উচ্চ রক্তচাপ (High blood pressure)

শেয়ার করুন

বর্ণনা

হাইপারটেনশন বা উচ্চ রক্ত চাপ (এইচ-টি-এন) (HTN) হলো একটি ক্রনিক সমস্যা যার ফলে ধমনীর  রক্তচাপ বেড়ে যায়। একে আর্টারিয়াল হাইপারটেনশনও বলা হয়।   স্বাভাবিকভাবে রক্তনালীর মধ্য দিয়ে রক্ত সঞ্চালনের জন্য হৃৎপিণ্ড যেভাবে কাজ করে, রক্তচাপ বেড়ে গেলে এ কাজটি কঠিন হয়ে পড়ে। সিস্টোলিক ও ডায়াস্টোলিক পরিমাপ দ্বারা রক্তচাপ নির্ণয় করা হয়। এটি নির্ভর করে হৃৎপেশির সংকোচন ও প্রসারণের উপর। হৃৎপেশির সংকোচন ও প্রসারণকে যথাক্রমে সিস্টোল (Systole) ও ডায়াস্টোল (Diastole)বলে। সিস্টোলকে সর্বোচ্চ রক্তচাপ এবং ডায়াস্টোলকে সর্বনিম্ন রক্তচাপ বলা হয়। একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির সিস্টোলিক রক্তচাপ ১০০-১৪০ মিলিমিটার পারদস্তম্ভ (সর্বোচ্চ চাপ) এবং ডায়াস্টোলিক রক্তচাপ ৭০-৯০ মিলিমিটার পারদস্তম্ভের (সর্বনিম্ন চাপ) সমান। কোনো ব্যক্তির সিস্টোলিক রক্তচাপ যদি সবসময় ১৪০ মিলিমিটার পারদস্তম্ভের বেশি এবং ডায়াস্টোলিক রক্তচাপ ৭০-৯০ মিলিমিটার পারদস্তম্ভের বেশি থাকে তবে তার উচ্চ রক্তচাপ আছে বলে ধরা হয়।

কারণ

উচ্চ রক্তচাপ দুই প্রকারঃ

  1. প্রাইমারি (এসেন্সিয়াল) হাইপারটেনশন (Primary (essential) hypertension): এক এক শ্রেণীর উচ্চ রক্তচাপের কোন উল্লেখযোগ্য কারণ খুঁজে পাওয়া যায়নি। এই ধরনের উচ্চ রক্ত চাপকে প্রাইমারি হাইপারটেনশন বা এসেন্সিয়াল হাইপারটেনশনও বলা হয়। সময়ের সাথে সাথে এটি আরও খারাপের দিকে যেতে থাকে।
  2. সেকেন্ডারি হাইপারটেনশন (Secondary hypertension)কিছু ব্যক্তির ক্ষেত্রে অন্তর্নিহিত কোনো শারীরিক কারণে উচ্চ রক্তচাপ হয়ে থাকে। একে সেকেন্ডারি হাইপারটেনশন বলা হয়। এটি হঠাৎ করে হতে পারে এবং প্রাইমারি হাইপারটেনশনের তুলনায় এক্ষেত্রে রক্তচাপ অধিক বেড়ে যায়। বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা ও ঔষধ গ্রহণের কারণে সেকেন্ডারি হাইপারটেনশন হতে পারে। যেমন-
  • কিডনির সমস্যা (Kidney problems)।
  • অ্যাড্রিনাল গ্ল্যান্ড টিউমার (Adrenal gland tumors)।
  • থায়রয়েড সমস্যা (Thyroid problems)।
  • রক্তনালীতে জন্মগতভাবে কিছু ত্রুটি থাকলে।
  • জন্মনিয়ন্ত্রক পিল, পেইনকিলার, ঠান্ডার ঔষধ ইত্যাদির কারণে।
  • বিভিন্ন অবৈধ ঔষধ যেমন- কোকেইন ও এমফেটামিন গ্রহণ।
  • অতিরিক্ত মদ্যপান।
  • অবস্ট্রাক্টিভ স্লিপ এপ্নিয়া (Obstructive sleep apnea)

লক্ষণ

এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে চিকিৎসকেরা নিম্নলিখিতলক্ষণগুলি চিহ্নিত করে থাকেন

চিকিৎসা

 চিকিৎসকেরা এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিম্নলিখিত ঔষধগুলি গ্রহণ করার পরামর্শদিয়ে থাকেন:  

amiloride hydrochloride amlodipine
atenolol bisoprolol
captopril carvedilol
chlorthalidone diltiazem hydrochloride
enalapril maleate frusemide
hydrochlorothiazide lisinopril
losartan potassium nifedipine
olmesartan medoxomil prazosin
propranolol hydrochloride ramipril
spironolactone terazosin hydrochloride
triamterine valsartan
minoxidil reserpine
hydralazine

চিকিৎসকেরা এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিম্নলিখিত টেস্টগুলি করার পরামর্শদিয়ে থাকেন:  

ব্লাড গ্লুকোজ, ফাস্টিং (Blood Glucose, Fasting)
কোলেস্টেরল (Cholesterol)
ক্রিয়েটিনিন, সেরাম (Creatinine, Serum)
ইলেক্ট্রোলাইটস, সেরাম (Electrolytes, serum)
এইচ-ডি-এল (HDL)
এল-ডি-এল (LDL)
লিপিড প্রোফাইল (Lipid profile)
ট্রাইগ্লিসারাইডস (Tryglycerides)
ইউরিক এসিড (Uric Acid)
সি-বি-সি (কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট) (CBC, Complete Blood Count)
টি-এস-এইচ (TSH)
ইকো কার্ডিওগ্রাম ২ডি (Echo cardiogram 2D)
ইলেক্ট্রোকার্ডিওগ্রাম (ই-সি-জি) (Electrocardiogram, ECG)
ইউরিন এনালাইসিস (Urinalysis)
ইউরিন ফর মাইক্রো এলবুমিন (Urine for Microalbumin)

ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়

যে যে বিষয়ের কারেণ উচ্চ রক্তচাপ হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়-

  • অতিরিক্ত মেদের কারণে।
  • খাবারে লবণের (সোডিয়াম) পরিমাণ বেশি থাকলে।
  • খাবারে পটাসিয়ামের পরিমাণ কম থাকলে।
  • কর্মবিমুখতা।
  • অতিরিক্ত মদ্যপান।
  • মানসিক চাপ।

যারা ঝুঁকির মধ্যে আছে

লিঙ্গঃ  পুরুষ ও মহিলা উভয়ের মধ্যেই এইরোগ নির্ণয়ের গড়পড়তা সম্ভাবনা রয়েছে।

জাতিঃ  কৃষ্ণাঙ্গ ও অন্যান্য জাতিদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের গড়পড়তা সম্ভাবনা রয়েছে। শ্বেতাঙ্গ ও হিস্প্যানিকদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ১ গুণ কম।

সাধারণ জিজ্ঞাসা

উত্তরঃ উচ্চ রক্তচাপের চিকিৎসা করানো না হলে নিম্নলিখিত জটিলতা দেখা যেতে পারেঃ
·         হৃদরোগ (Heart disease)
·         কিডনির সমস্যা  (Kidney disease)
·         এনিউরিজম (ধমনীর কোন নির্দিষ্ট স্থানে অস্বাভাবিক ফুলে যাওয়া)  হওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায় (Increased risk of aneurysms)

·         চোখের ক্ষতি (Eye damage)
·         স্ট্রোক (Stroke) 

উত্তরঃ উচ্চ রক্তচাপ কমানোর জন্য খাদ্যাভ্যাসে যে ধরনের পরিবর্তন আনতে হবে এ সেগুলি হল-

  • ক্যাফেইনের ব্যবহার কমাতে হবে।
  • লবণের ব্যবহার বন্ধ করতে হবে।
  • ফ্যাটি ফুডের ব্যবহার কমাতে হবে।
  • মদ্যপান এড়িয়ে যেতে হবে।
  • কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।
  • পটাসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে।

হেলথ টিপস্‌

নিম্নলিখিত পন্থা অবলম্বনের মাধ্যমে উচ্চ রক্তাচাপ হওয়ার সম্ভাবনা কমানো যায়ঃ

  • ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।
  • হাঁটা, খেলাধুলা ও শারীরিক পরিশ্রমের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।
  • শরীরে যেন অতিরিক্ত মেদ না জমে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
  • অতিরিক্ত লবণ খাওয়া বন্ধ করতে হবে।
  • ধূমপান থেকে বিরত থাকতে হবে।
  • দুশ্চিন্তা ঝেড়ে ফেলে মন হালকা রাখতে হবে।
  • পরিমিত সময় ধরে ঘুমাতে হবে।
  • রসুন খাওয়ার অভ্যাস করতে হবে।
  • বিভিন্ন মাছ যেমন স্যামন ও ম্যাকারেলের তেল খেতে হবে।
  • মাঝে মাঝে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

বিশেষজ্ঞ ডাক্তার

প্রফেসর নাজির আহমেদ

কার্ডিওলজি ( হার্ট) ( Cardiology)

প্রফেসর ফাজিলা-তুন-নেসা মালিক

কার্ডিওলজি ( হার্ট) ( Cardiology)

ডা: কামাল পাশা

কার্ডিওলজি ( হার্ট) ( Cardiology)

অধ্যাপক ডাঃ সাবিনা হাশেম

কার্ডিওলজি ( হার্ট) ( Cardiology)

ডাঃ কামাল পাশা

কার্ডিওলজি ( হার্ট) ( Cardiology)

সহযোগী অধ্যাপক ডা: আবদুল মোমেন

কার্ডিওলজি ( হার্ট) ( Cardiology)

প্রফেসর ডা: মো: সাফিউদ্দিন

কার্ডিওলজি ( হার্ট) ( Cardiology)