হাইডেটিডিফর্ম মোল (Hydatidiform mole)

শেয়ার করুন

বর্ণনা

হাইডেটিডিফর্ম মোল রোগটি মোলার প্রেগনেন্সি অথবা হাইডেটিড মোল নামেও পরিচিত।

হাইডেটিডিফর্ম মোল হচ্ছে গর্ভাশয়ের অভ্যন্তরে টিস্যুর পিন্ড বা দলা যা গর্ভের শিশুকে আক্রমণ করে না। অস্বাভাবিক গর্ভধারনের কারণে এই সমস্যাটি দেখা দেয়। এই সমস্যাটির ফলে গর্ভধারনের প্রাথমিক পর্যায়ে রক্তপাত হয় এবং সাধারনত গর্ভধারনের প্রথমিক পর্যায়ে আল্ট্রাসাউন্ড স্ক্যান করার কারণে এই ধরনের সমস্যা হয়ে থাকে। চিকিৎসার মাধ্যমে এই রোগ সম্পূর্নভাবে নিরাময় করা সম্ভব। যেহেতু হাইডেটিডিফর্ম মোল ক্যান্সারে রূপান্তরিত হতে পারে সেহেতু এই সমস্যাটিকে নিবিড়ভাবে পরীক্ষা করতে হবে। যদি হাইডেটিডিফর্ম মোল ক্যান্সারে রূপান্তরিত হয় তাহলে চিকিৎসার মাধ্যমে এটিকে সম্পূর্নভাবে নিরাময় করা যায়।


কারণ

প্লাসেন্টাতে (গর্ভফুল) একধরনের টিস্যুর অতিমাত্রায় উৎপাদনের কারণে হাইডেটিডিফর্ম মোল অথবা মোলার প্রেগনেন্সি হয়ে থাকে। গর্ভের ভ্রুণ প্লাসেন্টা থেকে খাবার গ্রহন করে। এই টিস্যু যখন অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেতে থাকে তখন তাকে মাস (পিন্ড) বলে।

হাইডেটিডিফর্ম মোল দুই প্রকার। যথাঃ

  • পার্শিয়াল মোলার প্রেগনেন্সিঃ এই অবস্থায় প্লাসেন্টা এবং ভ্রুণের অস্বাভাবিকতা দেখা যায়।
  • কমপ্লিট মোলার প্রেগনেন্সিঃ এই অবস্থায় প্লাসেন্টার অস্বাভাবিকতা দেখা যায় কিন্তু কোনো ভ্রুণের উপস্থিতি লক্ষ করা যায় না।

উভয় অবস্থায় গর্ভধারনের সময় সমস্যার সৃষ্টি করে। তবে এই অবস্থা গুলোর সঠিক কারণ জানা যায় নি। খাদ্যে প্রোটিন, চর্বি এবং ভিটামিন এ এর অভাব হলে এই ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। 


লক্ষণ

এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে চিকিৎসকেরা নিম্নলিখিত লক্ষণগুলি চিহ্নিত করে থাকেন:

ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়

প্রতি ১০০০ গর্ভবতী মহিলার মধ্যে এক জন মহিলা এই রোগে আক্রান্ত হন। বিভিন্ন কারণে মোলার প্রেগনেন্সির ঝুঁকি বেড়ে যায়।

  • ৩৫ বছর বয়সের পরে এবং ২০ বছর বয়সের আগে গর্ভধারনের ফলে মহিলাদের এই রোগের ঝুকি বেড়ে যায়।
  • যদি কোনো মহিলার একবার এই রোগ হয় তাহলে তার পুনরায় এই রোগ হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।


যারা ঝুঁকির মধ্যে আছে

লিঙ্গঃ পুরুষদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ৩৪৯ গুণ কম। মহিলাদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের গড়পড়তা সম্ভাবনা রয়েছে। 

জাতিঃ শেতাঙ্গদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ১ গুণ কম। অন্যদিকে কৃষ্ণাঙ্গদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের গড়পড়তা সম্ভাবনা রয়েছে। হিস্প্যানিকদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ২ গুণ বেশি অন্যান্য জাতির মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ১ গুণ কম।    


সাধারণ জিজ্ঞাসা


উত্তরঃ পার্শিয়াল মোলার প্রেগনেন্সিতে আক্রান্ত মহিলা গর্ভধারন করতে পারবেন। 

মোলার প্রেগনেন্সির কারণে যে সমস্যা দেখা দেয় তা খুব বেশি জটিল নয়। এই রোগের কারণে সৃষ্ট জটিলতা এড়ানোর জন্য চিকিৎসার পরবর্তী এক বছরের মধ্যে গর্ভধারন করার পরিকল্পনা করা উচিত নয় কারণ জরায়ু থেকে এই মলার টিস্যু গুলো অপসারিত হতে বেশ কিছু সময় লাগে।


উত্তরঃ মোলার প্রেগনেন্সি খুবই বিরল। প্রতি ১০০০ গর্ভবতী মহিলার মধ্যে ১ থেকে ৩ জন এই রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকে।                                     

হেলথ টিপস্‌

যদি আপনার একবার মোলার প্রেগনেন্সি হয়ে থাকে তাহলে পুনয়ায় গর্ভধারনের পূর্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। পুনয়ায় গর্ভধারনের জন্য চিকিৎসক আপনাকে ৬ মাস থেকে ১ বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করার পরামর্শ দিবেন। পুনয়ায় গর্ভধারন করলে চিকিৎসক গর্ভধারনের প্রাথমিক পর্যায়ে আল্ট্রাসাউন্ড করার মাধ্যমে আপনার শরীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষন করবেন।                                                                                                          

বিশেষজ্ঞ ডাক্তার

প্রফেসর ডা: মালিহা রশিদ

গাইনি ও অবসটেট্রিক্স ( Obstetrics & Gynaecology)

প্রফেসর ডাঃ শাহেরীন এফ. সিদ্দিকী

গাইনি ও অবসটেট্রিক্স ( Obstetrics & Gynaecology)

প্রফেসর ডাঃ এস.এফ. নার্গিস

গাইনি ও অবসটেট্রিক্স ( Obstetrics & Gynaecology)

প্রফেসর ডাঃ সামিনা চৌধুরী

গাইনি ও অবসটেট্রিক্স ( Obstetrics & Gynaecology)

ডাঃ শারমীনা সীদ্দিক

গাইনি ও অবসটেট্রিক্স ( Obstetrics & Gynaecology)

প্রফেসর ডা: জেসমিন আরা বেগম

গাইনি ও অবসটেট্রিক্স ( Obstetrics & Gynaecology)

প্রফেসর ডাঃ সায়েবা আক্তার

গাইনি ও অবসটেট্রিক্স ( Obstetrics & Gynaecology)

প্রফেসর ডাঃ কোহিনুর বেগম

গাইনি ও অবসটেট্রিক্স ( Obstetrics & Gynaecology)