হাইপারকোলেস্টেরোলেমিয়া (Hypercholesterolemia)

শেয়ার করুন

বর্ণনা

রক্তে কোলেস্টেরল পরিমান বেড়ে যাওয়া কারণে হাইপারকোলেস্টেরোলেমিয়া দেখা দেয়। কোলেস্টেরল হলো এক ধরনের নরম, চর্বি জাতীয় উপাদান। ডিমের কুসুম, মাংস, মুরগির মাংস, মাছ এবং দুধ হতে তৈরী খাবার খাওয়ার কারণে শরীরে কোলেস্টেরল উৎপন্ন হয়। কোলেস্টেরল সেল মেমব্রান বা কোষ ঝিল্লি গঠন করে এবং কিছু নির্দিষ্ট হরমোন উৎপাদন করে। তাছাড়াও এটি এক ধরনের যৌগিক পদার্থ সৃষ্ট করে যেটি চর্বি হজমে সহায়তা করে। কোলেস্টেরলের পরিমান বেড়ে যাওয়ার ফলে ব্যক্তির হার্ট ডিজিজ বা হৃদরোগ হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।


হাইপারকোলেস্টেরোলেমিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের করোনারী আর্টারি ডিজিজ হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। যখন অতিরিক্ত কোলেস্টেরল ব্লাডস্ট্রিমের (রক্ত প্রবাহ) মাধ্যমে রক্ত কণিকা বিশেষ করে আর্টারি বা ধমনীর গাত্রে জমা হয় তখন এই রোগের সৃষ্টি হয়। এই ধমনীগুলো হৃৎপিন্ডে রক্ত সরাবরাহ করে। কোলেস্টেরলের মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার কারণে ক্লাম্প (প্লাগ) দেখা দেয়। যার ফলে ধমনীর প্রাচীর বা গাত্র সংকীর্ণ এবং শক্ত হয়ে যায়। ক্লাম্প গুলোর আকার বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে ধরনীর রক্তপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি হয়। যার ফলে ধরনী গুলো হৃৎপিন্ডে রক্ত সরাবরাহ করতে পরে না। করোনারী আর্টারি গুলোতে প্লাগ জমার কারণে বুকে ব্যথার (অ্যানজাইনা) সৃষ্টি হয়। এর ফলে ব্যক্তির হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বেড়ে যায়।  


বংশগত হাইপারকোলেস্টেরোলেমিয়ার কারণে শরীরে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। এটির কারণে শরীরের বিভিন্ন টিস্যু আক্রান্ত হয়ে থাকে। যদি টেনডনে (রগ) কোলেস্টেরল জমা হয় তাহলে এটিকে টেনডন জানথোমাস বলে। সাধারনত অ্যাকিলিস টেনডন এবং হাত ও আঙ্গুলের টেনডন (রগ) এটি দ্বারা আক্রান্ত হয়ে থাকে। চোখের পাতার নিচে হলুদ বর্নের কোলেস্টেরল জমা হয় যা জানথেলাজমাটা নামে পরিচিত। কোলেস্টেরল কর্ণিয়াতে জমা হয়ে ধূসর রঙের রিং সৃষ্টি করে যাকে আর্কাস কর্ণিয়ালিস বলে।


কারণ

এই রোগের কারণ গুলো নিচে বর্ণনা করা হলো।

  • হাইপারকোলেস্টেরোলেমিয়া বংশগত কারণে হতে পরে। এক্ষেত্রে জিন (বংশানু) গুলো এলডিএল (ক্ষতিকর) কোলেস্টেরলের মেটাবলিজমকে (বিপাক) প্রভাবিত করে।
  • ফ্যাট বা চর্বির পরিমাণ অতি মাত্রায় বেড়ে যাওয়ার ফলে এলডিএল (ক্ষতিকর) কোলেস্টেরলের মাত্রাও বেড়ে যায়। যার কারণে এই সমস্যাটি দেখা দেয়।
  • ডায়াবেটিসে আক্রান্ত কিছু কিছু ব্যক্তির শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশি থাকে। যার কারণে তাদের এই সমস্যা দেখা দেয়।  
  • দৈনন্দিন জীবন যাত্রার পরিবর্তনের কারণে শারীরিক পরিশ্রম অথবা ব্যয়ামের পরিমাণ কমে যায়। যার ফলে শরীরে চর্বি এবং কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যায়।  

লক্ষণ

এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে চিকিৎসকেরা নিম্নলিখিত লক্ষণগুলি চিহ্নিত করে থাকেন:

ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়

এই রোগের ঝুঁকিপূর্ণ বিষয় গুলো নিম্নরূপ।

  • স্থূলতা
  • অতিরিক্ত চর্বি এবং ফ্যাটি এসিড যুক্ত খাবার খাওয়া
  • পর্যাপ্ত পরিমানে ব্যয়াম না করা
  • ডায়াবেটিস
  • পরিবারে কারো হৃদরোগ থাকলে
  • উচ্চ রক্তচাপ
  • মদ্যপান
  • ধুমপান  

যারা ঝুঁকির মধ্যে আছে

লিঙ্গঃ পুরুষদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের গড়পড়তা সম্ভাবনা রয়েছে। মহিলাদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ১ গুণ কম। 

জাতিঃ শেতাঙ্গদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের গড়পড়তা সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে কৃষ্ণাঙ্গ এবং হিসপানিকদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ১ গুণ কম এবং অন্যান্য জাতির মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের গড়পড়তা সম্ভাবনা রয়েছে। 


হেলথ টিপস্‌

নিম্নলিখিত বিষয় গুলো অনুসরনের মাধ্যমে হাইপারকোলেস্টেরোলেমিয়া প্রতিরোধ করা সম্ভব।

  • ফলমূল, শাকসবজি, মাছ, এবং কম চর্বিযুক্ত অথবা চর্বিমুক্ত দুগ্ধজাত খাবার খেতে হবে।
  • শারীরিক পরিশ্রম করতে হবে।
  • অতিরিক্ত ওজন কমাতে হবে।
  • ধুমপান পরিহার করতে হবে।


বিশেষজ্ঞ ডাক্তার

প্রফেসর ডাঃ মোঃ আলি হোসেন

মেডিসিন ( Medicine)

MBBS,FCPS,MD

প্রফেসর ডা: আনিসুল হক

মেডিসিন ( Medicine)

MBBS,FCPS,FRCP(Edin),PHD(Gent)

প্রফেসর ডা: মোঃ মামুন আল মাহাতাব (স্বপ্নীল)

মেডিসিন ( Medicine), হেপাটোলজি ( লিভার) ( Hepatology)

ডাঃ শাহাজাদা সেলিম

এন্ডোক্রাইনোলজি এন্ড মেটাবলিজম ( হরমোন) ( Endocrinology & Metabolism)

প্রফেসর ডা: জহুরুল আলম খান

কার্ডিওলজি ( হার্ট) ( Cardiology)

প্রফেসর ডাঃমোঃ হাফিজুর রহমান

এন্ডোক্রাইনোলজি এন্ড মেটাবলিজম ( হরমোন) ( Endocrinology & Metabolism)

ডাঃ কামাল পাশা

কার্ডিওলজি ( হার্ট) ( Cardiology)