হাইপারকেলেমিয়া (Hyperkalemia)

শেয়ার করুন

বর্ণনা

হাইপারকেলেমিয়া রোগটিকে খুব সহজেই নির্নয়/চিহ্নিত করা যায়। অধিকাংশ ব্যক্তির ক্ষেত্রে এই রোগ সহনীয় মাত্রায় পরিলক্ষিত হয়। এই রোগের তীব্রতা যেন বেড়ে না যায় সেজন্য এই রোগ সৃষ্টিকারী কারণ গুলোকে প্রতিরোধ করতে হবে। রক্তে পটাসিয়ামের পরিমান বেড়ে যাওয়ার ফলে ব্যক্তির কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হতে পারে এমনকি মৃত্যুও ঘটতে পারে। এই রোগটিকে সঠিকভাবে নির্নয় এবং সম্পূর্নভাবে নিরাময় না করলে রোগীর মৃত্যু হার বেড়ে যাবে।

রক্তে পটাসিয়ামের মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার কারণে হাইপারকেলেমিয়া দেখা দেয়। প্রতি লিটার রক্তে পটাসিয়ামের স্বাভাবিক পরিমান হলো ৩.৫ থেকে ৫.০ মিলিইকুইয়াভেলেন্ট। প্রতি লিটার রক্তে পটাসিয়ামের পরিমান যদি ৫.১ থেকে ৬.০ মিলিইকুইয়াভেলেন্ট হয় তাহলে হাইপারকেলেমিয়া কম মাত্রায় দেখা দেয়। প্রতি লিটার রক্তে পটাসিয়ামের পরিমান যদি ৬.১ থেকে ৭.০ মিলিইকুইয়াভেলেন্ট হয় তখন তাকে হাইপারকেলেমিয়া হিসাবে চিহ্নিত করা হয় এবং রক্তে পটাসিয়ামের পরিমান যখন ৭ মিলিইকুইয়াভেলেন্টের বেশি হয় তখন এই রোগটি মারাত্মক আকার ধারন করে।


কারণ

এই রোগের কারণ গুলো নিচে বর্ননা করা হলো।

  • কিডনী ফেইলরের কারণে পটাসিয়ামের মাত্রা বেড়ে যায়। কিডনী ফেইলরের ফলে কিডনী শরীর থেকে অতিরিক্ত পটাসিয়াম অপসারণ করতে পারে না। যার কারণে পটাসিয়াম জমা হতে থাকে।
  • মদ অথবা অন্যান্য নেশা জাতীয় দ্রব্যের ব্যবহারের কারণে এই রোগ হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। যদি আপনি অতিমাত্রায় মদ অথবা অন্যান্য নেশা জাতীয় দ্রব্য ব্যবহার করেন তাহলে আপনার মাংসপেশী গুলো ছিড়ে যাবে। যার ফলে মাংসপেশীর ভিতর দিয়ে অতি মাত্রায় পটাসিয়াম আপনার রক্তে মিশে যায়।
  • অতি মাত্রায় পটাসিয়াম গ্রহন করলে এবং কেমোথেরাপিতে ব্যবহৃত ঔষধের কারণে আপনার শরীরে পটাসিয়ামের মাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়ে যেতে পারে।
  • নির্দিষ্ট কিছু ট্রুমা যেমনঃ শরীরের কোনো স্থান পুড়ে যাওয়ার কারণেও পটাসিয়ামের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে।  

লক্ষণ

এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে চিকিৎসকেরা নিম্নলিখিত লক্ষণগুলি চিহ্নিত করে থাকেন:

ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়

যে সমস্ত কারণে কিডনীর ফাংশন (কার্যক্ষমতা) কমে যায় এবং হাইপারকেলেমিয়া দেখা দেয় সে সমস্ত কারণ গুলো নিম্নরূপ।

  • কিডনী ডিজিজ অথবা কিডনী ফেইলর। এর ফলে কিডনী পটাসিয়াম অপসারণ করতে পারে না।
  • সিস্টেমিক লুপাস অ্যারিথিমাটোসিস

নির্দিষ্ট কিছু ঔষধ ব্যবহারের কারণেও পটাসিয়ামের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। যেমনঃ

  • এসিই ইনহিবিটর
  • ননস্টেরোইডাল অ্যান্টি- ইনফ্লামেটরি ড্রাগ/ ঔষধ
  • বিটা ব্লকার

                                           

অন্যান্য যে সকল কারণে পটাসিয়ামের মাত্রা বেড়ে যায় সেগুলো নিম্নরূপ।

  • পানিশুন্যতার কারণে নিম্ন রক্তচাপ দেখা দেওয়া
  • ডায়াবেটিক কিটোয়াসিডোসিসের ফলে রক্তে এসিডের মাত্রা বেড়ে যাওয়া
  • যেকোনো ধরনের টিস্যু যেমনঃ পেশী বা টিউমার সেল নষ্ট হয়ে গেলে
  • রক্তে সুগারের পরিমান বৃদ্ধ পেলে

যারা ঝুঁকির মধ্যে আছে

লিঙ্গঃ পুরুষদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের গড়পড়তা সম্ভাবনা রয়েছে। মহিলাদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ১ গুণ কম। 

জাতিঃ শ্বেতাঙ্গ, হিস্প্যানিক এবং অন্যান্য জাতির মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ১ গুণ কম। কৃষ্ণাঙ্গদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের গড়পড়তা সম্ভাবনা রয়েছে। 


সাধারণ জিজ্ঞাসা


উত্তরঃ হাইপারকেলেমিয়া যে কোনো ব্যক্তির হতে পারে। তবে কিছু কিছু ব্যক্তির এই রোগ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। কিডনী ডিজঅর্ডারে আক্রান্ত ব্যক্তি, নবজাতক, বৃদ্ধ, হসপিটালে চিকিৎসাধীন রোগী এবং যে সকল ব্যক্তি নেশা জাতীয় দ্রব্য ব্যবহার করেন তাদের শরীরে পটাসিয়ামের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। যার ফলে এই সকল ব্যক্তিদের হাইপারকেলেমিয়া হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে।                                                                                                                                               

উত্তরঃ নির্দিষ্ট কিছু ক্যান্সার যেমনঃ লিউকোমিয়া, লিম্ফোমাতে আক্রান্ত রোগীকে কেমোথেরাপি দেওয়ার ফলে হাইপারকেলেমিয়া হতে পারে। নির্দিষ্ট কিছু কেমোথেরাপি কিডনীকে আক্রমণ করে এই রোগ সৃষ্টি করে। কিন্তু এই থেরাপি দেওয়ার কারণে রোগী সবসময় হাইপারকেলেমিয়ায় আক্রান্ত হয় না।                                                                                          

হেলথ টিপস্‌

হাইপারকেলেমিয়ায় আক্রান্ত রোগীদেরকে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো অনুসরন করতে হবে।

  • সব সময় চিকিৎসকের নির্দেশনা মেনে চলতে হবে।
  • চিকিৎসকের পরামর্শ ব্যথিত কোনো ঔষধ ব্যবহার করা যাবে না এবং চিকিৎসকের নির্দেশিত কোনো ঔষধ বাদ দেওয়া যাবে না।
  • আপনি অতীতে বা বর্তমানে যেসমস্ত ঔষধ বা ভিটামিন ব্যবহার করেছেন আপনার চিকিৎসকের কাছে তার বর্ননা দিতে হবে।
  • কম পটাসিয়াম যুক্ত খাবার খেতে হবে।
  • ফিউরোসেমাইড অথবা ওরাল বাইকার্বনেট ব্যবহার করতে হবে।

বিশেষজ্ঞ ডাক্তার

প্রফেসর ডাঃ মোঃ আলি হোসেন

মেডিসিন ( Medicine)

MBBS,FCPS,MD

প্রফেসর ডা: আনিসুল হক

মেডিসিন ( Medicine)

MBBS,FCPS,FRCP(Edin),PHD(Gent)

প্রফেসর ডা: খাজা নাজিম উদ্দীন

মেডিসিন ( Medicine)

MBBS(Dhaka),FCPS(Med), FRCP(Glasgo), FCPS(USA)

প্রফেসর ডা: মোঃ মামুন আল মাহাতাব (স্বপ্নীল)

মেডিসিন ( Medicine), হেপাটোলজি ( লিভার) ( Hepatology)

প্রফেসর ডা: এ বি এম আব্দুল্লাহ

মেডিসিন ( Medicine)

MRCP(UK), FRCP(Edin)