রিউম্যাটিক ফিভার / বাতজ্বর (Rheumatic fever)

শেয়ার করুন

বর্ণনা

বাতজ্বর একটি ইনফ্লামেটোরি (প্রদাহজনিত) রোগ। স্কারলেট ফিভার (Scarlet Fever) এবং স্ট্রেপ্টোকক্কাস ব্যাকটেরিয়া (group-A streptococcus bacteria) দ্বারা সৃষ্ট গলার ইনফেকশন (strep throat) সম্পূর্ণভাবে চিকিৎসা করা না হলে বাতজ্বর হতে পারে। ৫-১৫ বছর বয়সের শিশুদের বাতজ্বর বেশি হয়ে থাকে, তবে এটি পূর্ণবয়স্কদেরও হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বাতজ্বরের কারণে হৃৎপিণ্ডে স্থায়ীভাবে ক্ষতি হতে পারে। এর ফলে হার্ট ফেইলিয়রও হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যথাযথ চিকিৎসার সাহায্যে বাতজ্বর হওয়া প্রতিরোধ করা যায়। একই সাথে ব্যথা ও অন্যান্য লক্ষণ কমানো যায় এবং ইনফ্লামেশনের জন্য টিস্যু নষ্ট হওয়া থেকে রক্ষা করা যায়।

কারণ

গ্রুপ-এ স্ট্রেপ্টোকক্কাস ব্যাকটেরিয়া দ্বারা গলায় ইনফেকশন হলে এবং এর যথাযথ চিকিৎসা না হলে বাতজ্বর দেখা দেয়। তবে গলা ছাড়া এই ইনফেকশন ত্বক বা শরীরের অন্য অংশে হলে খুব কম ক্ষেত্রে বাতজ্বর হয়ে থাকে। ঠিক কি কারণে গলায় ইনফেকশন হলে বাতজ্বর হয় তা নির্দিষ্টভাবে বলা যায় না। তবে এ অবস্থায় ব্যাকটেরিয়া শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উপর প্রভাব ফেলে বলে বাতজ্বর দেখা দেয়। আমাদের শরীরের টিস্যুতে যে ধরনের প্রোটিন থাকে, ঠিক একই ধরনের প্রোটিন স্ট্রেপ ব্যাকটেরিয়াতেও পাওয়া যায়। ফলে রোগ প্রতিরোধকারী কোষগুলো ব্যাকটেরিয়ার স্থলে শরীরের টিস্যুকে, বিশেষ করে ত্বক, হৃৎপিণ্ড, হাড়ের সংযোগস্থল ও কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের টিস্যুকে আক্রমণ করে। এর ফলে ইনফ্লামেশন (জ্বালাপোড়া) দেখা দেয়। স্ট্রেপ থ্রোটের জন্য যে এন্টিবায়োটিক দেওয়া হয়, তা কোর্স শেষ না হওয়া পর্যন্ত চালিয়ে যেতে হবে এবং সম্পূর্ণরূপে সেরে না ওঠা পর্যন্ত চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হবে। এতে বাতজ্বর হওয়ার সম্ভাবনা হ্রাস পায়।

লক্ষণ

এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে চিকিৎসকেরা নিম্নলিখিত লক্ষণগুলি চিহ্নিত করে থাকেন:

চিকিৎসা

 চিকিৎসকেরা এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিম্নলিখিত ঔষধগুলি গ্রহণ করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন:  

aspirin benzyl penicillin
erythromycin prednisolone

চিকিৎসকেরা এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিম্নলিখিত টেস্টগুলি করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন:  

ই-এস-আর (এরাইথ্রোসাইট সেডিমেন্টেশন রেট) (ESR, Erythrocyte Sedimentation Rate)
ব্লাড কালচার (Blood culture)
এ-এন-এ/এ-এন-এফ (ANA/ANF)
এ-এস-ও টাইটার (ASO titre)
আর-এ/আর-এফ (RA/RF)
এক্স-রে, চেস্ট পি-এ ভিউ (X-ray, Chest P/A view)
থ্রোট কালচার (Throat culture)

ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়

যে সব কারণে বাতজ্বরের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায় সেগুলি হল:

  • জিনগত কারণে বাতজ্বর হওয়ার সম্ভাবনা বাড়তে পারে।
  • নির্দিষ্ট কিছু স্ট্রেপ ব্যাকিটেরিয়ার প্রভাবে বাতজ্বরের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।
  • পরিবেশের বিভিন্ন উপাদানের প্রভাবে বাতজ্বর হওয়ার সম্ভাবনা বাড়তে পারে, যেমন- ঘনবসতি ও অস্বাস্থ্যকর স্যানিটেশন ব্যবস্থা।

যারা ঝুঁকির মধ্যে আছে

লিঙ্গঃ মহিলাদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের গড়পড়তা সম্ভাবনা রয়েছে। পুরুষদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা একগুণ কম।

জাতিঃ শ্বেতাঙ্গদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের গড়পড়তা সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষ্ণাঙ্গদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা বারগুণ কম। হিস্পানিকদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা নয় গুণ কম। অন্যান্য জাতির মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ছয়গুণ কম।

সাধারণ জিজ্ঞাসা

উত্তরঃ খুব কম ক্ষেত্রেই এমন হয়ে থাকে। তবে বাতজ্বতের ফলে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের ক্ষতি হয়ে থাকে এবং এর প্রভাবে হৃৎপিন্ডের ক্ষতি হলে রোগীর মৃত্যুও হতে পারে।

উত্তরঃ এ রোগ ছোঁয়াচে নয়, তবে গলায় ইনফেকশন এর ব্যাকটেরিয়া হাঁচি, কাশির মাধ্যমে ছড়াতে পারে।

উত্তরঃ প্রতিবার বাতজ্বরের কারণে হার্টের ক্ষতি হতে পারে। তবে যথাযথ যত্ন ও নিয়মিত পেনিসিলিন ইঞ্জেকশনের সাহায্যে যে কোনো শিশু সুস্থভাবে জীবনযাপন করতে পারে।

উত্তরঃ একাধিকবার বাতজ্বর হলে হার্টের ক্ষতি হওয়ার সম্ভবনা কতটুকু?

উত্তরঃ একাধিকবার বাতজ্বর হলে হার্টের ক্ষতি হওয়ার সম্ভবনা কতটুকু?

উত্তরঃ একাধিকবার বাতজ্বর হলে হার্টের ক্ষতি হওয়ার সম্ভবনা কতটুকু?

হেলথ টিপস্‌

গলায় ইনফেকশন এর জন্য যে এন্টিবায়োটিক দেওয়া হয় তা কোর্স শেষ না হওয়া পর্যন্ত চালিয়ে যেতে হবে এবং সম্পূর্নভাবে সেরে না ওঠা পর্যন্ত চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হবে। এইভাবে বাতজ্বর প্রতিরোধ করা সম্ভব।

বিশেষজ্ঞ ডাক্তার

ডাঃ রওশন আরা স্বপ্না

রিউম্যাটোলজি ( বাতরোগ) ( Rheumatology)

ডাঃ: মতিউর রহমান

রিউম্যাটোলজি ( বাতরোগ) ( Rheumatology)

প্রফেসর ডা: মিনহাজ রহিম চৌধুরী

রিউম্যাটোলজি ( বাতরোগ) ( Rheumatology)

প্রফেসর ডা: মুজিবুর রহমান

রিউম্যাটোলজি ( বাতরোগ) ( Rheumatology)

ডা: শাহ হাবিবুর রহমান

রিউম্যাটোলজি ( বাতরোগ) ( Rheumatology)