পাইলোরিক স্টেনোসিস (Pyloric stenosis)

শেয়ার করুন

বর্ণনা

পাইলোরিক স্টেনোসিস শিশুদের একটি এমন বিরল অবস্থা যার কারণে পাকস্থলী এবং ক্ষুদ্রান্তে মধ্যবর্তী স্থানের ফাঁকা অংশে সমস্যা তৈরী হয়। এই অংশটিকে পাইলোরাস বলে এবং এটি একটি মাংসল কপাটিকা যা খাদ্য বস্থুকে পাকস্থলীকে ধরে রাখে যতক্ষণ না তা হজম প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপের জন্য তৈরী হচ্ছে।

এই রোগ হলে পাইলোরাস মাংসপেশী মোটা হয়ে যায় এবং শিশুদের ক্ষুদ্রান্ত্রে খাবার প্রবেশ করতে বাধা প্রদান করে। পাইলোরিক স্টেনোসিসের কারণে উপচে বমি আসা, পানিশূণ্যতা এবং ওজন হ্রাস পেতে পারে। যেসব শিশুরা এ রোগে আক্রান্ত তাদের সবসময় ক্ষুধা লাগে।

অপারেশনের মাধ্যমে এই রোগ থেকে সেরে উঠা যায়।


কারণ

যে সব কারণে এই রোগ হয়ে থাকে সেগুলো হলঃ

  •   পারিবারিক সূত্রে এই রোগ থাকলে।
  •   শিশুর লিঙ্গ
  •   জিনগত অস্বাভাবিকতা
  •   শিশু জন্মের পর পর নির্দিষ্ট কিছু ঔষধ সেবন করলে (যদিও বেশিরভাগ নবজাতকদের জন্মের পর পর কিছু অ্যান্টিবায়োটিক দেয়া হয়)।

লক্ষণ

এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে চিকিৎসকেরা নিম্নলিখিত লক্ষণগুলি চিহ্নিত করে থাকেন:

ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়

যে সকল বিষয়ের কারণে এই রোগ হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়ঃ

  •   লিঙ্গঃ মহিলাদের তুলনায় পুরুষদের এই রোগ বেশি হয়ে থাকে।
  •   পারিবারিক সূত্রঃ পরিবারের কারও এই সমস্যা থাকলে এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে।
  •   জন্মের পর পর অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করলেঃ নবজাতকদের জন্মের ৫ সপ্তাহ পর হুপিং কাশির জন্য অ্যান্টিবায়োটিক দেয়া হয় যা এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়। এছাড়াও যে সব মা দের দেরিতে গর্ভধারণ করার জন্য অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করতে দেয়া হয় তাদের গর্ভের সন্তানদের পাইলোরিক স্টেনোসিসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।


যারা ঝুঁকির মধ্যে আছে

লিঙ্গঃ পুরুষদের এ রোগ নির্ণয়ের গড়পড়তা সম্ভাবনা রয়েছে। মহিলাদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ২ গুণ কম।

জাতিঃ শ্বেতাঙ্গ, হিস্পানিক এবং অন্যান্য জাতিদের মধ্যে এ রোগ নির্ণয়ের গড়পড়তা সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষ্ণাঙ্গদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ১ গুণ কম।


সাধারণ জিজ্ঞাসা


উত্তরঃ এক্ষেত্রে গ্যাস্ট্রোইন্টারোলজিস্টের শরণাপন্ন হওয়া উচিৎ। চিকিৎসক বিভিন্ন শারীরিক পরীক্ষা এবং এন্ডোস্কপিক সহ অন্যান্য টেস্টের মাধ্যমে কি কারণে এই রোগ হয়েছে তা নির্ণয় করার চেষ্টা করবেন।   

উত্তরঃ এই রোগের কারণে উপচে বমি আসে। শিশু খাবার খাওয়ার ৩০ মিনিট পর এই ধরনের বমি হয়। শুরুর দিকে বমি মৃদু বা হালকা মাত্রার হয়ে থাকে তবে ধীরে ধীরে পাইলোরাস সংকীর্ণ হতে থাকে যার ফলে তা আরো তীব্র হতে পারে। এরকম এক দিন বা কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত পর্যন্ত চলতে পারে।

উত্তরঃ কারণ এ অবস্থায় পাকস্থলীর সামনের অংশ ব্লক হয়ে যায় এবং শিশু বমি করতে থাকে, এর থেকে আরো গুরুতর অবস্থা সৃষ্টি হতে পারে। এ রোগের অন্যতম বড় সমস্যা হল পানিশূণ্যতা। যখন একটি শিশু বারবার বমি করতে থাকে তখন তার দেহে প্রয়োজনীয় পানির চাহিদা পূরণ হতে পারে না এবং যার ফলে শিশুর শরীরে পুষ্টির অভাব দেখা যায়। প্রাপ্ত বয়স্কদের তুলনায় শিশুদের শারীরিক গঠন অনেক ছোট হয়ে থাকে যার ফলে এদের শরীরে পানি স্বল্পতা দেখা দিতে প্রাপ্ত বয়স্কদের মত তারা তা শরীরের সাথে মানিয়ে নিতে পারে না। সুস্থ থাকার জন্য পটাসিয়াম, সোডিয়ামের মত গুরুত্বপূর্ণ মিনারেলস্‌ বমির সাথে বেরিয়ে যায়। শরীরে পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি এবং মিনারেলসে্র চাহিদা পূরণ না হলে শিশু দ্রুত দূর্বল এবং অসুস্থ হয়ে পড়ে।

এ রোগের অন্যান্য সমস্যার মধ্যে ওজন হ্রাস পাওয়া অন্যতম। যে সকল শিশু বমি করে তারা খাবার থেকে পর্যাপ্ত পুষ্টি গ্রহণ করতে পারেনা ফলে তাদের ওজন হ্রাস পায়।


হেলথ টিপস্‌

সাধারণত এই রোগ প্রতিরোধের তেমন কোন উপায় নেই। তবে গর্ভাবস্থার শেষের দিকে ইরাইথ্রোমাইসিন এবং নবজাতক জন্মের শুরু দিকে কোন অ্যান্টিবায়োটিক সেবন না করানোর মাধ্যমে কোন কোন ক্ষেত্রে এই সমস্যা প্রতিরোধ করা যায়। 

বিশেষজ্ঞ ডাক্তার

প্রফেসর ডা:এম.এস. আরফিন

গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজি ( খাদ্যনালী, পরিপাকতন্ত্র) ( Gastroenterology)

প্রফেসর মো: আনিছুর রহমান

গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজি ( খাদ্যনালী, পরিপাকতন্ত্র) ( Gastroenterology)

প্রফেসর ডা: এম.এ মাসুদ

গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজি ( খাদ্যনালী, পরিপাকতন্ত্র) ( Gastroenterology)

ডা: চঞ্চল কুমার ঘোষ

গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজি ( খাদ্যনালী, পরিপাকতন্ত্র) ( Gastroenterology)

প্রফেসর ডা: এম.এ মাসুদ

গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজি ( খাদ্যনালী, পরিপাকতন্ত্র) ( Gastroenterology)

প্রফেসর ডা: এ.এস.এম.এ রাইহান

গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজি ( খাদ্যনালী, পরিপাকতন্ত্র) ( Gastroenterology)

প্রফেসর ডা: মো: হাসান মাসুদ

গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজি ( খাদ্যনালী, পরিপাকতন্ত্র) ( Gastroenterology)