বিষক্রিয়াজনিত হেপাটাইটিস (Hepatitis due to a toxin)

শেয়ার করুন

বর্ণনা

পরিবেশের দূষণ ও কিছু কিছু ঔষধ গ্রহণের কারণে লিভারের কোষগুলোতে বিষক্রিয়া দেখা দেয় এবং এর ফলে লিভারে প্রদাহের সৃষ্টি হয়।

আমরা অনেকেই বিভিন্ন ধরনের ঔষধ খেয়ে থাকি যা আমাদের রক্তের সাথে মিশে যায়। লিভারের একটি প্রধান কাজ হল এই ঔষধকে বিশ্লেষিত করে এর বিষাক্ত প্রভাব থেকে দেহকে মুক্ত রাখা। তবে এই বিশ্লেষণের সময় উপজাত হিসেবে কিছু পদার্থ উৎপন্ন হয়। যদিও লিভারের পুনরায় পূর্বের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসার ক্ষমতা রয়েছে, কিন্তু বারবার বিষাক্ত পদার্থের সংস্পর্শে আসলে তা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

কারণ

নিম্নলিখিত কারণে বিষক্রিয়াজনিত হেপাটাইটিস বেশি হয়ে থাকেঃ

  • যারা মাত্রাতিরিক্ত হারে মদ্যপান করেন তাদের লিভারে ইনফ্লামেশন (জ্বালাপোড়া বা প্রদাহ) হয়ে থাকে।
  • বিভিন্ন ব্যথানাশক ঔষধ যেমন- অ্যাসিটামিনোফেন (Acetaminophen), অ্যাসপিরিন, ইবিউপ্রোফিন, ন্যাপ্রোক্সেন ইত্যাদি ঘনঘন সেবন করলে বা অ্যালকোহলের এর সাথে মিশিয়ে খেলে এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।
  •  অনেক সময় শিশুরা ভিটামিন ঔষধকে ক্যান্ডি মনে করে অনেক খেয়ে ফেললে তা তাদের লিভারের ক্ষতি করে।
  • বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ যেমন কার্বন টেট্রাক্লোরাইড, ভিনাইল ক্লোরাইড, পলিক্লোরিনেটেড বাই ফিনাইল, হার্বিসাইড প্যারাকোয়াট ইত্যাদির সংস্পর্শে বেশি থাকলে এই রোগ হতে পারে।

লক্ষণ

এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে চিকিৎসকেরা নিম্নলিখিত লক্ষণগুলি চিহ্নিত করে থাকেন

চিকিৎসা

 চিকিৎসকেরা এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিম্নলিখিত ঔষধগুলি গ্রহণ করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন:  

interferon alpha lamivudine
zidovudine

চিকিৎসকেরা এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিম্নলিখিত টেস্টগুলি করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন:  

কিডনী ফাংশন টেস্ট (Kidney function test)
লিভার ফাংশন টেস্ট (Liver function tests)
সি-বি-সি (কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট) (CBC, Complete Blood Count)
ইউরিন এনালাইসিস (Urinalysis)
ইউরিন ড্রাগ স্ক্রিনিং (Urine drug screen)

ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়

নিম্ললিখিত বিষয়ের কারণে বিষক্রিয়াজনিত হেপাটাইটিস হয়ে থাকে:

  • ব্যথানাশক ঔষধ বেশি গ্রহণ করলে লিভারের ক্ষতি হতে পারে। 
  • লিভার সিরোসিস বা ফ্যাটি লিভার ডিজিজে আক্রান্ত ব্যক্তির এই রোগ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
  • হেপাটাইটিস বি ও হেপাটাইটিস সি-এর কারণে লিভার খুব দুর্বল হয়ে পড়ে।
  • বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে এই রোগ হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।
  • মাত্রাতিরিক্ত মদ্যপানের কারণেও এটি হতে পারে। 

যারা ঝুঁকির মধ্যে আছে

লিঙ্গঃ পুরুষদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের গড়পড়তা সম্ভাবনা রয়েছে। মহিলাদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ১ গুণ কম।

জাতিঃ শ্বেতাঙ্গদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ১ গুণ কম।  কৃষ্ণাঙ্গ, হিস্প্যানিক এবং অন্যান্য জাতির মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের গড়পড়তা সম্ভাবনা রয়েছে।

হেলথ টিপস্‌

বিষক্রিয়া জনিত হেপাটাইটিস সঠিক কি কারনে হয় তা এখনো জানা যায়নি। তবে নিম্নলিখিত পন্থা অবলম্বন করে লিভারের বিভিন্ন সমস্যার ঝুঁকি কমানো সম্ভবঃ

  • বিনা কারনে কোনো ধরনের ঔষধ খাওয়া উচিৎ নয়। ঔষধ না খেয়েও কিছু রোগ নিয়ন্ত্রনে রাখা যায় যেমন- উচ্চ রক্তচাপ, কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যাওয়া বা বাতের ব্যথা ইত্যাদি।
  • চিকিৎসক যে নিয়মে ঔষধ খাওয়ার নিয়ম বলে দিবেন সেভাবে খেতে হবে। মাত্রাধিক্য ঔষধ খাওয়া যাবে না, কারন তার ফলে প্বার্শপ্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয় যা লিভারের জন্য ক্ষতিকর।
  • অনেকেই মনে করেন প্রাকৃতিক উপাদান কোন ক্ষতি করে না। এটা সঠিক নয়। তাই কোন ভেষজ উপাদান গ্রহনের পূর্বে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।
  • অ্যালকোহল ও ঔষধ একসাথে খাওয়া যাবে না।
  • রাসায়নিক পদার্থ নিয়ে কাজ করলে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

বিশেষজ্ঞ ডাক্তার

ডা: মামুন আল মাহতাব (সপ্নীল)

হেপাটোলজি ( লিভার) ( Hepatology)

প্রফেসর ডা: মোবিন খান

হেপাটোলজি ( লিভার) ( Hepatology)

প্রফেসর ডা: সালিমুর রহমান

হেপাটোলজি ( লিভার) ( Hepatology)

প্রফেসর ডা: মো: মোহসেন চৌধুরী

হেপাটোলজি ( লিভার) ( Hepatology)

প্রফেসর ডা: মোঃ মামুন আল মাহাতাব (স্বপ্নীল)

মেডিসিন ( Medicine), হেপাটোলজি ( লিভার) ( Hepatology)