পলিসাইথেমিয়া ভেরা (Polycythemia vera)

শেয়ার করুন

বর্ণনা

পলিসাইথেমিয়া ভেরা এমন একটি অবস্থা যখন তা ধীরে ধীরে ব্লাড ক্যান্সারে রূপান্তরিত হয়। এ অবস্থায় অস্থি মজ্জা অতিরিক্ত লোহিত রক্ত কণিকা উৎপন্ন করে। এছাড়াও পলিসাইথেমিয়া ভেরার কারণে প্রচুর পরিমাণে শ্বেত রক্ত কণিকা এবং অনুচক্রিকাও উৎপন্ন হয়। এই অতিরিক্ত রক্তকণিকাগুলো রক্তের ঘনত্ব বাড়িয়ে দেয় এবং বিভিন্ন জটিলতার সৃষ্টি করে যেমন- ব্লাড ক্লট বা রক্ত জমাট বাঁধা অথবা রক্ত ক্ষরণ।

এই রোগ সচরাচর দেখা যায় না। এটা ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায় এবং কোন লক্ষণ বা উপসর্গ ছাড়াই এই রোগ কয়েক বছর পর্যন্ত শরীরে উপস্থিত থাকতে পারে। প্রায়ই অন্য কোন রোগ নির্ণয় করার ক্ষেত্রে রক্ত পরীক্ষা করার সময় এই রোগ ধরা পড়ে।

চিকিৎসা করা না হলে পলিসাইথেমিয়া ভেরা প্রাণঘাতিও হতে পারে। তবে চিকিৎসার মাধ্যমে এই রোগ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। সময়ের সাথে সাথে এই রোগ থেকে আরো গুরুতর ব্লাড ক্যান্সার দেখা দিতে পারে যেমন মায়ালোফাইব্রোসিস অথবা অ্যাকিউট লিউকোমিয়া।


কারণ

এই রোগ সচরাচর দেখা যায় না, মহিলাদের তুলনায় পুরুষদের এই রোগ বেশি হয়ে থাকে এবং ৪০ বছরের কম বয়সী মানুষদের এ রোগে আক্রান্ত হতে খুব কম দেখা যায়। পলিসাইথেমিয়া ভেরা সাধারণত JAK2V617F নামক জিন মিউটেশনের সাথে সম্পর্কিত। মিউটেশনের ফলে শরীরে DNA এর পরিবর্তন বা ক্ষতি হয়ে থাকে। চোখের রঙ নির্ধারণ থেকে শুরু করে আঙ্গুলের ছাপ পর্যন্ত সমস্ত শারীরিক বৈশিষ্ট্য DNA এর উপর নির্ভর করে।

অস্থি মজ্জা থেকে যে রক্ত কণিকা উৎপন্ন হয় তা নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন। এই রোগে আক্রান্ত হলে অতিরিক্ত পরিমাণে লোহিত রক্ত কণিকা উৎপন্ন করে।


লক্ষণ

এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে চিকিৎসকেরা নিম্নলিখিত লক্ষণগুলি চিহ্নিত করে থাকেন:

ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়

যে সকল বিষয়ের কারণে এই রোগ হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়ঃ

  •   বয়স বৃদ্ধিঃ বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে এই রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। ষাটোর্ধ্ব ব্যাক্তিদের এর সম্ভাবনা বেশি থাকে এবং ২০ বছরের কম বয়স্কদের এই রোগ খুব কম হয়ে থাকে।
  •   পুরুষঃ পুরুষদের এই রোগ বেশি হয়ে থাকে।
  •   মেডিকেল হিস্টোরিঃ পারবারিক সূত্রে কারও এই সমস্যা হয়ে থাকলে এই রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

যারা ঝুঁকির মধ্যে আছে

লিঙ্গঃ পুরুষদের এ রোগ নির্ণয়ের গড়পড়তা সম্ভাবনা রয়েছে। মহিলাদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ১ গুণ কম।

জাতিঃ শ্বেতাঙ্গদের এই রোগ নির্ণয়ের গড়পড়তা সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষ্ণাঙ্গদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ৪ গুণ, হিস্পানিকদের ২ গুণ এবং অন্যান্য জাতিদের ৫ গুণ কম। 


সাধারণ জিজ্ঞাসা


উত্তরঃ বেশিরভাগ পলিসাইথেমিয়া ভেরাতে আক্রান্ত রোগী প্রাপ্ত বয়স্ক অবস্থায় আক্রান্ত হয় এবং jak2 জিনের মিউটেশন থেকে এই রোগের উৎপত্তি দেখা দেয়। এটা জন্মগতভাবে হয় না। কিন্তু এমন কিছু পরিবার থাকে যাদের থেকে পরবর্তী প্রজন্মতে জেনেটিক মিউটেশন থেকে অতিরিক্ত লোহিত রক্তকণিকার সমস্যা প্রবাহিত হয়।        

উত্তরঃ এক্ষেত্রে তেমন কোন খাবারের তালিকা মেনে চলা হয়না, তবে নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা বা ফ্লেবোটমির সাহায্যে আয়রনের অভাব এবং লোহিত রক্ত কণিকার পরিমাণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া উচিৎ। আয়রন সাপ্লিমেন্টসও ব্যবহার করা যেতে পারে। পাশাপাশি যদি খাদ্যাভ্যা্সে আয়রনযুক্ত খাবার যেমন- লিভার, কিডনি, সতেজ জাতীয় খাবার থাকে সেক্ষেত্রেও লোহিত রক্ত কণিকার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ এবং গাউট অ্যাটাকের সম্ভাবনা থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।     

হেলথ টিপস্‌

এই সমস্যা প্রতিরোধের কয়টি উপায় হলঃ

  • ব্যায়ামঃ হালকা পাতলা ব্যায়াম যেমন- হাঁটাচলা রক্ত প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে, যার ফলে ব্লাড ক্লটের ঝুঁকি এড়ানো যায়। পা এবং পায়ের গোড়ালি স্ট্রেচ এবং ব্যায়ামের মাধ্যমে রক্ত সঞ্চালন ভালো রাখা সম্ভব।
  • তামাক পরিহারঃ তামাক জাতীয় দ্রব্যের ব্যবহার রক্ত নালীকে সংকীর্ণ করে দেয় এবং ব্লাড ক্লট সৃষ্টির মাধ্যমে হার্ট অ্যাটাক অথবা স্ট্রোকের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়।
  • নিয়মিত ত্বকের যত্ন নিতে হবে: চুলকানি কমাতে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে গোসল করতে হবে ও ত্বক শুষ্ক রাখতে হবে। গোসল সহ অন্যান্য কাজে গরম পানি ব্যবহার করা যাবে না। নখ দিয়ে ত্বকে আঁচড় দেয়া যাবে না, কারণ এতে করে ইনফেকশন হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখতে লোশন ব্যবহার করতে হবে।
  • অতিরিক্ত তাপমাত্রা এড়িয়ে চলুনঃ দূর্বল রক্ত প্রবাহ গরম এবং ঠাণ্ডা পরিবেশে ইঞ্জুরি বা ক্ষত হওয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। ঠাণ্ডা আবহাওয়ায় গরম কাপড় পরিধান করতে হবে বিশেষ করে হাত এবং পায়ের দিকে বিশেষ খেয়াল রাখতে হবে। গরম আবহাওয়ায় অতিরিক্ত রোদ থেকে দূরে থাকতে হবে এবং প্রচুর পরিমাণ পানি পান করতে হবে।  
  • সোর বা ঘা এর দিকে লক্ষ্য রাখুনঃ দূর্বল রক্ত সঞ্চালনের কারণে ঘা বিশেষ করে পা এবং হাতের ঘা বা ক্ষত শুকাতে অনেক দেরী হয়। পায়ে কোন ঘা হয়েছে কিনা সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে এবং কোন ঘা দেখা দিলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।  

বিশেষজ্ঞ ডাক্তার

প্রফেসর ডা: মোঃ মামুন আল মাহাতাব (স্বপ্নীল)

মেডিসিন ( Medicine), হেপাটোলজি ( লিভার) ( Hepatology)

ডাঃএস জি মোগনী মওলা

মেডিসিন ( Medicine)

MBBS, FCPS(Medicine), FACP(America)

প্রফেসর ডা: আনিসুল হক

মেডিসিন ( Medicine)

MBBS,FCPS,FRCP(Edin),PHD(Gent)

প্রফেসর ডা: খাজা নাজিম উদ্দীন

মেডিসিন ( Medicine)

MBBS(Dhaka),FCPS(Med), FRCP(Glasgo), FCPS(USA)

প্রফেসর ডা: এ বি এম আব্দুল্লাহ

মেডিসিন ( Medicine)

MRCP(UK), FRCP(Edin)

অধ্যাপক ডাঃ এম এ আজহার

মেডিসিন ( Medicine)

এমবিবিএস , এফসিপিএস(মেডিসিন) , এফআরসিপি(এডিন), এফএসিপি