হাইড্রোসেফালাস (Hydrocephalus)

শেয়ার করুন

বর্ণনা

হাইড্রোসেফালাস এমন একটি সমস্যা যার কারণে মস্তিষ্কের গভীরে অবস্থিত গহ্বরে তরল জমা হয়। অতিরিক্ত তরল জমার ফলে গহ্বরের আকার বড় হয়ে যায় এবং এটি মস্তিষ্কের উপর চাপ সৃষ্টি করে।

সেরিব্রোস্পাইনাল ফ্লুইড সাধারনত গহ্বরের মাধ্যমে প্রবাহিত হয়ে মস্তিষ্ক এবং স্পাইনাল কলামে এসে জমা হয়। সেরিব্রোস্পাইনাল ফ্লুইড মস্তিষ্কে অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগ করলে হাইড্রোসেফালাসের সৃষ্টি হয়। যার ফলে মস্তিষ্কের টিস্যু ক্ষতিগ্রস্থ হয় এবং মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমে যায়।                                                                 

হাইড্রোসেফালাস যে কোনো বয়সের ব্যক্তিদের হতে পারে। তবে শিশু এবং বৃদ্ধ ব্যক্তিদের এই সমস্যাটি বেশি দেখা যায়।

হাইড্রোসেফালাস রোগটিকে সার্জারির মাধ্যমে নিরাময় করা যায় এবং এই ধরনের চিকিৎসার মাধ্যমে মস্তিষ্কে সেরিব্রোস্পাইনাল ফ্লুইডের মাত্রা স্বাভাবিক রাখা সম্ভব। বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসার মাধ্যমে এই রোগের উপসর্গ গুলোকে নিয়ন্ত্রন অথবা মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা স্বাভাবিক রাখা সম্ভব।


কারণ

হাইড্রোসেফালাসের সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ জানা যায় নি। যাদের জিনগত ত্রুটি (যেমনঃ অ্যাকুডাকটল স্টেনোসিস) অথবা ডেভেলপমেন্টাল ডিসঅর্ডার (যাদের নিউরাল টিউব যেমনঃ স্পাইনা বাইফিডা এনসেফালোসিলে ত্রুটি) রয়েছে তাদের এই রোগ হওয়ার ঝুঁকি বেশি। এই সমস্যার অন্যান্য সম্ভাব্য কারণ গুলো হলো অপরিপক্ক শিশুর বিভিন্ন ধরনের জটিলতা (যেমনঃ ইন্ট্রাভেনট্রিকুলার হেমোরেজ), তাছাড়াও মেনিনজাইটিস, টিউমার, ট্রুমাটিক হেড ইনজুরি, সাবএরাকনোইয়েড হেমোরেজ।  

লক্ষণ

এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে চিকিৎসকেরা নিম্নলিখিত লক্ষণগুলি চিহ্নিত করে থাকেন:

ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়

হাইড্রোসেফালাসের ঝুঁকিপূর্ণ বিষয় গুলো নিচে বর্ননা করা হলো।

  • শিশু মাতৃগর্ভে থাকাকালীন সময় থেকেই হাইড্রোসেফালাসে আক্রান্ত হতে পারে অথবা শিশুর জন্মের পরে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই নিন্ম লিখিত কারণ গুলোর জন্য এই রোগে দেখা দিতে পারে।
  • শিশুর কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের অস্বাভাবিকতার কারণে সেরিব্রাল স্পাইনাল ফ্লুইড প্রবাহে বাধা সৃষ্টি হয়।
  • মস্তিষ্কের গহ্বরে রক্তক্ষরণ হওয়া। এই সমস্যাটি অপরিপক্ক শিশুর হয়ে থাকে।
  • গর্ভাবস্থায় জরায়ুর (যেমনঃ রুবেলা বা সিফিলিস) ইনফেকশনের কারণে ভ্রূণের মস্তিষ্কের টিস্যু গুলোতে ইনফ্লামেশন (জ্বালাপোড়া) দেখা দেয়।

যে কোনো বয়সের ব্যক্তিদের হাইড্রোসেফালাসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ বিষয় গুলো নিম্নরূপ।

  • মস্তিষ্ক অথবা স্পাইনাল কোডে ক্ষত বা টিউমার
  • কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে ইনফেকশন (যেমনঃ ব্যাকটেরিয়াল মেনিনজাইটিস অথবা মাম্পস)
  • স্ট্রোক অথবা মস্তিষ্কে আঘাত লাগার কারণে মস্তিষ্ক থেকে রক্তপাত হওয়া
  •  মস্তিষ্কে অন্যান্য ট্রমাটিক ইনজুরির কারণেও হাইড্রোসেফালাস হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।  

যারা ঝুঁকির মধ্যে আছে

লিঙ্গঃ পুরুষদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের গড়পড়তা সম্ভাবনা রয়েছে। মহিলাদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ১ গুণ কম। 

জাতিঃ শেতাঙ্গ, কৃষ্ণাঙ্গ এবং অন্যান্য জাতির মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ১ গুণ কম।  অন্যদিকে হিস্প্যানিকদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের গড়পড়তা সম্ভাবনা রয়েছে।


সাধারণ জিজ্ঞাসা


উত্তরঃ আল্ট্রাসাউন্ডের মাধ্যমে চিকিৎসক ভ্রূণের বিকাশ পরীক্ষা করে থাকেন। আল্ট্রাসাউন্ড হচ্ছে এমন এক ধরনের টেস্ট (পরীক্ষা) যার মাধ্যমে ঘনঘন শব্দ তরঙ্গ ব্যবহার করে গর্ভাশয়ের ভ্রূণের ছবি দেখানো হয়। আল্ট্রাসাউন্ড করার সময় চিকিৎসক বিভিন্ন বিষয় যেমনঃ ভ্রূণের মস্তিষ্ক এবং স্পাইনের (মেরুদণ্ড) বিকাশ লক্ষ্য করেন। গর্ভধারনের ১৩ সপ্তাহের মধ্যেই এই রোগ নির্নয় করা যায়। যদিও গর্ভধারনের ২০ থেকে ২৪ সপ্তাহের মধ্যেই শিশুর মস্তিষ্কের গহ্বরের অস্বাবিকতা লক্ষ্য করা যায়।                                                                  

উত্তরঃ আল্ট্রাসাউন্ডের মাধ্যমে চিকিৎসক ভ্রূণের বিকাশ পরীক্ষা করে থাকেন। আল্ট্রাসাউন্ড হচ্ছে এমন এক ধরনের টেস্ট (পরীক্ষা) যার মাধ্যমে ঘনঘন শব্দ তরঙ্গ ব্যবহার করে গর্ভাশয়ের ভ্রূণের ছবি দেখানো হয় ।আল্ট্রাসাউন্ড করার সময় চিকিৎসক বিভিন্ন বিষয় যেমনঃ ভ্রূণের মস্তিষ্ক এবং স্পাইনের (মেরুদণ্ড) বিকাশ লক্ষ্য করেন। গর্ভধারনের ১৩ সপ্তাহের মধ্যেই এই রোগ নির্নয় করা যায়। যদিও গর্ভধারনের ২০ থেকে ২৪ সপ্তাহের মধ্যেই শিশুর মস্তিষ্কের গহ্বরের অস্বাবিকতা লক্ষ্য করা যায়।                                                                 

হেলথ টিপস্‌

যদি বংশগত কারণে হাইড্রোসেফালাস হয় তাহলে এটি সম্পূর্ণভাবে নিরাময় করা যায় না। তবে গর্ভধারণের পূর্বে কিছু কিছু সতর্কতা অবলম্বনের মাধ্যমে ভ্রূণের এই রোগের ঝুকি কমানো সম্ভব।

  • গর্ভাবস্থায় পরিষ্কার পরিছন্ন থাকতে হবে এবং স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে হবে। প্রচুর পরিমানে ফলমূল এবং শাকসবজি খেতে হবে। শাকসবজিতে ফোলিক এসিড থাকে যা শিশুর নিউরাল টিউবের ত্রুটি প্রতিরোধে সহায়তা করে। শিশুর নিউরাল টিউবের ত্রুটির কারণে বংশগত হাইড্রোসেফালাস হওয়ার ঝুকি বেড়ে যায়। সব সময় মনে রাখতে হবে ফলমূল এবং শাকসবজি খাওয়ার আগে ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে।  
  • আপনার এবং আপনার শিশুর মাথায় যেন আঘাত না লাগে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
  • বিভিন্ন ধরনের ইনফেকশাস (ছোঁয়াচে) ডিজিজ যেমনঃ চিকেনপক্স এবং মেনানজাইটিসের কারণে শিশুর হাইড্রোসেফালাস হওয়ার ঝুকি বেড়ে যায়। শিশুকে সব গুলো টিকা দিতে হবে।  
  • অপরিকল্পিত গর্ভধারন এবং গর্ভাবস্থায় নির্দিষ্ট কিছু ইনফেকশনের কারণে ভ্রুণের এই সমস্যা দেখা দেয়। এজন্য আপনাকে গর্ভধারনের পূর্বে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। গর্ভাবস্থায় সবসময় চিকিৎসকের পরামর্শ মেতে চলতে হবে।
  • গর্ভাবস্থায় মদ এবং ধুমপান পরিহার করতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী মাঝে মাঝে ব্যয়াম করতে হবে।  

বিশেষজ্ঞ ডাক্তার

প্রফেসর ডা:মোহাম্মদ হানিফ

পেডিয়াট্রিকস ( Pediatrics)

প্রফেসর ডা: মোঃ মামুন আল মাহাতাব (স্বপ্নীল)

মেডিসিন ( Medicine), হেপাটোলজি ( লিভার) ( Hepatology)

প্রফেসর ডা: এ বি এম আব্দুল্লাহ

মেডিসিন ( Medicine)

MRCP(UK), FRCP(Edin)

প্রফেসর ডা: আলী কাওছার

পেডিয়াট্রিকস ( Pediatrics)

ডাঃএস জি মোগনী মওলা

মেডিসিন ( Medicine)

MBBS, FCPS(Medicine), FACP(America)

প্রফেসর ডা: হাসান জাহিদুর রহমান

নিউরোলজি ( স্নায়ুতন্ত্র) ( Neurology)