বেদনাদায়ক মাসিক (Idiopathic painful menstruation)

শেয়ার করুন

বর্ণনা

অনেক মহিলারই মাসিক চলাকালে বা মাসিকের পূর্ববর্তী সময়ে তলপেটে ব্যথা হয়ে থাকে যা চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় প্রাইমারী ডিসমেনোরিয়া (Primary Dysmenorrhea) নামে পরিচিত। এই সমস্যা অস্বস্তিকর হয়ে থাকে ও একইসাথে দৈনন্দিন স্বাভাবিক কাজের ক্ষেত্রে ব্যাঘাত সৃষ্টি করে। মাসিকের সময় ব্যথা হওয়ার কিছু সুনির্দিষ্ট কারণ রয়েছে, যেমন- এন্ডোমেট্রিওসিস (Endometriosis) (জরায়ুর বাহিরে এন্ডোমেট্রিয়াল টিস্যু দেখা যায় এবং পেল্ভিসে ব্যথা হয়) বা ইউটেরিন ফাইব্রোয়েডস (Uterine fibroids)। এই ব্যথা থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায় হলো কি কারণে এই ব্যথা হচ্ছে তা চিহ্নিত করা ও এর চিকিৎসা করা। তবে একবার সন্তান প্রসবের পর অনেকের ক্ষেত্রে এই সমস্যা এমনিতেই ভালো হয়ে যায়।

কারণ

জরায়ুর সংকোচন-প্রসারন মাসিকের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। প্রোস্টাগ্লান্ডিন (Prostaglandins) নামক এক ধরনের হরমোন জাতীয় পদার্থ মাসিকের সময় জরায়ুর সংকোচন-প্রসারণকে ত্বরান্বিত করে।  প্রোস্টাগ্লান্ডিনের মাত্রা বেড়ে জরায়ু খুব দ্রুত সংকুচিত ও প্রসারিত হয় যার ফলে পেশীতে টান ধরে ও ব্যথা হয়। টান বা সংকোচন-প্রসারণের মাত্রা অত্যাধিক বেড়ে গেলে জরায়ুর রক্তবাহী ধমনী সরু বা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।

এছাড়াও যে সকল কারণে এ সমস্যা হতে পারে সেগুলো নিম্নরূপঃ 

  • এন্ডোমেট্রিওসিস (Endometriosis) : এক্ষেত্রে জরায়ুর অভ্যন্তরীণ আবরণী টিস্যু জরায়ুসহ ফেলোপিয়ান টিউব, ডিম্বাশয় এবং পেল্ভিসে চলে আসে এবং ব্যথার সৃষ্টি করে।
  • ইউটেরিন ফাইব্রোয়েডস (Uterine fibroids) : এই অবস্থায় জরায়ুর গাত্রে টিস্যু একত্রিত হয়ে পিন্ড সৃষ্টি করে। যার ফলে মাসিকের সময় ব্যথা হয়ে থাকে। তবে এই পিন্ড থেকে ক্যান্সার সৃষ্টি হয় না।
  • এডেনোমায়োসিস (Adenomyosis) : এই অবস্থায় জরায়ুর অভ্যন্তরীণ আবরণী টিস্যু জরায়ুর পেশিবহুল দেয়ালে বৃদ্ধি পেতে থাকে।
  • পেলভিক ইনফ্লামেটরী ডিজিজ (Pelvic inflammatory disease) (পি-আই-ডি) (PID) : এটি মহিলাদের জননাঙ্গের একটি ইনফেকশন যা সাধারনত অনিরাপদ যৌন মিলনের মাধ্যমে ছড়িয়ে থাকে।
  • সারভিকাল স্টেনোসিস (Cervical stenosis) : জরায়ুর মুখ ছোট হলে তা মাসিকের রক্তপ্রবাহে বাধা দেয় এবং জরায়ুতে চাপের সৃষ্টি করে ও ব্যথা হয়।

লক্ষণ

এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে চিকিৎসকেরা নিম্নলিখিত লক্ষণগুলি চিহ্নিত করে থাকেন

চিকিৎসা

 চিকিৎসকেরা এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিম্নলিখিত ঔষধগুলি গ্রহণ করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন:  

diclofenac sodium ethinylestradiol
ibuprofen ketoprofen
levonorgestrel medroxyprogesterone acetate
mefenamic acid naproxen
paracetamol

চিকিৎসকেরা এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিম্নলিখিত টেস্টগুলি করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন:  

সি-বি-সি (কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট) (CBC, Complete Blood Count)
ই-এস-আর (এরাইথ্রোসাইট সেডিমেন্টেশন রেট) (ESR, Erythrocyte Sedimentation Rate)
ইউ-এস-জি-এল/এ (USG L/A)
ইউরিন এনালাইসিস (Urinalysis)

ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়

যে সব কারণে মাসিকের সময় ব্যথা হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায় সেগুলো হলো:

  • কোনো মহিলার বয়স ৩০ এর কম হওয়া।
  • ১১ বছর বা এর পূর্বে প্রথম মাসিক শুরু হওয়া।
  • মাসিকের সময় অতিরিক্ত রক্তপাত।
  • অনিয়মিত মাসিক।
  • সন্তান প্রসব না করা।
  • ধূমপান।
  • পরিবারের অন্য কেউ একই সমস্যায় ভোগা।

যারা ঝুঁকির মধ্যে আছে

লিঙ্গঃ মহিলাদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের গড়পড়তা সম্ভাবনা রয়েছে।

জাতিঃ কৃষ্ণাঙ্গ ও হিস্পানিকদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ১ গুণ কম। শ্বেতাঙ্গ এবং অন্যান্য জাতিদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের গড়পড়তা সম্ভাবনা রয়েছে। 

সাধারণ জিজ্ঞাসা

উত্তরঃ এন্ডোমেট্রিওসিস ছাড়াও অন্যান্য কারণে মাসিকের সময় ব্যথা হয়ে থাকে। এটি শুধু এন্ডোমেট্রিওসিসের কারণে হয় না। 

উত্তরঃ ৩৯ বছর বয়সে একটি পূর্ণাঙ্গ গায়নোকলোজিকাল পরীক্ষা করা প্রয়োজন। এন্ডোমেট্রিওসিসের কারণে ব্যথা হলে যথাযথ চিকিৎসার প্রয়োজন রয়েছে। পেল্ভিসে ব্যথা ও যৌনমিলনের সময় ব্যথা থাকলে অ্যান্টি প্রোস্টাগ্লান্ডিন +/- ওরাল কন্ট্রাসেপ্টিভ (Contraceptive) ব্যবহার করা যেতে পারে।

হেলথ টিপস্‌

মাসিকের সময় ব্যথা হলে তা নিয়ন্ত্রণে কিছু ঘরোয়া চিকিৎসা কাজে লাগতে পারে। যেমনঃ

  • মাসিকের সময় আপনার দৈনন্দিন কাজগুলো স্বাভাবিকভাবে চালিয়ে যান। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, শারীরিক পরিশ্রম মাসিকের সময় ব্যথা কমাতে সাহায্য করে।
  • ব্যথা হলে তলপেটে হট ওয়াটার ব্যাগের সাহায্যে অথবা গরম পানিতে তোয়ালে বা কাপড় ভিজিয়ে সেক দিলে কিছুক্ষণের জন্য আরাম পাওয়া যায়।
  • গবেষণায় দেখা গেছে, ভিটামিন ই, ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড, ভিটামিন বি-১ (থায়ামিন), ভিটামিন বি-৬ ও ম্যাগনেসিয়াম সাপ্লিমেন্ট এই ব্যথা কমাতে সাহায্য করে।
  • মদ্যপান ও ধূমপান সম্পূর্ণরূপে এড়িয়ে চলুন।
  • মানসিক চাপ বা দুশ্চিন্তা কমানোর চেষ্টা করুন।

বিশেষজ্ঞ ডাক্তার

প্রফেসর ডা: মালিহা রশিদ

গাইনি ও অবসটেট্রিক্স ( Obstetrics & Gynaecology)

প্রফেসর ডাঃ সায়েবা আক্তার

গাইনি ও অবসটেট্রিক্স ( Obstetrics & Gynaecology)

প্রফেসর ডাঃ কোহিনুর বেগম

গাইনি ও অবসটেট্রিক্স ( Obstetrics & Gynaecology)

প্রফেসর ডাঃ এস.এফ. নার্গিস

গাইনি ও অবসটেট্রিক্স ( Obstetrics & Gynaecology)

প্রফেসর ডাঃ সামিনা চৌধুরী

গাইনি ও অবসটেট্রিক্স ( Obstetrics & Gynaecology)

প্রফেসর ডা: জেসমিন আরা বেগম

গাইনি ও অবসটেট্রিক্স ( Obstetrics & Gynaecology)

প্রফেসর ডাঃ শাহেরীন এফ. সিদ্দিকী

গাইনি ও অবসটেট্রিক্স ( Obstetrics & Gynaecology)

অধ্যাপক ডাঃ সারিয়া তাসনীম

গাইনি ও অবসটেট্রিক্স ( Obstetrics & Gynaecology)

এমবিবিএস, এফসিপিএস(গাইনী এন্ড অব্‌স), এমএসএমএড(ইংল্যান্ড), ডিআইপি সিইপিআইডি(লন্ডন)