জুভেনাইল রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস (Juvenile rheumatoid arthritis)

শেয়ার করুন

বর্ণনা

১৬ বছরের কম বয়স্কদের শরীরের অস্থিসন্ধিতে (জয়েন্ট) সৃষ্ট প্রদাহ/জ্বালাপোড়াকে জুভেনাইল রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস বলা হয়। এটি অপ্রাপ্তবয়স্কদের বাত নামেও পরিচিত। একে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার একটি স্বয়ংক্রিয় সমস্যা হিসেবে ধরা হয়। বিশেষ কারণে অনেক সময় আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা শরীরের কিছু অংশকেই ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়ার মতো বাহ্যিক উপাদান হিসেবে মনে করে। অপ্রাপ্তবয়স্কদের বাতের ক্ষেত্রে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা শরীরের সন্ধিগুলিকে আক্রমণের মাধ্যমে হাড় ও তরুণাস্থির ক্ষতি করে থাকে।

কারণ

যখন একজন ব্যক্তির শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা তার নিজের শরীরের কোষ ও টিস্যুকেই আক্রমণ করে, তখন তাকে অটো-ইমিউন ডিজিজ বলে। এই প্রতিরোধ ব্যবস্থা শরীরের সন্ধিগুলিকে আক্রমণের মাধ্যমে এ রোগের সূত্রপাত হয়। এর কারণ সম্পর্কে সম্পূর্ণরূপে নিশ্চিত হওয়া যায়নি, তবে বংশগত ও পরিবেশগত কিছু কারণ এক্ষেত্রে ভূমিকা রাখে বলে ধারণা করা হয়। জিনগত কিছু পরিবর্তনের কারণে একজন ব্যক্তির পরিবেশগত কিছু বিষয় (যেমন ভাইরাস) দ্বারা প্রভাবিত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। এই বিষয়টি রোগটির ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে।

লক্ষণ

এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে চিকিৎসকেরা নিম্নলিখিত লক্ষণগুলি চিহ্নিত করে থাকেন:

চিকিৎসা

 চিকিৎসকেরা এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিম্নলিখিত ঔষধগুলি গ্রহণ করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন: 

azathioprine celecoxib
cyclosporin diclofenac sodium
ibuprofen ketoprofen
methyl prednisolone acetate naproxen
paracetamol prednisolone
rituximab tramadol hydrochloride
methotrexate sulfasalazine

চিকিৎসকেরা এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিম্নলিখিত টেস্টগুলি করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন: 

সি-বি-সি (কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট) (CBC, Complete Blood Count)
ই-এস-আর (এরাইথ্রোসাইট সেডিমেন্টেশন রেট) (ESR, Erythrocyte Sedimentation Rate)
এ-এন-এ/এ-এন-এফ (ANA/ANF)
সি-আর-পি কোয়ালিটেটিভ/কোয়ান্টিটেটিভ (CRP qualitative/quantitative)
আর-এ/আর-এফ (RA/RF)
প্লেইন এক্স-রে (Plain x-ray)
ম্যাগনেটিক রেজোনেন্স ইমেজিং (এম-আর-আই) (Magnetic resonance imaging (MRI))

ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়

অপ্রাপ্ত বয়স্কদের বাতের ঝুঁকি বৃদ্ধি করার মতো কোনো প্রভাবক সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে কিছু কিছু বিষয় কয়েক প্রকার বাতের সাথে সম্পর্কযু্ক্ত হতে পারে। বংশে কেউ নিম্নলিখিত রোগগুলিতে আক্রান্ত হলে একজন ব্যক্তির বাত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

  • অ্যানটেরিয়র ইউভিয়াইটিস এবং এর সাথে চোখে ব্যথা থাকা।
  • প্রদাহযুক্ত ব্যাক বা পিঠের আরথ্রাইটিস (অ্যানকাইলোজিং স্পনডিলাইটিস)।
  • প্রদাহযুক্ত অন্ত্রের রোগ।

যারা ঝুঁকির মধ্যে আছে

লিঙ্গ: নারীদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয় হওয়ার গড়পড়তা সম্ভাবনা থাকে। পুরুষদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয় হওয়ার সম্ভাবনা ১ গুণ কম।

জাত: কৃষ্ণাঙ্গ ও শ্বেতাঙ্গদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয় হওয়ার সম্ভাবনা ১ গুণ কম। হিস্প্যানিক ও অন্যান্য জাতির মানুষের মধ্যে এই রোগ নির্ণয় হওয়ার গড়পড়তা সম্ভাবনা থাকে।

সাধারণ জিজ্ঞাসা

উত্তরঃ বাত থেকে সম্পূর্ণরূপে মুক্তিলাভের কোনো উপায় নেই। তবে কয়েক সপ্তাহ বা বছরের জন্য এই রোগটিকে নিয়ন্ত্রণে রাখা যেতে পারে। যদিও নিয়ন্ত্রণে রাখার বিষয়টি বাতের ধরন ও রোগ নির্ণয়ের সময় আক্রান্ত সন্ধির (জয়েন্ট) সংখ্যার উপর নির্ভর করে। রোগ নির্ণয়ের সময় যে সব শিশুর অস্থিসন্ধি অধিক সক্রিয় থাকে, ঔষধ গ্রহণ শেষ হলে তাদের সন্ধিতে প্রদাহ/জ্বালাপোড়া হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। যেহেতু বাত নিরাময়ের জন্য কোনো নির্দিষ্ট চিকিৎসা আবিষ্কৃত হয়নি, তাই চিকিৎসকেরা এই রোগের সাথে সম্পর্কিত ব্যাথা বা জ্বালাপোড়াকে কমিয়ে রাখার চেষ্টা করেন। 

উত্তরঃ অপ্রাপ্তবয়স্কদের বাত বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে। এগুলি রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস থেকে ভিন্ন ধরনের। তবে বিশেষ এক ধরনের অপ্রাপ্তবয়স্কদের বাতের বৈশিষ্ট্যের সাথে রিউমাটয়েড আর্থরাইটিসের বৈশিষ্ট্যের মিল আছে। এই ধরনের বাত অনেকগুলি অস্থিসন্ধিকে আক্রান্ত করে। এটি প্রাপ্তবয়স্ক হবার পরও একজন ব্যক্তির মধ্যে থেকে যেতে পারে। অনেক চিকিৎসক মনে করেন যে, এটি মূলত শৈশবে শুরু হওয়া রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস।

হেলথ টিপস্‌

কী কী উপায়ে নিজে নিজেই বাতের সমস্যাগুলোকে কমিয়ে রাখা যায় যায়, সেগুলি শিশুদেরকে শেখানো যেতে পারে। নিয়মিত ব্যায়াম করা বাত কমানোর অন্যতম উপায়। ব্যায়াম বাতের চিকিৎসার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে কারণ ব্যায়াম মাংসপেশীর শক্তি ও অস্থিসন্ধির নমনীয়তা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। সাঁতার কাটা বাতের ব্যথা কমানোর জন্য অত্যন্ত উপযোগী, কারণ সাঁতার কাটলে শরীরের অস্থি সন্ধিতে খুব কম চাপ পড়ে।

ঠাণ্ডা ও গরম সেক প্রদান: বাতের কারণে বিশেষত সকাল বেলায় অনেক শিশুর মাংসপেশী শক্ত হয়ে যায়। এরকম সমস্যা হলে আক্রান্ত স্থানগুলিতে গরম সেক দিলে উপকার পাওয়া যেতে পারে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে আক্রান্ত স্থানে ঠাণ্ডা পানি প্রয়োগ করলে শিশুরা স্বস্তি বোধ করে । তবে বেশিরভাগ শিশুই গরম শেক বা গরম পানিতে স্নান করা পছন্দ করে।

সঠিক খাদ্য গ্রহণ ও ওজন নিয়ন্ত্রণ: বাতে আক্রান্ত কিছু শিশু ক্ষুধামন্দায় ভোগে। আবার ঔষধ গ্রহণ ও শারীরিক নিষ্ক্রিয়তার কারণে অনেক শিশুর ওজন বেড়ে যায়। তাই স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্যাভ্যাস তাদের শরীরের সঠিক ওজন বজায় রাখতে সাহায্য করে।

বিশেষজ্ঞ ডাক্তার

ডা: শাহ হাবিবুর রহমান

রিউম্যাটোলজি ( বাতরোগ) ( Rheumatology)

ডাঃ রওশন আরা স্বপ্না

রিউম্যাটোলজি ( বাতরোগ) ( Rheumatology)

প্রফেসর ডা: মিনহাজ রহিম চৌধুরী

রিউম্যাটোলজি ( বাতরোগ) ( Rheumatology)

প্রফেসর ডা: মুজিবুর রহমান

রিউম্যাটোলজি ( বাতরোগ) ( Rheumatology)

ডাঃ: মতিউর রহমান

রিউম্যাটোলজি ( বাতরোগ) ( Rheumatology)