নিউরালজিয়া (Neuralgia)

শেয়ার করুন

বর্ণনা

নিউর‍্যালজিয়া হল এক ধরনের চাপ, যন্ত্রণাদায়ক এবং তীব্র ব্যথা যা একটি ক্ষতিগ্রস্ত স্নায়ুতে (নার্ভ) হয়ে থাকে। এই ক্ষতিগ্রস্ত নার্ভ শরীরের যে কোন অংশে থাকতে পারে তবে বেশিরভাগ সময় মুখ এবং ঘাড়ে দেখা যায়। ডায়াবেটিস, মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস, সিঙ্গেলস নামক এক ধরনের ইনফেকশনের কারণে অথবা বয়স্ক ব্যাক্তিদের নার্ভ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকে। এই রোগের কারণের উপর এর চিকিৎসা নির্ভর করে।     

কারণ

যে সব কারণে এই রোগ হয়ে থাকে সেগুলো হলঃ

  • কেমিক্যাল ইরিটেশন
  • ক্রনিক রেনাল ইনসাফিশিয়েন্সী
  • ডায়াবেটিস
  • ইনফেকশন যেমন- হার্পিস জস্টার (সিঙ্গেলস), এইচ-আই-ভি, লাইম ডিজিজ এবং সিফিলিস।
  • কিছু নির্দিষ্ট ঔষধ।
  • পরফাইরিয়া।
  • নার্ভের উপর এর আশেপাশে অবস্থিত হাড়, লিগামেন্টস, রক্ত নালী অথবা টিউমারের কারণে চাপ পড়লে।
  • ট্রমা (অপারেশন অন্তর্ভুক্ত)

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এ রোগের কারণগুলো অজানা থাকে। পস্থারপেটিক নিউর‍্যালজিয়া (Postherpetic neuralgia) এবং ট্রাইজেমিনাল নিউর‍্যালজিয়া এই রোগের দুটি উল্লেখযোগ্য ধরন। এক ধরনের নিউর‍্যালজিয়া কখনো কখনো গ্লসোফ্যারেঞ্জিয়াল নার্ভকে আক্রান্ত করে। এই নার্ভ গলার অনুভূতির সাথে সম্পর্কিত।

বয়স্ক ব্যাক্তিদের মধ্যে এই রোগ বেশি দেখা যায়, তবে যে কারো এই সমস্যা হতে পারে।


লক্ষণ

এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে চিকিৎসকেরা নিম্নলিখিত লক্ষণগুলি চিহ্নিত করে থাকেন:

ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়

নিউর‍্যালজিয়ার অনেকগুলো ঝুঁকিপূর্ণ বিষয় রয়েছে। যদিও এর অন্যতম কারণ হচ্ছে বয়সের কারণে মেরুদণ্ড ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যাওয়া। বয়সের সাথে সাথে ভার্টিব্রা, ফ্যাসেট জয়েন্ট এবং পিঠ ও ঘাড়ের ইন্টারভার্টিব্রাল ডিস্ক ধীরে ধীরে ক্ষয় হতে শুরু করে। এর ফলে অঙ্গসংন্থানিক অস্বাভাবিকতা যেমন- ডিস্ক ফেটে যাওয়া অথবা বোন স্পার্স এর সমস্যা দেখা দিতে পারে। এগুলোর কারণে স্পাইনাল নার্ভের উপর চাপ সৃষ্টি হয় এবং নার্ভে ব্যথা, কাঁপুনি অসাড়তা এবং দূর্বলতার লক্ষণ দেখা যায়।

যে সকল বিষয়ের কারণে এই প্রক্রিয়াটি ত্বরান্বিত হয়

এই রোগের যে সকল ঝুঁকিপূর্ণ বিষয় রয়েছে সেগুলো কিছু প্রতিরোধ করা যায় আবার কিছু প্রতিরোধযোগ্য।

যে সকল বিষয়ের কারণে এই রোগ হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়ঃ

  •   স্থূলতা
  •   ইনফেকশন
  •   ডিজিজ
  •   ইঞ্জুরি বা আঘাত
  •   স্পাইন বা মেরুদণ্ডে আর্থ্রাইটিস
  •   দূর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা

যারা ঝুঁকির মধ্যে আছে

লিঙ্গঃ পুরুষ এবং মহিলা উভয়ের এ রোগ নির্ণয়ের গড়পড়তা সম্ভাবনা রয়েছে।

জাতিঃ শ্বেতাঙ্গ এই রোগ নির্ণয়ের গড়পড়তা সম্ভাবনা রয়েছে। হিস্পানিক, কৃষ্ণাঙ্গ এবং অন্যান্য জাতিদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ১ গুণ কম।


সাধারণ জিজ্ঞাসা


উত্তরঃ ট্রাইজেমিনাল নিউর‍্যালজিয়া একটি ক্রনিক পেইন বা ব্যথা যা ট্রাইজেমিনাল নার্ভকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। ট্রাইজেমিনাল নার্ভ মুখ থেকে মস্তিষ্কে সংবেদন বা অনুভূতি পরিচালনা করে। এ রোগে আক্রান্ত হলে মুখের সামান্য নড়াচড়া যেমন- দাঁত ব্রাশ করা, শেভ করা, মেক আপ ব্যবহার, হাসি দেওয়া অথবা বাতাসের ঝাপ্টা মুখে লাগলেও যন্ত্রণাদায়ক ব্যথার সৃষ্টি হয়।

বয়স বেড়ে গেলে এই রোগ হতে পারে অথবা রক্ত নালী ফুলে গেলে, মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস, অথবা নার্ভের সুরক্ষা প্রদানকারী মায়েলিন সিথকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এমন কোন ব্যাধিতে আক্রান্ত হলেও এই সমস্যা দেখা দিতে পারে। কখনো কখনো ট্রাইজেমিনাল নার্ভে টিউমারের কারণে চাপ সৃষ্টি হলে ট্রাইজেমিনাল নিউর‍্যালজিয়া হয়ে থাকে। কোন কোন ব্যাক্তি মস্তিষ্কের ক্ষত অথবা অন্যান্য অস্বাভাবিকতার কারণে এ রোগে আক্রান্ত হন। অন্যান্য ক্ষেত্রে সঠিক কারণ খুঁজে পাওয়া যায়না। 


ট্রাইজেমিনাল নিউর‍্যালজিয়া একটি ক্রনিক পেইন বা ব্যথা যা ট্রাইজেমিনাল নার্ভকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। ট্রাইজেমিনাল নার্ভ মুখ থেকে মস্তিষ্কে সংবেদন বা অনুভূতি পরিচালনা করে। এ রোগে আক্রান্ত হলে মুখের সামান্য নড়াচড়া যেমন- দাঁত ব্রাশ করা, শেভ করা, মেক আপ ব্যবহার, হাসি দেওয়া অথবা বাতাসের ঝাপ্টা মুখে লাগলেও যন্ত্রণাদায়ক ব্যথার সৃষ্টি হয়।

বয়স বেড়ে গেলে এই রোগ হতে পারে অথবা রক্ত নালী ফুলে গেলে, মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস, অথবা নার্ভের সুরক্ষা প্রদানকারী মায়েলিন সিথকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এমন কোন ব্যাধিতে আক্রান্ত হলেও এই সমস্যা দেখা দিতে পারে। কখনো কখনো ট্রাইজেমিনাল নার্ভে টিউমারের কারণে চাপ সৃষ্টি হলে ট্রাইজেমিনাল নিউর‍্যালজিয়া হয়ে থাকে। কোন কোন ব্যাক্তি মস্তিষ্কের ক্ষত অথবা অন্যান্য অস্বাভাবিকতার কারণে এ রোগে আক্রান্ত হন। অন্যান্য ক্ষেত্রে সঠিক কারণ খুঁজে পাওয়া যায়না।


উত্তরঃ ষাটোর্ধ্ব বয়সের ব্যাক্তিদের এই রোগ বেশি হয়ে থাকে, তবে যে কোন বয়সের মানুষ এতে আক্রান্ত হতে পারেন। অল্প বয়সের কেউ এই রোগে আক্রান্ত হলে অন্যান্য ডিজিজ অথবা অস্বাভাবিকতাকে সম্ভাব্য কারণ হিসেবে ধরা হয়। রুট ক্যানাল, দাঁত উঠিয়ে ফেলা, ভাঙ্গা বা ক্ষয়ে যাওয়া দাঁত সহ দাঁতের বিভিন্ন অপারেশনের সময় নার্ভের কোন ইঞ্জুরি অথবা আঘাত থেকেও এ রোগ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কোন কোন ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোন কারণ খুঁজে পাওয়া যায় না। কিছু ক্ষেত্রে ধমনীর কারণে প্রধান স্নায়ুতে (যে স্নায়ু ব্রেইন স্টেমের সাথে যুক্ত) চাপ পড়লে এই সমস্যা দেখা যায়। 

হেলথ টিপস্‌

নিউর‍্যালজিয়া এক প্রকার সায়াটিকা যা বার্ধক্য জনিত কারণে স্পাইনাল ডিস্ক ক্ষয় থেকে হয়ে থাকে। মেরুদণ্ডের উপাদানগুলো যখন ক্ষয়প্রাপ্ত হতে থাকে তখন বিভিন্ন ধরনের অঙ্গ সংস্থানিক অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করা যায় যেমন - হার্নিয়েটেড ডিস্ক, ডিস্ক স্ফীত হয়ে যাওয়া (bulging disc), স্পন্ডাইলোলিস্থেসিস এবং বোন স্পার্স। ভার্টেব্রা, ফ্যাসেট জয়েন্ট, ইন্টারভার্টেব্রাল ডিস্কের যেন কোন ক্ষতি না হয় সেদিকে বিশেষ লক্ষ্য রাখুন। এর ফলে এই রোগের ঝুঁকি কমানো অনেকাংশে সম্ভব। এই সমস্যা প্রতিরোধের কয়টি উপায় হলঃ

  •   ধুমপান বর্জন করুন
  •   কম স্যাচুরেটেড ফ্যাট জাতীয় খাবার খান।
  •   উচ্চ ক্যালসিয়াম যুক্ত, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড জাতীয় খাবার খান।
  •   ওজন স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করুন।
  •   ভারী কিছু তোলা অথবা পিঠ এবং ঘাড়ে চাপ পড়ে এমন কোন কাজ করা থেকে বিরত থাকুন।
  •   হালকা ব্যায়াম করুন, খেয়াল রাখবেন যাতে শরীরে বেশি চাপ না পড়ে।

বিশেষজ্ঞ ডাক্তার

প্রফেসর ডাঃ মোঃ আলি হোসেন

মেডিসিন ( Medicine)

MBBS,FCPS,MD

প্রফেসর ডা: হাসান জাহিদুর রহমান

নিউরোলজি ( স্নায়ুতন্ত্র) ( Neurology)

প্রফেসর ডাঃ ফিরোজ আহমেদ কোরাইশী

নিউরোলজি ( স্নায়ুতন্ত্র) ( Neurology)

প্রফেসর ডা: মোঃ মামুন আল মাহাতাব (স্বপ্নীল)

মেডিসিন ( Medicine), হেপাটোলজি ( লিভার) ( Hepatology)

ডাঃএস জি মোগনী মওলা

মেডিসিন ( Medicine)

MBBS, FCPS(Medicine), FACP(America)

প্রফেসর ডাঃ মোঃ জিল্লুর রহমান

নিউরোলজি ( স্নায়ুতন্ত্র) ( Neurology)