রিউম্যাটয়েড আর্থ্রাইটিস (Rheumatoid arthritis)

শেয়ার করুন

বর্ণনা

রিউম্যাটয়েড আর্থ্রাইটিস একটি ক্রনিক ইনফ্লামেটোরি (জ্বালাপোড়া) ব্যাধি যা হাত ও পায়ের ক্ষুদ্রাকারের অস্থিসন্ধির (জয়েন্ট) ক্ষতি করে থাকে। অস্টিওআর্থ্রাইটিসের ক্ষেত্রে অস্থিসন্ধির তরুণাস্থি ক্ষয় হতে থাকে এবং নষ্ট হয়ে যায়। অপরদিকে, রিউম্যাটয়েড আর্থ্রাইটিসের ক্ষেত্রে হাড়ের সংযোগস্থলের আস্তরণের ক্ষতি হয় ও ব্যথা হওয়ার সাথে সাথে হাড় ফুলে যায়। যার ফলে হাড় ক্ষয় হতে শুরু করে ও হাড়ের গঠনে বিকৃতি দেখা দেয়। রিউম্যাটয়েড আর্থ্রাইটিস একটি অটোইমিউন ডিসঅর্ডার (Autoimmune Disorder), কারণ এই রোগের ফলে প্রতিরোধকারী কোষগুলো ভুলক্রমে শরীরের টিস্যুগুলোকে আক্রমণ করে থাকে। হাড়ের সংযোগস্থল ছাড়াও এ রোগ দেহের অন্যান্য অঙ্গ যেমন ত্বক, চোখ, ফুসফুস ও রক্তনালীরও ক্ষতি করে থাকে। রিউম্যাটয়েড আর্থ্রাইটিস যে কোনো বয়সেই হতে পারে। তবে এটি ৪০ বছর বয়সের পর বেশি হয়। মহিলারা এই রোগে বেশি আক্রান্ত হয়ে থাকে। চিকিৎসার সাহায্যে এ রোগের লক্ষণগুলো নিয়ন্ত্রণ করা যায় এবং হাড়ের সংযোগস্থল নষ্ট হওয়া প্রতিরোধ করা যায় ।

কারণ

সাইনোভিয়াম হল হাড়ের সংযোগস্থলের বা অস্থিসন্ধির চারপাশের আস্তরণ। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভুল করে এই সাইনোভিয়ামকে আক্রমণ করলে রিউম্যাটয়েড আর্থ্রাইটিস দেখা দেয়। এর ফলে সাইনোভিয়াম পুরু বা মোটা হয়ে যায় এবং হাড়ের সংযোগস্থলসহ হাড় ও তরুণাস্থির ক্ষতিসাধন করে। যে কোন অস্থিসন্ধিই লিগামেন্ট ও টেন্ডনের সাহায্যে দৃঢ় ভাবে আটকে থাকে। রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসের ফলে এই লিগামেন্ট ও টেন্ডনগুলো দুর্বল হয়ে পড়ে এবং ধীরে ধীরে হাড়ের সংযোগস্থলে ত্রুটি দেখা দিতে শুরু করে। সরাসরি জিনগত সমস্যার জন্য রিউম্যাটয়েড আর্থ্রাইটিস না হলেও জিনগত সমস্যা এ রোগ হওয়ার ক্ষেত্রে অন্যান্য পরিবেশগত উপাদানকে (নির্দিষ্ট ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া) সক্রিয় করে তোলে।

ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়

নিম্নলিখিত কারণে রিউম্যাটয়েড আর্থ্রাইটিসের ঝুঁকি বৃদ্ধি পেতে পারে:

  • লিঙ্গঃ মহিলাদের রিউম্যাটয়েড আর্থ্রাইটিস বেশি হয়ে থাকে।
  • বয়সঃ ৪০-৬০ বছর বয়সের মধ্যে এ রোগ বেশি হয়ে থাকে।
  • পারিবারিক সূত্রঃ কোনো ব্যক্তির পরিবারের অন্য কোনো সদস্যের রিউম্যাটয়েড আর্থ্রাইটিস থাকলে তার এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে। 

যারা ঝুঁকির মধ্যে আছে

লিঙ্গঃ মহিলাদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের গড়পড়তা সম্ভাবনা রয়েছে। পুরুষদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ২ গুণ বেশি।

জাতিঃ কৃষ্ণাঙ্গদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ১ গুণ কম। শ্বেতাঙ্গ, হিস্প্যানিক ও অন্যান্য জাতির মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের গড়পড়তা সম্ভাবনা রয়েছে। 

সাধারণ জিজ্ঞাসা

উত্তরঃ রিউম্যাটয়েড আর্থ্রাইটিস বংশগত কারণে হয় না। তবে নির্দিষ্ট কিছু জিনের প্রভাবে এ রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

উত্তরঃ টেস্ট ছাড়া এ রোগটি নির্ণয় করা সম্ভব নয়। যথাযথ চিকিৎসা ও সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয়ের মাধ্যমে এর কারলে সৃষ্ট বিকলাঙ্গতা প্রতিরোধ করা সম্ভব।

হেলথ টিপস্‌

নিম্নলিখিত পন্থা অবলম্বন করে রিউম্যাটয়েড আর্থ্রাইটিসের ঝুঁকি কমানো সম্ভব:

  • নিয়মিত ব্যায়াম ও অনুশীলন করতে হবে, এতে মাংশপেশী দৃঢ় ও মজবুত হয়।
  • হাড় ও পেশীর ব্যথা নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য বরফ বা ঠাণ্ডা পানি প্রয়োগ বা গরম কাপড়ের সাহায্যে সেক দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।
  • মানসিক চাপ ও ব্যথা উপশমের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে বিশ্রাম করতে হবে।

বিশেষজ্ঞ ডাক্তার

ডা: শাহ হাবিবুর রহমান

রিউম্যাটোলজি ( বাতরোগ) ( Rheumatology)

ডাঃ রওশন আরা স্বপ্না

রিউম্যাটোলজি ( বাতরোগ) ( Rheumatology)

প্রফেসর ডা: মুজিবুর রহমান

রিউম্যাটোলজি ( বাতরোগ) ( Rheumatology)

ডাঃ: মতিউর রহমান

রিউম্যাটোলজি ( বাতরোগ) ( Rheumatology)

প্রফেসর ডা: মিনহাজ রহিম চৌধুরী

রিউম্যাটোলজি ( বাতরোগ) ( Rheumatology)