লিভার ক্যান্সার (Liver cancer)

শেয়ার করুন

বর্ণনা

লিভার তলপেটের ডানদিকের উপরে, ডায়াফ্রামের (বুকের মধ্যবর্তী অংশ যা বুককে দুইভাগে বিভক্ত করে) নিচে এবং পাকস্থলীর উপরে অবস্থিত একটি ত্রিকোনাক্রিতি অঙ্গ। লিভারের কোষ অস্বাভাবিক এবং অনিয়ন্ত্রিত ভাবে বৃদ্ধি পেলে তাকে লিভার ক্যান্সার বলা হয়।

লিভারে যেসব ক্যান্সার হয় সেগুলির মধ্যে হেপাটোসেলুলার কার্সিনোমা সবচেয়ে বেশি দেখা যায় । এই ক্যান্সার হেপাটোসাইট (লিভারের কোষ) হতে উৎপন্ন হয়। তবে খুব কম ক্ষেত্রে অন্যান্য কোষ থেকেও এ ক্যান্সার হতে পারে।

শরীরের অন্যান্য অঙ্গ যেমন মলাশয়, ফুসফুস বা স্তনে যদি ক্যান্সার হয় এবং তা যদি লিভারে ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে তাকে লিভার ক্যান্সার না বলে মেটাস্ট্যাটিক ক্যান্সার বলে। যেমন যে ক্যান্সার মলাশয়ে হয় এবং লিভারে ছড়িয়ে পড়ে তাকে “মেটাস্ট্যাটিক কোলন ক্যান্সার” বলে। 

কারণ

লিভার ক্যান্সারের সঠিক কারণ অজানা। তবে বিভিন্ন হেপাটাইটিস ভাইরাস এবং ক্রনিক ইনফেকশনের কারণে লিভার ক্যান্সার হতে পারে।

যখন লিভারের কোষের ডি-এন-এতে (DNA) (শরীরের সকল রাসায়নিক প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণকারী) পরিবর্তন আসে, তখন লিভার ক্যান্সার হয়। ডি-এন-এ এর এই পরিবর্তনের ফলে জৈব-রাসায়নিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। এর ফলে কোষগুলি অনিয়ন্ত্রিতভাবে বৃদ্ধি পায় এবং ধীরে ধীরে ক্যান্সার আক্রান্ত কোষের দ্বারা টিউমারের সৃষ্টি হয়।

লক্ষণ

এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে চিকিৎসকেরা নিম্নলিখিত লক্ষণগুলি চিহ্নিত করে থাকেন:

চিকিৎসা

চিকিৎসকেরা এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিম্নলিখিত ঔষধগুলি গ্রহণ করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন:

cyproheptadine hydrochloride ketoconazole
octreotide acetate oxaliplatin
tamoxifen citrate

চিকিৎসকেরা এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিম্নলিখিত টেস্টগুলি করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন:

বিলিরুবিন (Bilirubin total/direct/indirect)
লিভার ফাংশন টেস্ট (Liver function tests)
এ-পি-টি-টি (অ্যাক্টিভেটেড পারশিয়াল থ্রম্বোপ্লাস্টিন টাইম) (APTT (Activated Partial Thromboplastin time))
সি-বি-সি (কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট) (CBC, Complete Blood Count)
পি-টি (প্রোথ্রম্বিন টাইম) (PT (Prothrombin time))
বায়োপসি অফ লিভার (Biopsy of liver)
সিটি স্ক্যান অ্যাবডোমেন (CT scan abdomen)
ম্যাগনেটিক রেজোনেন্স ইমেজিং (এম-আর-আই) (Magnetic resonance imaging (MRI))
এইচ-বি-এস-এ-জি (HBSAg)
ইউ-এস-জি ইউ/এ (USG U/A)
আলফা ফিটো প্রোটিন (Alpha Feto Protein)

ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়

নিম্নলিখিত বিষয়ের কারণে লিভার ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়ঃ

  • হেপাটাইটিস বি ও হেপাটাইটিস সি ভাইরাসের ক্রনিক ইনফেকশনের ফলে লিভার ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।
  • লিভার সিরোসিস থাকলে তা থেকেও লিভার ক্যান্সার হতে পারে।
  • বিভিন্ন লিভারের রোগ যেমন হেমোক্রোমাটোসিস এবং উইলসন’স ডিজিজ থেকে লিভার ক্যান্সার হতে পারে।
  • ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের লিভার ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
  • লিভারে চর্বি জমে গেলে লিভার ক্যান্সার হতে পারে।
  • মাত্রাতিরিক্ত মদ্যপানের কারণে লিভার ক্যান্সার হতে পারে।
  • যারা অধিক মোটা তাদের এই ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

যারা ঝুঁকির মধ্যে আছে

লিঙ্গঃ পুরুষদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের গড়পড়তা সম্ভাবনা রয়েছে। মহিলাদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ১ গুণ কম।

জাতিঃ শ্বেতাঙ্গদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের গড়পড়তা সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষ্ণাঙ্গ এবং হিস্প্যানিকদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ১ গুণ কম। অন্যান্য জাতির মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ২ গুণ কম।

সাধারণ জিজ্ঞাসা

উত্তরঃ বিশ্বব্যাপী এই রোগের অবস্থান পঞ্চম। সাধারণত যখন এই ক্যান্সার গুরুতর আকার ধারণ করে তখন নির্ণয় করা সম্ভব হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এটি নিরাময় হয় না। কারণ এর ফলে অধিকাংশ রোগীরই লিভারের কার্যকলাপ নষ্ট হয়ে যায় এবং এই রোগের চিকিৎসা পদ্ধতি রোগী সহ্য করতে পারে না। যাদের অপারেশন করা হয় তাদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা ৫০% এরও কম, তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে অপারেশনের পর রোগীরা ১ বছর বা তার চেয়েও কম বাঁচে।

উত্তরঃ সিরোসিস হলে লিভারের কোষ শুকিয়ে শক্ত হয়ে যায় এবং লিভার ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। নিম্নলিখিত পন্থা অবলম্বন করে এই রোগের ঝুঁকি কমানো যায়।

  • মাত্রাতিরিক্ত মদ্যপান করা যাবে না।
  • ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।
  • হেপাটাইটিস বি ও সি এর প্রতিষেধক নিতে হবে।

বিশেষজ্ঞ ডাক্তার

ডা: মামুন আল মাহতাব (সপ্নীল)

হেপাটোলজি ( লিভার) ( Hepatology)

প্রফেসর ডা: সালিমুর রহমান

হেপাটোলজি ( লিভার) ( Hepatology)

প্রফেসর ডা: মোবিন খান

হেপাটোলজি ( লিভার) ( Hepatology)

প্রফেসর ডা: মো: মোহসেন চৌধুরী

হেপাটোলজি ( লিভার) ( Hepatology)

প্রফেসর ডা: মোঃ মামুন আল মাহাতাব (স্বপ্নীল)

মেডিসিন ( Medicine), হেপাটোলজি ( লিভার) ( Hepatology)