কারণ, প্রতিরোধ, লক্ষণ, শারীরিক সমস্যা

এনাল ফিস্টুলা কি? রোগের কারণ ও প্রতিকার

ফিস্টুলা শব্দটি শুনলে অনেকেই আতকে ওঠেন। বহুল আলোচিত এই রোগটি সব বয়সের মানুষেরই হতে পারে। ফিস্টুলা নিয়ে রয়েছে নানান জনের নানান মত। রয়েছে অসংখ্য ভ্রান্ত ধারনা। আসুন আমরা ফিস্টুলা সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জেনে নেই।

ফিস্টুলা আসলে কি?

মলদ্বারে অনেক গুলো গ্রন্থি থাকে। সংক্রমণের কারণে এগুলোতে ফোঁড়া হয়। এক সময় এই ফোঁড়া পেকে যায় এবং ফেটে যেয়ে মলদ্বরের চারপাশের কোনো এক জায়গার একটি ছিদ্র দিয়ে পুঁজ বের হতে থাকে। এই অবস্থাকে ফিস্টুলা বলে।

ফিস্টুলা দুই ধরনের।

একটি হল সাধারণ ফিস্টুলা অপরটি জটিল ফিস্টুলা। সাধারন ফিস্টুলা মলদ্বরের খুব একটা গভীরে প্রবেশ করে না। তাই এর চিকিৎসা বেশ সহজ।

জটিল ফিস্টুলা কয়েক ধরনের হতে পারে। যদি ফিস্টুলার শিকড় মলদ্বারের অনেক ভিতরে পৌঁছায় তাহলে ফিস্টলা মারাত্মক আকার ধারন করে।

এবার আসুন আমরা জেনে নেই ফিস্টুলা কেন হয়।

  • দীর্ঘমেয়াদী কোষ্ঠকাঠিন্য বা ডায়রিয়া।
  • শাকসবজি ও অন্যান্য আঁশযুক্ত খাবার এবং পানি কম খাওয়া।
  • শরীরের অতিরিক্ত ওজন।
  • গর্ভাবস্থা।
  • লিভার সিরোসিস।
  • মলত্যাগে বেশি চাপ দেয়া।
  • অতিরিক্ত মাত্রায় লাক্সেটিভ (মল নরমকারক ওষুধ) ব্যবহার করা বা এনেমা (শক্ত মল বের করার জন্য বিশেষ তরল মিশ্রণ ব্যবহার করা) গ্রহণ করা।
  • টয়লেটে বেশি সময় ব্যয় করা।
  • বৃদ্ধ বয়স।
  • পরিবারে কারও পাইলস থাকা।

ফিস্টুলার লক্ষণ গুলো জানেন কি?

  • মলদ্বার ফুলে যাওয়া
  • মলদ্বারে ব্যথা হওয়া
  • মলদ্বার থেকে পুঁজ ও আঠালো পদার্থ বের হওয়া

ফিস্টুলা প্রতিরোধে আমাদের করণীয় কি?

  • কোষ্ঠকাঠিন্য যেন না হয় সে বিষয়ে সতর্ক থাকা এবং নিয়মিত মলত্যাগ করা।
  • পর্যাপ্ত পরিমাণে শাকসবজি ও অন্যান্য আঁশযুক্ত খাবার খাওয়া
  • পানি (প্রতিদিন ৮-১০ গ্লাস) পান করা।
  • অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম না করা।
  • প্রতিদিন ৬-৮ ঘণ্টা ঘুমানো।
  • শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণ করা।
  • টয়লেটে অধিক সময় ব্যয় না করা।
  • সহজে হজম হয়, এমন খাবার খাওয়া।
  • ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া লাক্সেটিভ বা রেচক ঔষধ বেশি গ্রহণ না করা। মলত্যাগে বেশি চাপ না দেয়া।
  • দীর্ঘমেয়াদী ডায়রিয়া থাকলে তার চিকিৎসা নেওয়া।
  • পায়খানা চেপে না রাখা।
  • নিয়মিত ব্যায়াম করা।

ফিস্টুলা আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা কি?

সার্জারিই ফিস্টুলার একমাত্র চিকিৎসা। অপারেশনের মাধ্যমে অস্বাভাবিক সংযোগটি সম্পূর্ণভাবে তুলে আনতে হয়। যদি কোনো অংশ থেকে যায় তবে আবার রোগ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এমনকি জটিল আকারও ধারণ করতে পারে। ফিস্টুলা অপারেশনের পর পুনরায় হবেই এমনটা কিন্তু নয়। এটা মূলত নির্ভর করে ফিস্টুলার ধরন, সার্জনের অভিজ্ঞতা এবং অপারেশন পরবর্তী যত্নের ওপর।

তাই কারো ফিস্টুলা হলে চিন্তিত না হয়ে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। ফিস্টুলা সম্পর্কে নিজে সচেতন হউন এবং অন্যকেউ সচেতন করুন।

Previous Post

You Might Also Like

Comments are closed.