ফাইমোসিস (Phimosis)

শেয়ার করুন

বর্ণনা

ফাইমোসিস এমন একটি সমস্যা যার ফলে পুরুষাঙ্গের প্রান্তীয়ভাগের চামড়া পেছনের দিকে টেনে নিয়ে আসতে প্রচন্ড ব্যথা অনুভূত হয়। যেসব পুরুষ বা বালকদের মুসলমানি করা হয়নি তাদের এই সমস্যা বেশি দেখা দেয়। এই অবস্থায় যদি পুরুষাঙ্গের প্রান্তীয়ভাগের চামড়া জোরপূর্বক পেছনের দিকে টেনে আনা হয় তবে টিস্যু মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে। নবজাতক ছেলেদের এই রোগ বেশি হয়ে থাকে কারণ তাদের পুরুষাঙ্গের শীর্ষভাগ টানটান ও কম নমনীয় হয়ে থাকে। শিশু এবং কেবল হাঁটতে শিখেছে এমন বাচ্চাদের প্রাথমিকভাবে পুরুষাঙ্গের প্রান্তীয়ভাগের চামড়া পেছনের দিকে টেনে নিয়ে আসতে অসুবিধা হয়। বয়সের সাথে সাথে এই রোগ নিজে নিজেই সেরে যায়। বেশিরভাগ ছেলেরা তিন বছর বয়সের মধ্যে পুরুষাঙ্গের প্রান্তীয়ভাগের চামড়া সম্পূর্ণভাবে পেছনের দিকে টেনে আনতে পারে। বয়ঃসন্ধিকালের মধ্যে যদি এই রোগ না সেরে উঠে সেক্ষেত্রে মুসলমানি করতে হবে। তা না হলে এই অবস্থা থেকে ব্যথা এবং প্রস্রাব ও যৌন মিলনের সময় অসুবিধা সৃষ্টি হতে পারে। আপনার শিশুর পুরুষাঙ্গের প্রান্তীয়ভাগের চামড়ার এই সমস্যা দেখা দিলে এবং ফুলে যাওয়া, টানটানভাব এবং সংকোচনের লক্ষণ প্রকাশ পেলে অথবা প্রস্রাব করতে সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হউন ।

কারণ

যখন ফাইমোসিস জন্মগত কারণে হয় তখন এই রোগ শিশুর জন্মের সময়ই দেখা যায় এবং এটি পুরুষাঙ্গের প্রান্তীয়ভাগে ত্বকের সাথে চামড়া জোড়া লেগে গেলে এই সমস্যা দেখা দেয়। এছাড়াও যে সব কারণে এই রোগ হয়ে থাকে সেগুলো হলঃ  

  •   অপরিষ্কার-অপরিচ্ছন্নতা
  •   ব্যালানাইটিস অথবা ব্যালানোপস্থাইটিসের পুনরাবৃত্তি ঘটা। এই ইনফেকশন থেকে পুরুষাঙ্গের ত্বকে ক্ষতের সৃষ্টি হয় এবং এর থেকে প্যাথোলজিক ফাইমোসিস হয়ে থাকে।
  •   পুরুষাঙ্গের প্রান্তীয়ভাগের চামড়া জোরপূর্বক পিছনের দিকে টানলে ক্ষত বা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ছিদ্র এবং ফাইমোসিস দেখা দিতে পারে।
  •   প্রাপ্ত বয়স্ক পুরুষদেরও এই রোগ হতে পারে যদি তাদের পুরুষাঙ্গের স্থিতিস্থাপকতা এবং ইরেকশন কমে আসে।

লক্ষণ

এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে চিকিৎসকেরা নিম্নলিখিত লক্ষণগুলি চিহ্নিত করে থাকেন:

ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়

বিভিন্ন কারণে এই রোগের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। এই রোগের ঝুঁকি আছে এমন বালক বা পুরুষ সবাই এতে আক্রান্ত হবেন এমন কোন কথা নেই। যে সকল বিষয়ের কারণে এই রোগ হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়ঃ

  •   মুসলমানি করা না হলে
  •   ডায়াবেটিস
  •   নবজাতকের বারবার ডায়াপার র‍্যাশের সমস্যা দেখা দিলে
  •   অল্প বয়স

যারা ঝুঁকির মধ্যে আছে


হেলথ টিপস্‌

এই সমস্যা প্রতিরোধের কয়টি উপায় হলঃ

  •  পুরুষাঙ্গ এবং এর প্রান্তীয়ভাগ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।
  •  যৌনবাহিত রোগ থেকে সাবধান থাকুন।
  • একের অধিক ব্যাক্তির সাথে যৌন মিলন থেকে বিরত থাকতে হবে। 
  • যাদের মুখে এবং যৌনাঙ্গে ঘা রয়েছে তাদের সাথে যৌন মিলন করা যাবেনা
  • পুরুষাঙ্গের স্রাব এবং যোনী স্রাব নির্গত হয় এমন ব্যাক্তির সাথে যৌন মিলন থেকে বিরত থাকুন।
  • অন্যের সাথে যৌন মিলনে অভ্যস্ত এমন কারো সাথে যৌন মিলন করা যাবেনা।
  • নিরাপদ যৌন সম্পর্ক বজায় রাখুন।

বিশেষজ্ঞ ডাক্তার

প্রফেসর ডাঃ এম.এ সালাম

ইউরোলজি ( মূত্রতন্ত্রের সার্জারী) ( Urology)

প্রফেসর ডাঃ জামানুল ইসলাম

ইউরোলজি ( মূত্রতন্ত্রের সার্জারী) ( Urology)

প্রফেসর ডাঃ সোহরাব

ইউরোলজি ( মূত্রতন্ত্রের সার্জারী) ( Urology)

সহকারী অধ্যাপক ডাঃ মোঃ সালাউদ্দিন ফারুক

ইউরোলজি ( মূত্রতন্ত্রের সার্জারী) ( Urology)

এমবিবিএস, এফসিপিএস(সার্জারী), এমএস(ইউরোলজি)