উচ্চরক্তচাপ জনিত কিডনির রোগ (Kidney disease due to long-lasting hypertension)

শেয়ার করুন

বর্ণনা

দীর্ঘদিন উচ্চরক্তচাপের কারণে কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়াকে উচ্চরক্তচাপ জনিত কিডনির রোগ (হাইপারটেনসিভ নেফ্রো-স্ক্লেরোসিস বা হাইপারটেনসিভ রেনাল ডিজিজ) বলে।

কারণ

সাধারণত নিম্নে লিখিত রোগগুলির কারণে উচ্চরক্তচাপ জনিত কিডনির রোগ হয়ে থাকে:

  • টাইপ ১ ও টাইপ ২ ডায়াবেটিস ।
  • উচ্চরক্তচাপ ।
  • গ্লোমেরুলোনেফ্রাইটিস (কিডনির ফিলটারের প্রদাহ) ।
  • ইন্টারস্টিশিয়াল নেফ্রাইটিস (কিডনির টিউবুল ও তার চারপাশের অংশের প্রদাহ) ।
  • পলিসিসটিক কিডনি ডিজিজ ।
  • স্ফিত/বড়ো প্রোস্টেট, কিডনির পাথর ও কয়েক ধরনের ক্যানসারের কারণে মূত্রনালীতে দীর্ঘ সময় ধরে বাধা সৃষ্টি হওয়া।
  • ভেসিকরেটেরাল রিফ্লাক্স, যে অবস্থায় বিপরীতমুখী প্রবাহের কারণে মূত্র কিডনিতে ফিরে আসে।
  • কিডনিতে বারবার ইনফেকশন হওয়া, যা পাইলোনেফ্রাইটিস নামেও পরিচিত।

লক্ষণ

এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে চিকিৎসকেরা নিম্নলিখিত লক্ষণগুলি চিহ্নিত করে থাকেন:

চিকিৎসা

 চিকিৎসকেরা এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিম্নলিখিত ঔষধগুলি গ্রহণ করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন: 

allopurinol amlodipine
carvedilol epoetin alfa
frusemide nifedipine
hydralazine

চিকিৎসকেরা এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিম্নলিখিত টেস্টগুলি করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন: 

ইলেক্ট্রোলাইটস, সেরাম (Electrolytes, serum)
এইচ-বি-এ-ওয়ান-সি (HbA1c)
লিপিড প্রোফাইল (Lipid profile)
ও-জি-টি-টি (OGTT)
সি-বি-সি (কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট) (CBC, Complete Blood Count)
ইকো কার্ডিওগ্রাম ২ডি (Echo cardiogram 2D)
ইলেক্ট্রোকার্ডিওগ্রাম (ই-সি-জি) (Electrocardiogram, ECG)
ইউরিন এনালাইসিস (Urinalysis)
ক্রিয়েটিনিন, সেরাম (Creatinine, Serum)
ইউরিন ফর মাইক্রো এলবুমিন (Urine for Microalbumin)

ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়

সাধারণত নিম্নে লিখিত বিষয়গুলি উচ্চরক্তচাপজনিত কিডনির রোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি করে:

  • ডায়াবেটিস ।
  • উচ্চ রক্তচাপ ।
  • হৃৎপিণ্ডের রোগ।
  • ধূমপান।
  • শরীরের অতিরিক্ত ওজন।
  • কলেস্টোরলের উচ্চমাত্রা।
  • আফ্রিকান-অ্যামেরিকান, নেটিভ অ্যামেরিকান ও এশিয়ান-অ্যামেরিকান প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত হওয়া।
  • বংশে কারো কিডনির রোগ থাকা।
  • বয়স ৬৫-এর উপরে হওয়া।

যারা ঝুঁকির মধ্যে আছে

লিঙ্গঃ পুরুষদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয় হওয়ার গড়পড়তা সম্ভাবনা থাকে। নারীদের মধ্যে  মধ্যে এই রোগ নির্ণয় হওয়ার সম্ভাবনা ১ গুণ কম।

জাতিঃ শ্বেতাঙ্গদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয় হওয়ার সম্ভাবনা ১ গুণ কম। কৃষ্ণাঙ্গ, হিস্প্যানিক ও অন্যান্য জাতির মানুষের মধ্যে এই রোগ নির্ণয় হওয়ার গড়পড়তা সম্ভাবনা থাকে। 

সাধারণ জিজ্ঞাসা

উত্তরঃ উচ্চরক্তচাপের কারণে প্রোটিনিউরিয়া হতে পারে, তবে প্রোটিনিউরিয়াও অনিয়ন্ত্রিত রক্তচাপকে নির্দেশ করে। পলিসিসটিক কিডনি ডিজিজের কারণেও প্রোটিনিউরিয়া হয় এবং এটি তীব্র মাত্রার উচ্চরক্তচাপের নির্দেশক। কিছু কিছু কিডনির রোগ প্রোটিনিউরিয়া ও উচ্চরক্তচাপ উভয়ই সৃষ্টি করে।

উত্তরঃ কম তেলে ভাজা খাদ্যের চেয়ে আপনি কী খাবার গ্রহণ করছেন তা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তবে প্রাণীজ তেলের চেয়ে উদ্ভিজ্জ তেল অধিক স্বাস্থ্যসম্মত। এমন খাদ্য গ্রহণ করুন যাতে কম সোডিয়াম, কম ফসফেট, কম প্রাণীজ তেল ও সঠিক পরিমাণে পটাশিয়াম  থাকে।

উত্তরঃ যেসব ব্যক্তির কিডনির ডায়ালিসিস দরকার হয় তাদের ৩০ শতাংশেরই উচ্চরক্তচাপের কারণে কিডনি ফেইলিওর হয়ে থাকে। উচ্চ রক্তচাপ ধমনী ও গ্লোমেরুলার গঠনকে ক্ষতিগ্রস্থ করে এবং এর ফলে রেনিনেন নিঃসরণ ত্বরান্বিত হয়। রেনিনেন নিঃসরণ অ্যানজিওটেনসিনকে সক্রিয় করে। আবার অ্যানজিওটেনসিন রক্তচাপ আরও বৃদ্ধি করে এবং কিডনির ক্ষতি করে। 

হেলথ টিপস্‌

উচ্চরক্তচাপজনিত কিডনির রোগের চিকিৎসার অংশ হিসেবে চিকিৎসক আপনাকে বিশেষ ধরনের খাদ্য গ্রহণের পরামর্শ দিতে পারেন। এই খাদ্যগুলি আপনার কিডনিকে ভালো রাখবে এবং কিডনির কাজ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করবে।

লবণযুক্ত খাবার পরিহার করা: কম পরিমাণে সোডিয়াম গ্রহণ করার জন্য হিমায়িত খাদ্য, প্যাকেটজাত স্যুপ ও ফাস্টফুডের মতো  লবনযুক্ত খাদ্য এড়িয়ে চলুন। এছাড়া স্ন্যাকস, ক্যানের শাকসবজি, প্রক্রিয়াজাত মাংস ও মাখনের মতো অতিরিক্ত লবণযুক্ত খাবার কম গ্রহণ করুন।

পটাশিয়ামযুক্ত খাবার কম গ্রহণ করা: চিকিৎসক আপনাকে কম পটাশিয়ামযুক্ত খাবার গ্রহণের পরামর্শ দিতে পারেন। কলা, কমলালেবু, আলু, পালংশাক ও টমেটোতে উচ্চ পরিমাণে পটাশিয়াম থাকে। অপরদিকে আপেল, বাঁধাকপি, গাজর, বিন, আঙ্গুর ও স্ট্রবেরিতে কম পরিমাণ পটাশিয়াম থাকে।

কম পরিমাণে প্রোটিন গ্রহণ: আপনার কী পরিমাণ প্রোটিন গ্রহণ করা উচিৎ সে ব্যাপারে চিকিৎসক পরামর্শ দিতে পারেন। মাংস, ডিম, দুধ, মাখন ও বিনে বেশি পরিমাণে প্রোটিন থাকে। অপরদিকে শাকসবজি, ফল, রুটি ও শস্যজাতীয় খাদ্যে প্রোটিন কম থাকে, সুতরাং এই জাতীয় খাবার গ্রহণ করতে হবে।

বিশেষজ্ঞ ডাক্তার

প্রফেসর ডা: সৈয়দ আলী আহসান

কার্ডিওলজি ( হার্ট) ( Cardiology)

প্রফেসর নাজির আহমেদ

কার্ডিওলজি ( হার্ট) ( Cardiology)

ডাঃ কামাল পাশা

কার্ডিওলজি ( হার্ট) ( Cardiology)

ডাঃ মোঃ বাবরুল আলম

নেফ্রোলজি ( কিডনি) ( Nephrology)

এমবিবিএস, এফসিপিএস(মেডিসিন শেষ পর্ব), এমআরসিপি(পার্ট-২)

প্রফেসর ডা: জহুরুল আলম খান

কার্ডিওলজি ( হার্ট) ( Cardiology)

প্রফেসর ডা: আব্দুল ওয়াদুদ চৌধুরী

কার্ডিওলজি ( হার্ট) ( Cardiology)

প্রফেসর ডা: এশিয়া খানম

নেফ্রোলজি ( কিডনি) ( Nephrology)