টেস্টিকুলার ক্যান্সার (Testicular cancer)

শেয়ার করুন

বর্ণনা

টেস্টিকুলার ক্যান্সার অণ্ডকোষে দেখা দেয় যা অণ্ডথলিতে অবস্থিত, এই অণ্ডথলি হচ্ছে পুরুষাঙ্গের নিচে অবস্থিত একটি থলে সদৃশ অঙ্গ। এই অণ্ডকোষ হরমোন এবং প্রজননের জন্য শুক্রানু উৎপাদন করে থাকে। অন্যান্য ক্যান্সারের তুলনায় অন্ডকোষের ক্যান্সার খুব কম হয়ে থাকে। এই ধরনের ক্যান্সার যদি সমগ্র অন্ডকোষে ছড়িয়ে পরে তবুও এই ক্যান্সার সম্পূর্ণভাবে নিরাময়যোগ্য। এই রোগের ধরন এবং অবস্থা অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসার মধ্য থেকে আপনি যে কোন একটি চিকিৎসা পদ্ধতি গ্রহন করতে পারেন। নিয়মিত অন্ডকোষ পরীক্ষা করার মাধ্যমে এই ক্যান্সার প্রাথমিক অবস্থায় নির্নয় করা সম্ভব। এই রোগটি প্রাথমিক অবস্থায় নির্নয় করলে এটির চিকিৎসা সফলভাবে করা সম্ভব। 

কারণ

টেস্টিকুলার ক্যান্সার বা অণ্ডকোষের ক্যান্সারের নির্দিষ্ট কোন কারণ নেই

চিকিৎসকদের মতে অন্ডকোষের সুস্থ কোষ গুলোর পরিবর্তনের কারণে টেস্টিকুলার ক্যান্সার বা অণ্ডকোষের ক্যান্সার হয়। সুস্থ কোষের উৎপাদন এবং নিয়ন্ত্রিতভাবে বিভক্ত হওয়ার মাধ্যমে শরীরের কার্যকলাপ স্বাভাবিক থাকে। কিন্তু মাঝে মাঝে কিছু কোষের বৃদ্ধিতে অস্বাভাবিকতা দেখা যায়। যার ফলে কোষ গুলো অনিয়ন্ত্রিত ভাবে বৃদ্ধি পেতে থাকে। এই কারণে অন্ডকোষে নতুন কোষের প্রয়োজন না থাকলেও ক্যান্সার কোষ গুলো ধীরে ধীরে বিভক্ত হতে থাকে। এই ক্যান্সার কোষ গুলো একত্রিত হয়ে অন্ডকোষে পিন্ডের মত আকার ধারন করে। প্রায় সব ধরনের টেস্টিকুলার ক্যান্সার জার্ম সেল-এ অক্ষতিকর অবস্থায় থাকে। এই জার্ম সেল থেকে অপরিপক্ক শুক্রানু উৎপন্ন হয়। জার্ম সেল গুলো কি কারণে অস্বাভাবিক হয়ে পরে এবং ক্যান্সারে রূপান্তরিত হয় এর কারণ গুলো এখনো অজানা।

লক্ষণ

এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে চিকিৎসকেরা নিম্নলিখিত লক্ষণগুলি চিহ্নিত করে থাকেন:

ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়

টেস্টিকুলার ক্যান্সার বা অণ্ডকোষের ক্যান্সারের ঝুঁকিপূর্ন বিষয়গুলো হলোঃ

        ভ্রুণ বিকাশের সময় তলপেটে অন্ডকোষ গুলো গঠিত হয় এবং সন্তান জন্ম দেওয়ার পূর্বে অন্ডকোষ গুলো অন্ডথলিতে নির্গত হয়। যে সব ব্যক্তির অন্ডকোষ গুলো স্বাভাবিকভাবে নির্গত হয় তাদের টেস্টিকুলার ক্যান্সার বা অণ্ডকোষের ক্যান্সার হবার ঝুঁকি কম এবং যে সব ব্যক্তির অন্ডকোষ গুলো স্বাভাবিক ভাবে নির্গত হয় না তাদের এই ক্যান্সার হবার ঝুঁকি বেশি। অপারেশনের মাধ্যমে অন্ডকোষ অন্ডথলিতে স্থানান্তর করার কারণেও এই ক্যান্সার হবার ঝুঁকি বেড়ে যায়। বেশিরভাগ সময়ে বংশগত কারণে এই ক্যান্সার হয়ে থাকে।                     

         বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা যেমনঃ ক্লিনফিলটারস সিনড্রোম এর কারণে অণ্ডকোষ অস্বাভাবিক ভাবে বৃদ্ধি পায়যার ফলে অণ্ডকোষের ক্যান্সার হবার ঝুকি বেড়ে যায়।               

         যদি পরিবারের কারো টেস্টিকুলার ক্যান্সার থাকে তাহলে এই ক্যান্সার হবার ঝুকি বেড়ে যায়।                              

         অপ্রাপ্ত এবং কম বয়সের পুরুষদের এই ক্যান্সার হবার সম্ভাবনা বেশি। সাধারনত যাদের বয়স ১৫ থেকে ৩৫ তাদের এই ক্যান্সার বেশি হয়। তবে যে কোনো বয়সের ব্যক্তিদের টেস্টিকুলার ক্যান্সার হতে পারে।

         টেস্টিকুলার ক্যান্সার কৃষ্ণাঙ্গদের তুলনায় শেতাঙ্গদের বেশি হয়

যারা ঝুঁকির মধ্যে আছে

লিঙ্গঃ পুরুষদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ২ গুন বেশি। মহিলাদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ৬৬৮ গুন কম।  

জাতিঃ কৃষ্ণাঙ্গদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ৫ গুন কম। অন্যদিকে শেতাঙ্গ, হিস্প্যানিক এবং অন্যান্য জাতির এই রোগ নির্ণয়ের গড়পড়তা সম্ভাবনা রয়েছে।

সাধারণ জিজ্ঞাসা

উত্তরঃ অধিকাংশ টেস্টিকুলার ক্যান্সার খুব দ্রুত ছড়ায়, এমনকি অধিকাংশ টেস্টিকুলার ক্যান্সার নির্নয়ের প্রাথমিক অবস্থাতেই ছড়িয়ে পরে। প্রাথমিক অবস্থাতে এই টিউমার ছোট থাকে। অণ্ডকোষের পরিপক্ব টিরাটোমাস ধীরে ধীরে উৎপন্ন হয় এবং খুব ধীর গতিতে ছড়ায়। তবে টেস্টিকুলার বা অণ্ডকোষের ক্যান্সার হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।   

উত্তরঃ অধিকাংশ ক্ষেত্রে টেস্টিকুলার ক্যান্সার কম বয়সের পুরুষদের হয়। প্রাথমিক অবস্থায় অন্ডকোষে ব্যথামুক্ত শক্তভাব এবং হাত দিয়ে স্পর্শ করলে অস্বাভাবিকতা অনুভূত হয়। বয়ঃসন্ধিক্ষনের পরে সকল পুরুষদের নিয়মিতভাবে অন্ডকোষ পরীক্ষা করা উচিত। অন্ডকোষে অস্বাভাবিকতা অনুভূত হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।                                                                            

হেলথ টিপস্‌

টেস্টিকুলার ক্যান্সার সম্পূর্নভাবে প্রতিরোধ করা যায় না। কিছু কিছু চিকিৎসকের মতে, নিয়মিতভাবে অন্ডকোষ পরীক্ষা করার মাধ্যমে প্রাথমিক অবস্থাতেই টেস্টিকুলার ক্যান্সার নির্নয় করা সম্ভব। তবে সব চিকিৎসকেরা একমত নন। অন্ডকোষের পরীক্ষা নিজে নিজেই করা সঠিক কিনা এই সম্পর্কে আপনার চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করুন। যদি আপনি নিজের অন্ডকোষ পরীক্ষা নিজেই করার সিদ্ধান্ত নেন তাহলে হালকা গরম পানি দিয়ে গোসল করার পরে অন্ডকোষ পরীক্ষা করতে হবে। হালকা গরম পানি আপনার অন্ডকোষকে স্বাভাবিক অবস্থায় আসতে সাহায্য করবে এবং অন্ডকোষের যে কোনো ধরনের অস্বাভাবিকতা নির্নয় করতে সাহায্য করবে।                        

         অন্ডকোষ পরীক্ষা করার জন্য নিন্মলিখিত ধাপ গুলো অনুসরন করতে হবেঃ

         আয়নার সামনে দাড়িয়ে অন্ডথলির ত্বকের উপরে যে কোনো ধরনের ফোলা আছে কিনা তা লক্ষ করতে হবে।

         দুই হাত দিয়ে প্রতিটি অন্ডকোষ পরীক্ষা করতে হবে।

         অন্ডকোষ গুলো সাধারনত মসৃণ, ডিম্বাকার এবং কিছুটা শক্ত প্রকৃতির হয়। একটি অন্ডকোষ অন্য একটি অন্ডকোষ থেকে সামান্য পরিমান বড় হয়ে থাকে। নিয়মিতভাবে এই ধরনের পরীক্ষা করার মাধ্যমে আপনি আপনার অন্ডকোষ সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট ধারনা পেতে পারেন এবং অন্ডকোষের যে কোনো ধরনের পরিবর্তন সম্পর্কে সচেতন থাকতে পারবেন। আপনি যদি অন্ডকোষে পিন্ড লক্ষ করেন তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।                           

বিশেষজ্ঞ ডাক্তার

প্রফেসর ডাঃ জামানুল ইসলাম

ইউরোলজি ( মূত্রতন্ত্রের সার্জারী) ( Urology)

প্রফেসর ডাঃ সোহরাব

ইউরোলজি ( মূত্রতন্ত্রের সার্জারী) ( Urology)

প্রফেসর ডাঃ এম.এ সালাম

ইউরোলজি ( মূত্রতন্ত্রের সার্জারী) ( Urology)

সহকারী অধ্যাপক ডাঃ মোঃ সালাউদ্দিন ফারুক

ইউরোলজি ( মূত্রতন্ত্রের সার্জারী) ( Urology)

এমবিবিএস, এফসিপিএস(সার্জারী), এমএস(ইউরোলজি)