পালমোনারী হাইপারটেনশন (Pulmonary hypertension)

শেয়ার করুন

বর্ণনা

চিকিৎসাশাস্ত্রে উচ্চ রক্ত চাপকে হাইপারটেনশন বলে। শরীর ও মনের স্বাভাবিক অবস্থায় রক্তচাপ যদি বয়সের জন্য নির্ধারিত মাত্রার উপরে অবস্থান করতে থাকে তবে তাকে উচ্চ রক্ত চাপ বা হাইপারটেনশন বলে। পালমোনারী হাইপারটেনশন হল এর একটি ধরন যা পালমোনারী ধমনী ও হৃৎপিণ্ডের ডান দিকে হয়ে থাকে। পালমোনারী ধমনী হৃৎপিণ্ড থেকে ফুসফুসে অক্সিজেনবিহীন রক্ত বহন করে। এই ধমনী সরু হয়ে গেলে কিংবা ব্লক বা নষ্ট হয়ে গেলে পালমোনারী হাইপারটেনশন হয়ে থাকে। এর কারণে ফুসফুসের মধ্য দিয়ে রক্ত সঞ্চালনে সমস্যা হয় এবং ধমনীতে চাপ বেড়ে যায় যার ফলে রক্ত সঞ্চালনের জন্য ডান অলিন্দের স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি সংকুচিত ও প্রসারিত হতে হয়। ফলশ্রুতিতে ধীরে ধীরে হৃদপেশী দূর্বল হয়ে পড়ে এবং হার্ট ফেইলিয়র হয়ে থাকে।

পালমোনারী হাইপারটেনশন একটি মারাত্নক সমস্যা এবং এটি সম্পূর্ণভাবে ভাল হয় না। তবে ঠিকভাবে চিকিৎসা করানো হলে এর লক্ষণের তীব্রতা কমে যায় এবং ব্যক্তি স্বাভাবিকভাবে জীবন যাপন করে থাকে।


কারণ

যে সব কারণে এই রোগ হয়ে থাকেঃ

  • ক্রনিক লিভার ডিজিজ এবং লিভার সিরোসিস, রিউম্যাটিক ডিজঅর্ডার- স্ক্লেরোডার্মা, সিস্টেমিক লুপাস ইরাইথেম্যাটোসিস এবং ফুসফুসের বিভিন্ন সমস্যা- টিউমার, এমফাইসিমা, ক্রনিক অবস্ট্রাক্টিভ পালমোনারী ডিজিজ ও পালমোনারী ফাইব্রোসিসের কারণে এই রোগ হয়ে থাকে।
  • হার্টের বিভিন্ন সমস্যা- অ্যাওর্টিক ভাল্ভ ডিজিজ, মাইট্রাল ভাল্ভ ডিজিজ এবং কঞ্জেনিটাল হার্ট ডিজিজের কারণে এবং হার্ট ফেইলিয়রের চিকিসা করানো না হলে এই রোগ হয়ে থাকে।
  • পালমোনারী ধমনীতে রক্ত জমাট বাধলে পালমোনারী হাইপারটেনশন হয়ে থাকে।
  • অনেক উঁচু স্থানে বসবাকারী ব্যক্তি, স্থূলতা ও স্লিপ অ্যাপ্নিয়ার কারণে এই রোগ হয়ে থাকে।
  • খুব কম ক্ষেত্রেই এই রোগ বংশগত কারণে হয়ে থাকে।

এছাড়াও অজানা কিছু কারণে এই রোগ হতে পারে।


লক্ষণ

এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে চিকিৎসকেরা নিম্নলিখিত লক্ষণগুলি চিহ্নিত করে থাকেন:

ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়

যে সকল বিষয়ের কারণে এই রোগ হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়ঃ

  • জন্মগতভাবেই হার্টে বিভিন্ন সমস্যা থাকা।
  • বক্ষপ্রাচীরের বিকলাঙ্গতা।
  • স্ক্লেরোডার্মা, সিকল সেল ডিজিজ, লুপাস, এইডস
  • হৃৎপিণ্ড ও ফুসফুসের রোগ থাকা।
  • পরিবারের অন্য কারো মধ্যে পালমোনারী হাইপারটেনশন থাকা।
  • অনেক উঁচু যেমন-পাহাড়ে বসবাসকারী ব্যক্তি।

যারা ঝুঁকির মধ্যে আছে

লিঙ্গঃ পুরুষদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ১ গুণ কম। মহিলাদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের গড়পড়তা সম্ভাবনা রয়েছে।  

জাতিঃ শ্বেতাঙ্গ ও অন্যান্য জাতিদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের গড়পড়তা সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষ্ণাঙ্গদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ১ গুণ কম এবং হিস্প্যানিকদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ২ গুণ কম।


সাধারণ জিজ্ঞাসা


উত্তরঃ ইডিওপ্যাথিক হাইপারটেনশনে আক্রান্ত শিশুদের বৃদ্ধি ও বিকাশে কোন ধরনের সমস্যা দেখা যায় না তবে এর সাথে অন্য কোন শারীরিক সমস্যা - শ্বাসকষ্ট হওয়া, ওজন কমে যাওয়া ইত্যাদি দেখা দিলে যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিৎ।   

উত্তরঃ অবশ্যই, এই রোগে আক্রান্ত শিশুরা অন্য শিশুদের সাথে খেলাধূলা করতে পারে। তবে শিশু যেন কিছুক্ষণ পর পর বিশ্রাম নেয় এবং ফ্লু ও আপার রেসপিরেটরী ইনফেকশন আছে এমন শিশুদের কাছ থেকে দূরে থাকে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। শিশু কোন ধরনের খেলাধূলায় অংশগ্রহণ করতে পারবে তা রোগের তীব্রতা ও চিকিৎসার উপর নির্ভর করে। 

উত্তরঃ এই রোগ সচরাচর হয় না তবে এটি খুবই মারাত্নক সমস্যা। কার্ডিওলজিস্ট, পালমোনোলজিস্ট ও রিউম্যাটোলজিস্টরা সাধারণত এই রোগের চিকিৎসা করে থাকেন।  

হেলথ টিপস্‌

সাধারণত দৈনিক জীবনযাত্রার কয়েকটি অভ্যাস বা নিয়ম পাল্টানোর মাধ্যমে এই রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব।

  • ধূমপান না করা।
  • লবণ কম খাওয়া।
  • স্বাস্থ্যকর ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়া।
  • নিয়মিত অনুশীলন করা।

বিশেষজ্ঞ ডাক্তার

প্রফেসর ডা: খাজা নাজিম উদ্দীন

মেডিসিন ( Medicine)

MBBS(Dhaka),FCPS(Med), FRCP(Glasgo), FCPS(USA)

প্রফেসর নাজির আহমেদ

কার্ডিওলজি ( হার্ট) ( Cardiology)

প্রফেসর ডা: সৈয়দ আলী আহসান

কার্ডিওলজি ( হার্ট) ( Cardiology)

প্রফেসর ডাঃ মোঃ আলি হোসেন

মেডিসিন ( Medicine)

MBBS,FCPS,MD

প্রফেসর ডা: মোঃ মামুন আল মাহাতাব (স্বপ্নীল)

মেডিসিন ( Medicine), হেপাটোলজি ( লিভার) ( Hepatology)

প্রফেসর ডা: সাবিনা হাশেম

কার্ডিওলজি ( হার্ট) ( Cardiology)

প্রফেসর ফাজিলা-তুন-নেসা মালিক

কার্ডিওলজি ( হার্ট) ( Cardiology)