কারণ ও প্রতিকার, প্রতিরোধ, লক্ষণ, শারীরিক সমস্যা

অ্যাজমা রোগীর সঠিক চিকিৎসা পদ্ধতি

অ্যাজমা বা হাঁপানি শব্দটির সাথে কমবেশি সকলেই পরিচিত। কিন্তু এই সমস্যাটি দূর করার জন্য কি ধরনের চিকিৎসা প্রয়োজন সেটি অনেকেই বুঝে উঠতে পারেন না। এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিকে সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসা না দিলে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা দেখা দেয় এমকি তার মৃত্যুও হতে পারে। জানেন কি?

অ্যাজমা বা হাঁপানি হল শ্বাসতন্ত্রের প্রদাহ এবং বিশেষ কোনো কারণে স্বাভাবিকভাবে নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া। আবহাওয়া জনিত কারনে এই সমস্যাটি দেখা দেয়।

অ্যাজমার লক্ষণ সমূহ জানা থাকলে আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব। ঘনঘন কাশি, শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা, বুকের ভিতরে শোঁ শোঁ আওয়াজ, বুকে চাপ বোধ করা, নিশ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া ইত্যাদি এই সমস্যাটির লক্ষণীয় উপসর্গ।

অ্যাজমা বা হাঁপানি কি কারণে হয় সে সম্পর্কে ধারনা থাকলে এই শারীরিক সমস্যাটিকে অনেকাংশেই প্রতিরোধ করা সম্ভব।

  • ধুলাবালি, ফুলের পরাগরেনু, পাখির পালক, ছত্রাক, ইস্ট, সিগারেটের ধোঁয়া অ্যাজমার অন্যতম কারণ।
  • শ্বাসনালির সংক্রমণ, অ্যালার্জি জাতীয় কোন বস্তুর স্পর্শ ইত্যাদির কারণে এই সমস্যাটি দেখা দিতে পারে।
  • বিশেষ কিছু ঔষধ যেমনঃ বিটা ব্লকার, এন এস এ আই ডি, এসপিরিন ইত্যাদি ঔষধের কারণেও আপনি অ্যাজমায় আক্রান্ত হতে পারেন।

কিছু বিশেষ ব্যবস্থা অনুসরন করে অ্যাজমা বা হাঁপানি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

  • ধূমপান সম্পূর্ণরূপে এড়িয়ে চলতে হবে।
  • ঘুমানোর কক্ষে খুব বেশি আসবাবপত্র রাখবেন না।
  • টিভি, মশারিস্ট্যান্ড, সিলিং পাখার ওপর জমে থাকা ধুলোবালি
  • সপ্তাহে অন্তত একবার পরিষ্কার করতে হবে।
  • বাস, মোটর গাড়ি বা যে কোনো গাড়ীর ধোঁয়া থেকে দূরে থাকতে হবে।
  • এই সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তির উগ্র সুগন্ধি ব্যবহার করা উচিত নয়।
  • বাসায় হাঁস-মুরগি, বিড়াল, কুকুর, পোষা প্রাণী রাখা যাবে না।
  • ঘাসের ওপর বসে থাকা যাবে না। এই সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তির ঘাস বা গাছ কাটা থেকে বিরত থাকতে হবে।
  • অ্যাজমা আক্রান্ত ব্যক্তিকে শীতে অবশ্যই গরম পানি দিয়ে গোসল করতে হবে এবং মাফলার ব্যবহার করতে হবে।
  • সব সময় ভয় ও চিন্তামুক্ত থাকার চেষ্টা করতে হবে।
  • ঠান্ডা জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলতে হবে।
  • অ্যারোসল বা মশার কয়েল ঘরে ব্যবহার করবেন না।

অ্যাজমা বা হাঁপানি প্রতিরোধে কিছু বিষয় খেয়াল রাখতে হবে।

  • ধূলা, বালি, ঘরের ঝুল, ধোঁয়া, ঝাঁঝাল গন্ধ ইত্যাদি থেকে দূরে থাকা।
  • ঘরে কার্পেট না রাখা।
  • বালিশ, তোশক, ম্যাট্রেসে তুলা ব্যবহার না করে স্পঞ্জ ব্যবহার করা।
  • শীতকালে যথাসম্ভব গরম পানি ব্যবহার করা।
  • ধূমপান না করা।
  • ঠাণ্ডাজাতীয় খাবার, আইসক্রিম ইত্যাদি না খাওয়া।
  • মানসিক চাপ, উৎকণ্ঠা, দুশ্চিন্তাকে ইতিবাচক মনোভাবে মানিয়ে চলা।
  • পেশাগত কারণে অ্যাজমা হলে চেষ্টা করতে হবে স্থান বা পেশা পরিবর্তনের।
  • পরিশ্রম বা খেলাধুলার কারণে শ্বাসকষ্ট বাড়লে চেষ্টা করতে হবে পরিশ্রমের কাজ পরিহার করা।
  • ফুল বা শস্যক্ষেতের পরাগরেণু পরিহার করা।
  • অ্যাজমা বা হাঁপানি আক্রান্ত ব্যক্তির বাড়িতে কুকুর-বিড়াল না রাখা।

প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই উত্তম। তাই আসুন অ্যাজমা বা হাঁপানি প্রতিরোধ সম্পর্কে সচেতন হই। আপনার একটু সচেতনতাই পারে আপনাকে এবং আপনার পরিবারকে এই মারাত্মক সমস্যার হাত থেকে রক্ষা করতে।

Previous Post Next Post

You Might Also Like

Comments are closed.