রেক্টাল ডিজঅর্ডার/মলাশয়ের রোগ (Rectal disorder)

শেয়ার করুন

বর্ণনা

রেক্টাম হলো বৃহদান্ত্রের শেষ অংশ যা মলদ্বারের কাছে অবস্থিত। বিপাক ক্রিয়ার পর খাদ্যবস্তুর অবশিষ্টাংশ থেকে যে মল গঠিত হয় তা রেক্টামে জমা থাকে এবং মলত্যাগের মাধ্যমে তা দূষিত পদার্থ হিসেবে দেহ থেকে বেরিয়ে যায়। মলাশয়ের রোগের মধ্যে পাইলস, অ্যাবসেস, ইনকন্টিনেন্স (মল নিয়ন্ত্রণে সমস্যা), রেক্টাল প্রল্যাপ্স এবং ক্যান্সার অন্যতম।

কারণ

নিম্নলিখিত কারনে মলাশয়ের রোগ হতে পারেঃ

  • ব্যাক্টেরিয়াল ইনফেকশন
  • ক্রনিক কন্সটিপেশন/ক্রনিক কোষ্ঠ্যকাঠিন্য
  • গর্ভাবস্থা
  • পূর্বে মলাশয়ের সার্জারি
  • ডায়রিয়া
  • সিস্টিক ফাইব্রোসিস
  • হূপিংকফ
  • পেলভিক ফ্লোর ডিজফাংশন
  • ধূমপান
  • অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস
  • নার্ভ ডিজিজ
  • জেনেটিক বা বংশগত
  • ইডিওপ্যাথিক বা অজানা কারন

লক্ষণ

এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে চিকিৎসকেরা নিম্নলিখিত লক্ষণগুলি চিহ্নিত করে থাকেন:

চিকিৎসা

 চিকিৎসকেরা এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিম্নলিখিত ঔষধগুলি গ্রহণ করার পরামর্শ দিয়ে থাকেনঃ

ডাঁটা সেন্টারে কোন প্রকার তথ্য পাওয়া যায়নি

চিকিৎসকেরা এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিম্নলিখিত টেস্টগুলি করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন:  

সি-বি-সি (কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট) (CBC, Complete Blood Count)
অ্যানো-রেক্টাল এক্সামিনেশন (Ano-rectal examination)
এনোসকপি (Anoscopy)
DRE, Digital Rectal Examination

ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়

রেক্টাল ক্যান্সারের ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়গুলো নিচে দেওয়া হলোঃ

  • বয়স্ক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে
  • পূর্বে কখনো কলোরেক্টাল ক্যান্সার বা পলিপ হয়ে থাকলে।
  • ইনফ্লামেটরি ইন্টেস্টাইনাল কন্ডিশন বা অন্ত্রের প্রদাহজনিত সমস্যা।
  • পরিবারের অন্য কারো কোলন ক্যান্সার বা কোলন পলিপস থাকলে।
  • প্রতিদিন আঁশযুক্ত খাবার কম খেলে ও চর্বিযুক্ত খাবার বেশি খেলে।
  • কর্মবিমুখ ও অলস জীবনযাপন করলে।
  • ডায়াবেটিস ও স্থূলতার কারনে।
  • ধূমপান ও মদ্যপান করলে
  • ক্যান্সারের চিকিৎসার জন্য রেডিয়েশন থেরাপি দিলে।

যারা ঝুঁকির মধ্যে আছে

লিঙ্গঃ পুরুষদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের গড়পড়তা সম্ভাবনা রয়েছে। অপরদিকে, মহিলাদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা একগুণ কম।

জাতিঃ কৃষ্ণাঙ্গ ও শ্বেতাঙ্গদের ক্ষেত্রে এই রোগ নির্ণয়ের গড়পড়তা সম্ভাবনা রয়েছে। অপরদিকে, হিস্পানিক ও অন্যান্য জাতির ক্ষেত্রে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা একগুণ কম।

সাধারণ জিজ্ঞাসা

উত্তরঃ এটি ক্যান্সার বা টিউমারের ধরণ এবং এটি কোন পর্যায়ে আছে তার উপর নির্ভর করে। তবে ক্যান্সার ধরা পড়ার সাথে সাথে দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা উচিত। ক্যান্সার প্রথম পর্যায়ে ধরা পড়লে যথাসময়ে চিকিৎসা শুরু করলে ব্যক্তি কয়েক বছর পর্যন্ত বেশি বাঁচতে পারে।

উত্তরঃ সাধারণত ক্যান্সারের প্রথম পর্যায়ে কোনো লক্ষণ দেখা দেয় না। ক্যান্সার পলিপ থেকে সৃষ্টি হয় এবং দীর্ঘসময় ধরে তা ক্যান্সারের রূপান্তরিত হতে থাকে। কোলোনস্কপির সাহায্যে এই পলিপ অপারেশন করা সম্ভব। ক্যান্সার গুরুতর পর্যায়ে চলে গেলে মলত্যাগের সময় ব্যাথা হতে পারে এবং দেহের অন্যান্য অংশ যেমনঃ যকৃত, ফুসফুস, মস্তিষ্ক ও অস্থিতে ছড়িয়ে পড়ে।

হেলথ টিপস্‌

কোনো ব্যক্তির রেক্টাল ডিজঅর্ডারের ঝুঁকি থাকলে ৫০ এর শুরুতেই স্ক্রিনিং করানো উচিত। আবার যাদের এ রোগের ঝুঁকি বেশি থাকে (বংশগত ও জেনেটিক কারণে) তাদের ৫০ এর আগেই স্ক্রিনিং টেস্ট করানো উচিত।

বিভিন্ন উপায়ে স্ক্রিনিং করানো যায়, তবে প্রত্যেকটিরই ভালো ও খারাপ দিক রয়েছে। তাই স্ক্রিনিং টেস্ট করানোর আগে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।

নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন ও দৈনন্দিন বিভিন্ন অভ্যাসের পরিবর্তনের মাধ্যমে এ রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব।

  • প্রচুর পরিমাণে শস্যজাতীয় খাবার, ফলমূল ও শাকসবজি খেতে হবে।
  • মদ্যপান ও ধূমপান পরিহার করতে হবে।
  • ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।

বিশেষজ্ঞ ডাক্তার

প্রফেসর ডাঃ এস.এম.এ. এরফান

কোলোরেক্টাল সার্জারী ( Colorectal Surgery)

প্রফেসর ডা: একেএম ফজলুল হক

কোলোরেক্টাল সার্জারী ( Colorectal Surgery)

প্রফেসর ডা: এস.এম.এ ইরফান

কোলোরেক্টাল সার্জারী ( Colorectal Surgery)