Nephrology

কিডনি রোগীর খাবার ও যে খাবারগুলি থেকে দূরে থাকবেন

আমরা আজকে আলোচনা করবো কিডনি রোগের খাবার সম্পর্কে। আমরা প্রায়ই কিডনি রোগীদের বলে থাকি অথবা টিভিতে শুনে থাকি কিডনি রোগে আক্রান্ত হলে এটা খাওয়া যাবেনা, ওটা খাওয়া যাবেনা এবং কোন কোন ক্ষেত্রে খাদ্য তালিকাও দিয়ে দেওয়া হয়।

অনেক সময় বলা হয়ে থাকে আপনি এতোটুকু ডাল খেতে পারবেন না, আপনার সবজি ধুয়ে খেতে হবে, মাছ মাংস এতোটুকু খেতে পারবেন। রোগীরা এই খাবার নিয়ে সবসময় ভীত সন্তস্ত থাকে। আমি একটু অন্যরকম কথা বলবো আজকে যেটা আমাদের দেশের কিডনি রোগীরা হয়ত নাও শুনে থাকতে পারেন। কিডনি ডিজিজের পাঁচটি স্টেজ আছে। স্টেজ ১, ২, ৩, ৪, ৫। প্রথমে যদি প্রোটিনের কথাই বলি স্টেজ ১, ২, ৩ তে কিডনি রোগীরা যতটুকু প্রোটিন খেতে পারবেন .৮ গ্রাম প্রতি কেজিতে স্বাস্থ্য অনুযায়ী। এক্ষেত্রে দেখা যাবে যদি ৬০ কেজি ওজনের একজন মানুষ হন তাহলে যদি আমি .৮ দিয়ে গুণ দেই তাহলে তিনি ৪৮ গ্রাম প্রোটিন প্রতিদিন খেতে পারবেন। এখন প্রশ্ন হচ্ছে ৪৮ গ্রাম প্রোটিন বা প্রোটিনের নির্যাস কথাটার মানে কি। এজন্য অনেকেই বলে থাকেন আপনি সকালে এক টুকরো মাছ খাবেন, রাতে এক টুকরো মাছ খাবেন, দুপুরে এক টুকরো মাছ খাবেন। আসলে হিসাবটা কিন্তু একটু ভিন্ন। ভিন্নতা কিরকম। বললাম ৪৮ গ্রাম প্রোটিন মানে ৫০ গ্রাম প্রোটিন একজন ৬০ কেজি ওজনের মানুষ যদি তিনি স্টেজ ২ অথবা ৩ এ থাকেন তাহলে খেতে পারবেন। তাহলে ৫০ গ্রাম প্রোটিনের মানে কি। ৫০ গ্রাম প্রোটিনের মানে হচ্ছে যদি আমি একটু ভিন্নভাবে বলি সবচেয়ে বেশি প্রোটিন থাকে ডিমে। দিমের যেই সাদা অংশ থাকে তাতেই সবথেকে বেশি প্রোটিন থাকে। একটি ডিমে সাইজ ভেদে প্রোটিন থাকে ৪.৫ গ্রাম হতে ৬.৫ গ্রাম। যদি আমি স্বাভাবিক ভাবে হিসাব করি তাহলে আসে ৬ গ্রাম। তাহলে ৫০ গ্রাম প্রোটিনের জন্য আমার ৮ টা ডিমের প্রয়োজন হবে। তাহলে দেখা যাবে আপনি সকালে ২ টা ডিম, দুপুরে ২ টা ডিম, বিকেলে ২ টা ডিম এবং রাতে ২ টা ডিম খেলেন। এতে করে আপনার প্রোটিনের অভাবটা পূরণ হয়ে গেল। তাহলে ৮ টা ডিম অথবা ৮ টা ডিমের সমপরিমাণ প্রোটিন আপনি দিনে খেতে পারেন। তারপর বলা আছে .৬ গ্রাম প্রোটিন স্টেজ ৪ ও ৫ এর জন্য। তাহলে আসে ৩৬ গ্রাম প্রোটিন। তাহলে দেখা যাবে ৬ টা ডিম খেতে পারেন আপনি প্রতিদিন। কিন্তু আমরা বাংলাদেশের মানুষরাই কখনই প্রতিদিন ৬ টা ডিম খাই না। এজন্য আমার মনে হয় এইযে প্রোটিন খাওয়া যাবেনা অথবা আমিষ খাওয়া যাবেনা এই কথা আমাদের সাথে যাবেনা। আমরা স্বাভাবিক খাবার খাবো, স্বাভাবিক প্রোটিন খাবো। তারপর আমরা শুনি শাক খাওয়া যাবেনা, ফল খাওয়া যাবেনা। খেলেই কিডনি রোগ বেড়ে যাবে। আসলে এটা একদম মিথ্যা কথা। কোন ধরনের শাক খেলে, ফল খেলে কিডনি রোগ বাড়েনা। আসলে কি হয় ব্যাপারটা যারা ক্রনিক কিডনি ডিজিজে থাকেন তাদের শরীর থেকে পটাশিয়াম বের করে দেওয়ার ক্ষমতা অনেক কম থাকে। সেক্ষেত্রে পটাশিয়াম জাতীয় খাবার খেলে শরীরে পটাশিয়ামের মাত্রা বেড়ে জেতে পারে। তাই আমরা সবসময় বলি পটাশিয়াম জাতীয় খাবার একটু এড়িয়ে যেতে। তার মানে এই না যে সবজি ধুয়ে খেতে হবে, ফল খাওয়া যাবেনা। আমরা যেভাবে স্বাভাবিক ফলমূল খাই সেভাবে খেতে পারবো। যদিনা স্টেজ ৫ এ না যাই। তারপর অনেকে বলে ডাল খাওয়া যাবেনা। ডাল খেলে কি হবে। ডাল খেলে ফসফেট বেড়ে যাবে। যারা ক্রনিক কিডনি ডিজিজে ভুগেন তাদের শরীরে ফসফেট বেশি থাকে। গবেষণায় দেখা গেছে আমাদের দেশের মানুষের ফসফেট এমনিতেই কম থাকে। যারা ইউরোপে থাকেন তাদের হয়ত খাদ্যাভ্যাসের কারনে ফসফেট বেশি থাকে। আমাদের স্টেজ ১, ২, ৩ এর বেশীরভাগ মানুষের ফসফেট স্বাভাবিক থাকে। তাহলে আমাদের ডাল খেতে কোন সমস্যা নাই। আমরা কম বেশি ডাল খেতেই পারি। আরেকটা ইস্যু হচ্ছে পানি। অনেক সময় দেখা যায় কিডনি রোগীদের শরীর ফুলে যায়। তাই আমরা বলি পানি একটু কম পান করতে। কিডনি রোগীদের পানি থেকে প্রস্রাব কম হয় বলে শরীর ফুলে যায়।  তাই কিডনি রোগীদের খাওয়া সম্পর্কে আমি এই বার্তাটা দিতে চাই।

 

১. টিপসঃ- কিডনি রোগীদের ৪ টা খাবার খাওয়া একদম নিষেধ। ১. কামরাঙ্গা ২. বিলম্ব (লেবুর মত টকযুক্ত ফল) ৩. এলোভেরা ৪. ব্যথার ঔষধ।

Previous Post Next Post

You Might Also Like

No Comments

Leave a Reply