে পারে।
  • স্থুলতা দেখা দিতে পারে।
  • ভবিষ্যতে শিশুর ডায়াবেটিস হতে পারে।

তাই অবশ্যই ডায়াবেটিস আক্রান্ত মায়ের বিশেষ যত্ন প্রয়োজন। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের প্রতি খেয়াল রাখতে হবে।

  • নিয়মিত ও পরিমিত খাবার খেতে হবে। তেল বা চর্বিযুক্ত খাবার পরিহার করতে হবে। অল্প পরিমাণে বার বার খেতে হবে। পুষ্টিকর এবং ক্যালসিয়াম সম্মৃদ্ধ খাবার যেমনঃ ফলমূল, দুধ, ডিম, লাল শাক, পালংশাক, মলা- ঢেলা মাছ ইত্যাদি খেতে হবে।
  • প্রতিদিন বাসার ভিতরে বা বাইরে ১৫- ২০ মিনিট হাঁটতে হবে। একেবারে বসে না থেকে ঘরের কিছু কাজ করা গর্ভবতী মায়ের শরীরের জন্য ভালো। এতে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা স্বাভাবিক থাকবে।
  • নিয়মিত ডায়াবেটিস পরীক্ষা করতে হবে। যেসকল মায়ের আগে গর্ভকালীন ডায়াবেটিস ছিল তাদের অবশ্যই দিনে দুইবার এই পরীক্ষা করতে হবে।
  • যদি খাদ্যাভাস পরিবর্তণ এবং অন্যান্য ব্যবস্থা গ্রহন করেও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করা না যায় তাহলে ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহন করতে হবে।

জীবনে একবার গর্ভকালীন ডায়াবেটিস হলে পরবর্তিতে সেসকল মায়েদের গর্ভাবস্থায় আবারো এই সমস্যা দেখা দিতে পারে। এজন্য ডায়াবেটিস যেন না হয় সে বিষয়ে আমাদেরকে সচেতন থাকতে হবে। কয়েকটি বিষয় মেনে চললে গর্ভকালীন ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করা যায়।

  • স্বাস্থ্যসম্মত জায়গায় বসবাস করা।
  • নিয়মিত ও পরিমিত খাবার খাওয়া।
  • সব সময় ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা।
  • নিয়মিত ব্যায়াম ও কায়িক পরিশ্রম করা
  • পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুম ও বিশ্রাম নেওয়া।

একটু সচেতনতা এবং সাবধানতা অবলম্বন করে চললে গর্ভকালীন ডায়াবেটিস সহ নানা জটিলতা এড়িয়ে চলা সম্ভব। পাশাপাশি একজন মা জন্ম দিতে পারবেন সুস্থ, স্বাভাবিক শিশু।

Previous Post Next Post

You Might Also Like

Comments are closed.