মাইগ্রেইন (Migraine)

শেয়ার করুন

বর্ণনা

মাইগ্রেনের ফলে মাথার একটি নির্দিষ্ট অংশে ব্যথা হয় ও ধপ্‌ধপ্‌ অনুভূতি হয়। এর ফলে একই সাথে বমিবমি ভাব, বমি হওয়া ও আলো বা শব্দের প্রতি অত্যাধিক সংবেদনশীলতা বা স্পর্শকাতরতা দেখা দেয়। মাইগ্রেইন অ্যাটাক কয়েক ঘন্টা থেকে কয়েকদিন পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। কখনো কখনো মাইগ্রেইনের ব্যথা হওয়ার আগে বা ব্যথা হওয়ার সময় কিছু উপসর্গ দেখা দেয় যা Aura নামে পরিচিত। এই উপসর্গগুলো হলো চোখের সামনে আলোর ঝলকানি দেখা, বিন্দু বিন্দু দেখা বা হাতে ও পায়ে শিরশির অনুভূতি হওয়া।

কারণ

যে সব কারণে মাইগ্রেইন অ্যাটাক বা মাইগ্রেইনের ব্যথা হতে পারে সেগুলো হলো:

  • লবণযুক্ত ও প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়া।
  • দৈনন্দিন খাদ্যাভাসে অনিয়ম দেখা দেওয়া।
  • অ্যালকোহল গ্রহণ (বিশেষ করে ওয়াইন ও ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় পানের অভ্যাস থাকা)।
  • কাজের চাপ ও দুশ্চিন্তা।
  • তীব্র আলো বা সূর্যালোক, উচ্চশব্দ, পারফিউম বা রঙের তীব্র গন্ধ ও সিগারেটের ধোঁয়ার সংস্পর্শে আসা।
  • নির্দিষ্ট কিছু ঔষধ গ্রহণ, যেমন- জন্ম বিরতিকরণ পিল, ভ্যাসোলিডেটর ও নাইট্রোগ্লিসারিন।

লক্ষণ

এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে চিকিৎসকেরা নিম্নলিখিত লক্ষণগুলি চিহ্নিত করে থাকেন:

চিকিৎসা

চিকিৎসকেরা এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিম্নলিখিত ঔষধগুলি গ্রহণ করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন:

amitriptyline aspirin
chlorpromazine hydrochloride ergotamine tartrate
fluoxetine hydrochloride ibuprofen
ketorolac morphine sulphate
naproxen nortriptyline
paracetamol paroxetine hydrochloride
prochlorperazine promethazine
propranolol hydrochloride rizatriptan benzoate
sumatriptan succinate verapamil hydrochloride
zolmitriptan

চিকিৎসকেরা এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিম্নলিখিত টেস্টগুলি করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন:

ই-এস-আর (এরাইথ্রোসাইট সেডিমেন্টেশন রেট) (ESR, Erythrocyte Sedimentation Rate)
ইলেক্ট্রোকার্ডিওগ্রাম (ই-সি-জি) (Electrocardiogram, ECG)
সি-আর-পি কোয়ালিটেটিভ/কোয়ান্টিটেটিভ (CRP qualitative/quantitative)

ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়

নিম্নলিখিত বিষয়গুলো মাইগ্রেইন অ্যাটাকের ঝুঁকি বৃদ্ধি করে-

  • পরিবারের অন্য কারো মাইগ্রেইনের সমস্যা থাকা: মাইগ্রেইনে আক্রান্ত প্রায় ৯০ শতাংশ রোগীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে তাদের পরিবারের এক বা একাধিক সদস্য আগে থেকেই একই সমস্যায় ভুগছেন। মা বা বাবা কিংবা উভয়েরই মাইগ্রেইনের সমস্যা থাকলে সন্তানের এ রোগ দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেকাংশে বেড়ে যায়।
  • বয়স: বয়স মাইগ্রেইন অ্যাটাকের ক্ষেত্রে অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়। মাইগ্রেইনের সমস্যা যে কোনো বয়সে শুরু হতে পারে। তবে দেখা গেছে অধিকাংশ ব্যক্তির বয়ঃসন্ধিকালে প্রথম মাইগ্রেইন অ্যাটাক হয়ে থাকে।
  • লিঙ্গ: শৈশবে মেয়েদের তুলনায় ছেলেদের মাথাব্যথার সমস্যা বেশি হয়ে থাকে, কিন্তু বয়ঃসন্ধি ও এর পরবর্তী সময়ে মেয়েদের এই সমস্যা বেশি হয়।
  • হরমোনগত পরিবর্তন: মাইগ্রেনে আক্রান্ত মহিলাদের ক্ষেত্রে মাসিকের পূর্ববর্তী বা পরবর্তী সময়ে মাথাব্যথা হয়ে থাকে। আবার গর্ভধারণ বা মেনোপজের পর এই অবস্থার পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। সাধারণত মেনোপজের পর মাইগ্রেইন অ্যাটাকের তীব্রতা কমে যায়।

যারা ঝুঁকির মধ্যে আছে

লিঙ্গঃ মহিলাদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের গড়পড়তা সম্ভাবনা রয়েছে। পুরুষদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ১ গুণ কম।

জাতিঃ শ্বেতাঙ্গদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের গড়পড়তা সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষ্ণাঙ্গ, হিস্প্যানিক ও অন্যান্য জাতির মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ১ গুণ কম।

সাধারণ জিজ্ঞাসা

উত্তরঃ অ্যালার্জি হলে মাইগ্রেইনের সমস্যা হতে পারে। এমনকি দাঁতের গঠনের জন্য খাবারে কামড় দেওয়ার সাথে সাথেও মাইগ্রেইনের ব্যথা শুরু হতে পারে। এই সমস্যা সরাসরি একজন ব্যক্তির জীবনযাত্রার সাথে সম্পর্কযুক্ত নয়।

উত্তরঃ যে কোনো উদ্দীপকের প্রভাবে মাইগ্রেইন আক্রান্ত ব্যক্তির মাইগ্রেইন অ্যাটাক হতে পারে। তেমনি একটি উদ্দীপক হলো সূর্যালোক। তীব্র সূর্যের আলোতে মাইগ্রেইনের ব্যথা হতে পারে। এই সমস্যা এড়িয়ে চলতে অনেকেই সানগ্লাস ব্যবহার করে থাকেন।

হেলথ টিপস্‌

মাইগ্রেইনের ব্যথা নিয়ন্ত্রণের জন্য কিছু সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত, যেমন-

  • মাইগ্রেইন অ্যাটাক দেখা দিলে বিভিন্ন মাসল রিলাক্সেশন এক্সারসাইজ (muscle relaxation exercise) করা যেতে পারে, যেমন- মেডিটেশন বা যোগব্যায়াম ও প্রোগ্রেসিভ মাসল রিলাক্সেশন (progressive muscle relaxation) (যা মাথাব্যথার তীব্রতা কমাতে সাহায্য করে)।
  • পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমাতে হবে। তবে খেয়াল রাখতে হবে যাতে ঘুমের পরিমাণ বেশি না হয়। সঠিক সময়ে ঘুমানোর সাথে সাথে সঠিক সময়ে ঘুম থেকে ওঠার নিয়মও মেনে চলতে হবে।
  • মাথা ব্যথা যাতে তীব্র না হয় তাই হালকা মাথাব্যথা হওয়ার সাথে সাথে নীরব কোনো ঘরে বিশ্রাম নিতে হবে। রুমের আলো কমিয়ে নিতে হবে। এক টুকরো বরফ পাতলা কাপড়ে জড়িয়ে ঘাড় ও মাথায় আস্তে আস্তে দিতে হবে।
  • চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার আগে দিনের কোন কোন সময় মাথা ব্যথা হচ্ছে তা লিখে রাখতে হবে। এর ফলে কোনো উদ্দীপকের প্রভাবে মাথাব্যথা হচ্ছে তা সহজে বোঝা যাবে ও চিকিৎসার ক্ষেত্রে সুবিধা হবে।

বিশেষজ্ঞ ডাক্তার

প্রফেসর ডা: হাসান জাহিদুর রহমান

নিউরোলজি ( স্নায়ুতন্ত্র) ( Neurology)

প্রফেসর ডাঃ মোঃ জিল্লুর রহমান

নিউরোলজি ( স্নায়ুতন্ত্র) ( Neurology)

প্রফেসর ডাঃ ফিরোজ আহমেদ কোরাইশী

নিউরোলজি ( স্নায়ুতন্ত্র) ( Neurology)