গাউট/গেঁটেবাত (Gout)

শেয়ার করুন

বর্ণনা

গাউট/গেঁটেবাত ইউরিক এসিড আর্থ্রোপ্যাথি (Uric acid arthropathy) নামেও পরিচিত।

গেঁটেবাত আর্থ্রাইটিসের একটি জটিল রূপ। যে কোনো ব্যক্তি এতে আক্রান্ত হতে পারে । তবে পুরুষদের গেঁটেবাত দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে।  মেনোপোজের পর মহিলাদেরও গেঁটেবাত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। শরীরের যে কোনো অস্থিসন্ধিতে (বিশেষ করে বৃদ্ধাঙ্গুলির অস্থিসন্ধি যা হাঁটার সময় ভাঁজ হয়ে যায়) গেঁটেবাত বেশি হয়। এর ফলে অস্থিসন্ধিতে হঠাৎ করে তীব্র ব্যথা হয়ে থাকে ও ব্যথার স্থান লাল হয়ে যায় ও স্পর্শকাতর হয়ে পড়ে।

গেঁটেবাতের ব্যথা আকস্মিকভাবে হতে পারে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে গেঁটে বাতের জন্য পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুলিতে প্রচণ্ড ব্যথা হওয়ার কারণে আক্রান্ত ব্যক্তির ঘুম মধ্যরাতে ভেঙ্গে যায়। ব্যথার স্থানে জ্বালাপোড়া হয় ও ফুলে যায় এবং হাত দিয়ে স্পর্শ করলে গরম অনুভূত হয়। এই ব্যথা এতটাই তীব্র হয় যে আঙুলের উপর পাতলা কাগজের ভরও অসহ্যবোধ হয়। তবে এ রোগের ঝুঁকি কমানোর উপায়ও আছে।

কারণ

ইউরেট ক্রিস্টাল (ইউরিক এসিডের লবণের স্ফটিক) (Urate crystals) অস্থিসন্ধিতে জমা হয়ে ইনফ্লামেশনের (প্রদাহ বা জ্বালাপোড়া) সৃষ্টি হয় এবং এর ফলে প্রচণ্ড ব্যথা হয়। রক্তে ইউরিক এসিডের মাত্রা বেড়ে গেলে অস্থিসন্ধিতে ইউরেট ক্রিস্টাল (Urate crystals) (ইউরিক এসিডের লবণের স্ফটিক) জমতে শুরু করে। ফলে অস্থিসন্ধিতে ইনফ্লামেশন বা প্রদাহ/জ্বালাপোড়াসহ তীব্র ব্যথা হয় এবং গেঁটেবাত দেখা দেয়।

মানবদেহে পিউরিন নামক উপাদান বিশ্লেষিত হয়ে ইউরিক এসিড তৈরি করে। শরীরে স্বাভাবিকভাবেই পিউরিন উপস্থিত থাকে। এছাড়াও অর্গানিক মিট, স্টেক ও সামুদ্রিক খাবার থেকেও পিউরিন পাওয়া যায়। এর পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের অ্যালকোহল, বিশেষ করে বিয়ার এবং ফ্রুক্টোজসমৃদ্ধ পানীয় পান করলে দেহে ইউরিক এসিডের মাত্রা বেড়ে যায়।

সাধারণত ইউরিক এসিড রক্তে দ্রবীভূত হয় এবং কিডনির মধ্য দিয়ে মূত্রে পৌঁছায়। এই প্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটলে দেহে ইউরিক এসিডের পরিমাণ বেড়ে যায়। এই অতিরিক্ত ইউরিক এসিড পরবর্তীতে ইউরেট ক্রিস্টালে রূপান্তরিত হয়ে এবং অস্থিসন্ধি ও এর চারপাশের টিস্যুতে জমতে শুরু করে। যার ফলে অস্থিসন্ধি ফুলে যায় এবং তীব্র ব্যথাসহ ইনফ্লামেশন বা প্রদাহ/জ্বালাপোড়া দেখা দেয়।

লক্ষণ

এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে চিকিৎসকেরা নিম্নলিখিত লক্ষণগুলি চিহ্নিত করে থাকেন

চিকিৎসা

চিকিৎসকেরা এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিম্নলিখিত ঔষধগুলি গ্রহণ করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন:  

allopurinol celecoxib
diclofenac sodium indomethacin
ketoprofen naproxen
prednisolone probenecid
triamcinolone colchicine

চিকিৎসকেরা এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিম্নলিখিত টেস্টগুলি করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন:  

লিপিড প্রোফাইল (Lipid profile)
ইউরিক এসিড (Uric Acid)
সি-বি-সি (কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট) (CBC, Complete Blood Count)
ই-এস-আর (এরাইথ্রোসাইট সেডিমেন্টেশন রেট) (ESR, Erythrocyte Sedimentation Rate)
অ্যারথ্রোসেনটেসিস (Arthrocentesis)
প্লেইন এক্স-রে (Plain x-ray)

ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়

যে সকল কারণে গেঁটেবাত হওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায় সেগুলো হলোঃ

  • দৈনন্দিন খাদ্য তালিকা: দৈনন্দিন খাবার হিসেবে মাংস, সামুদ্রিক মাছ এবং ফ্রুক্টোজসমৃদ্ধ পানীয় পান করার ফলে দেহে ইউরিক এসিডের মাত্রা বেড়ে যায়, যার ফলে গেঁটেবাত হওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। এছাড়াও নিয়মিত মদ্যপানের অভ্যাস থাকলে গেঁটেবাত হওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।
  • স্থূলতা: শরীরে মেদের পরিমাণ বেড়ে গেলে ইউরিক এসিড উৎপাদনের মাত্রাও বৃদ্ধি পায়, যার কারণে গেঁটেবাত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।
  • শারীরিক অসুস্থতা: বিভিন্ন শারীরিক অসুস্থতা যেমন উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, মেটাবোলিক সিন্ড্রোম এবং হার্ট ও কিডনি ডিজিজ ইত্যাদির কারণে গেঁটেবাত হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।
  • নির্দিষ্ট কিছু ঔষধের ব্যবহার: উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্যবহৃত ঔষধ যেমন থায়াজাইড ডাইউরেটিক্স (Thiazide diuretics) এবং অ্যাসপিরিন (low dose Aspirin) দেহে ইউরিক এসিডের মাত্রা বৃদ্ধি করে।
  • পারিবারিক সূত্র: পরিবারের অন্য কারো গেঁটেবাত থাকলে এই রোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।
  • লিঙ্গ ও বয়সঃ  ৩০-৫০ বয়সসীমার পুরুষদের ক্ষেত্রে গেঁটে হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। মহিলাদের মেনোপোজের পর গেঁটে বাত হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

যারা ঝুঁকির মধ্যে আছে

লিঙ্গঃ  পুরুষদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের গড়পড়তা সম্ভাবনা রয়েছে। মহিলাদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ২ গুণ কম।

জাতিঃ হিস্প্যানিকদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ১ গুণ কম।  কৃষ্ণাঙ্গ, শ্বেতাঙ্গ ও অন্যান্য জাতির মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের গড়পড়তা সম্ভাবনা রয়েছে।

সাধারণ জিজ্ঞাসা

উত্তরঃ গেঁটেবাত হলো আর্থ্রাইটিসের একটি জটিল রূপ।

উত্তরঃ কখনও কখনও বংশগত কারণে এটি হয়ে থাকে।

উত্তরঃ গেঁটেবাত সাধারণত ৭-১৪ দিন পর্যন্ত স্থায়ী হয়। এ অবস্থায় ব্যথা উপশমের জন্য বিভিন্ন ঔষধ যেমন NSAIDs, Steroids এবং Colchicine ইত্যাদি ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে এগুলোর মধ্যে Colchicine-এর প্বার্শ প্রতিক্রিয়া কম এবং এটি অধিক কার্যকারি।

হেলথ টিপস্‌

গেঁটেবাত প্রতিরোধে করণীয়ঃ

  • প্রচুর পরিমাণে পানি পান করতে হবে। অ্যালকোহলসমৃদ্ধ পানীয় পরিহার করতে হবে। ফ্রুক্টোজ সমৃদ্ধ পানীয় এড়িয়ে চলতে হবে।
  • প্রোটিনের উৎস হিসেবে কম চর্বিযুক্ত দুগ্ধজাতীয় খাবার খেতে হবে যা গেঁটেবাত প্রতিরোধে অধিক কার্যকারি।
  • প্রাণীজ আমিষ যেমন মাছ ও মাংস পরিমিত পরিমাণে খেতে হবে।
  • ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।

বিশেষজ্ঞ ডাক্তার

ডাঃ রওশন আরা স্বপ্না

রিউম্যাটোলজি ( বাতরোগ) ( Rheumatology)

প্রফেসর ডা: মুজিবুর রহমান

রিউম্যাটোলজি ( বাতরোগ) ( Rheumatology)

ডা: শাহ হাবিবুর রহমান

রিউম্যাটোলজি ( বাতরোগ) ( Rheumatology)

প্রফেসর ডা: মিনহাজ রহিম চৌধুরী

রিউম্যাটোলজি ( বাতরোগ) ( Rheumatology)

ডাঃ: মতিউর রহমান

রিউম্যাটোলজি ( বাতরোগ) ( Rheumatology)