গয়টার (Goitre)

শেয়ার করুন

বর্ণনা

গয়টার বা গলগন্ড চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এনলার্জড থায়রয়েড (Enlarged Thyroid), থায়রয়েড গয়টার (Thyroid Goiter), থাইরোমেগালি (Thyromegaly) এবং থায়রয়েড গ্ল্যান্ড সোয়েলিং (Thyroid Gland Swelling) নামে পরিচিত। থায়রয়েড একটি অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি যার আকার প্রজাপতির ন্যায় এবং এটি কন্ঠদেশে অবস্থিত। এই থায়রয়েড গ্রন্থি স্বাভাবিকের তুলনায় বড় হয়ে গেলে তাকে গয়টার বলা হয়। সাধারণত এক্ষেত্রে কোনো ব্যথা থাকে না। তবে থায়রয়েড গ্রন্থি ফুলে যাওয়ার কারনে কাশি, শ্বাসকষ্ট ও খাবার গিলতে অসুবিধা হয়। আয়োডিনের অভাবে গয়টার বা গলন্ড হয়ে থাকে। গলগন্ডের আকার, এ রোগের লক্ষণ ও এর সাথে সম্পৃক্ত অন্যান্য শারীরিক সমস্যা উপর এ রোগের চিকিৎসা নির্ভর করে।

কারণ

বিভিন্ন কারণে গলগন্ড হতে পারে। গলগন্ডের কারণসমূহ নিম্নরূপঃ

  • আয়োডিনের অভাবঃ থায়রয়েড হরমোন উৎপাদনের জন্য আয়োডিন প্রয়োজন। সামুদ্রিক মাছ ও লবণ আয়োডিনের প্রধান উৎস। গলগন্ডের একটি প্রধান কারণ হলো আয়োডিনের অভাব দেখা দেওয়া।
  • গ্রেভস ডিজিজ (Graves' disease)ঃ থায়রয়েড হরমোন উৎপাদনের মাত্রা বেড়ে গেলে (হাইপারথায়রয়েডিজম) গলগন্ড দেখা দিতে পারে। গ্রেভস ডিজিজের ক্ষেত্রে দেহে এমন অ্যান্টিবডি তৈরী হয় যার প্রভাবে থায়রয়েড হরমোন অর্থাৎ থায়রক্সিন উৎপাদনের মাত্রা বেড়ে যায়। এই অতিরিক্ত হরমোন উৎপাদন করার জন্য থায়রয়েড গ্রন্থি আকারে বড় হয়ে যায়, যার ফলে গলগন্ড রোগ দেখা দেয়।
  • থায়রয়েড ক্যান্সারঃ থায়রয়েড ক্যান্স্যার হলে থায়রয়েডের যে কোনো একটি পার্শ্ব আকারে বড় হয়ে যায়।
  • গর্ভধারণঃ গর্ভাবস্থায় দেহে এইচ-সি-জি (HCG) বা হিউম্যান কোরিয়নিক গোনাডোট্রপিন (human chorionic gonadotropin) নামক হরমোন উৎপাদিত হয় যার প্রভাবে থায়রয়েড গ্রন্থি আকারে অনেকাংশে বড় হয়ে যেতে পারে।
  • মাল্টিনডুলার গয়টার (Multinodular goiter) ঃ এ অবস্থায় থায়রয়েডের উভয় পার্শ্বে নডিউলস তৈরী হয়, যার ফলে থায়রয়েড গ্রন্থি আকারে বর হয়ে যায়।

লক্ষণ

এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে চিকিৎসকেরা নিম্নলিখিত লক্ষণগুলি চিহ্নিত করে থাকেন:

ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়

যে কোনো বয়সের, যে কোনো ব্যক্তির গলগন্ড হতে পারে। কোনো কোনো শিশুর জন্মের সময় গলগন্ড হয়ে থাকে। আবার কারো কারো ক্ষেত্রে চল্লিশ বছরের পরও গলগন্ড হয়ে থাকে। গলগন্ডের ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়গুলো হলোঃ

  • মহিলাদের ক্ষেত্রেঃ পুরুষদের তুলনায় মহিলাদের ক্ষেত্রে গলগন্ড হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে।
  • বয়সঃ বয়স্কদের ক্ষেত্রে গলগন্ডের ঝুঁকি বেশি।
  • মেডিকেল হিস্ট্রিঃ কোনো ব্যক্তি বা পরিবারের অন্যকোনো সদস্য আগে থেকেই আটোইমিউন ডিজিজে আক্রান্ত হলে তার গলগন্ড হওয়ার ঝুঁকি বেশি।
  • রেডিয়েশনের সংস্পর্শেঃ কোনো দুর্ঘটনা, টেস্ট বা চিকিৎসার জন্য ঘাড় ও বুকে রেডিয়েশনের ব্যবহার করা হলে তা গলগন্ডের ঝুঁকি বাড়ায়।
  • দেহে আয়োডিনের অভাবঃ দৈনন্দিন খাবারের তালিকায় আয়োদিনযুক্ত খাবার কম থাকলে তা গলগন্ডের ঝুঁকি বৃদ্ধি করে।
  • গর্ভধারণ ও মেনোপজঃ গর্ভাবস্থায় ও মেনোপজের পর গলগন্ড হয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে।

যারা ঝুঁকির মধ্যে আছে

লিঙ্গঃ মহিলাদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের গড়পড়তা সম্ভাবনা রয়েছে। অপরদিকে, পুরুষদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা তিনগুণ কম।

জাতিঃ শ্বেতাঙ্গ, কৃষ্ণাঙ্গ ও অন্যান্য জাতির ক্ষেত্রে এই রোগ নির্ণয়ের গড়পড়তা সম্ভাবনা রয়েছে। অপরদিকে, হিস্পানিকদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা একগুণ কম।

সাধারণ জিজ্ঞাসা

উত্তরঃ সাধারণত বিনাইন গয়টার হলে নডিউলস এর বৃদ্ধি খুব ধীরে ধীরে হয়, এক্ষেত্রে অবজারভেশনের মাধ্যমে অবস্থার উন্নতি/অবনতি দেখা হয়ে থাকে। তবে নডিউলসের বৃদ্ধি খুব দ্রুত হলে বা হরমোন স্বাভাবিকের তুলনায় অধিক সক্রিয় হলে তা থেকে ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। সেক্ষেত্রে যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা নিতে হবে। 

উত্তরঃ থায়রয়েড গ্রন্থির সক্রিয়তা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি বা কম হলেই ঘুমের ব্যাঘাত হয়ে থাকে। হাইপোথায়রয়ডিজম বা থায়রয়েড গ্রন্থির সক্রিয়তা কমে গেলে ব্যক্তির মধ্যে ক্লান্তিবোধ, কর্মশক্তির অভাব ও দিনের বেলা ঘুম ঘুম বোধ কাজ করে। এই সমস্যার চিকিৎসা করানো না হলে ব্যক্তির মধ্যে অবসাদ ও দ্রুত মেজাজ পরিবর্তনের সমস্যা দেখা দেয়। তাই এই অবস্থায় যত দ্রুত সম্ভব চিকিসকের শরণাপন্ন হতে হবে। 

হেলথ টিপস্‌

দৈনন্দিন খাদ্যাভাসের কারণে গলগন্ড হলে নিম্নলিখিত টিপস্‌গুলো আপনার সহায়তা করতে পারেঃ

  • পর্যাপ্ত পরিমাণে আয়োডিন গ্রহণ করুনঃ দেহে আয়োডিনের ঘাটতি পূরণে নিয়মিত আয়োডিনযুক্ত লবণ ও সামুদ্রিক মাছ খান।  এছাড়াও সামুদ্রিক উপকূলে উৎপাদিত যে কোনো ফলমূল ও শাকসবজিতেও আয়ো্ডিন পাওয়া যায়। একজন পূর্ণবয়স্ক ব্যক্তির প্রতিদিন ১৫০ মাইক্রোগ্রাম আয়োডিন প্রয়োজন যা এক চা-চামচ আয়োডিনযুক্ত লবণ থেকে কিছুটা কম। বিশেষ করে, একজন গর্ভবতী ও শিশুর দেহে পর্যাপ্ত পরিমাণে আয়োডিন প্রয়োজন।
  • আয়োডিনের মাত্রা স্বাভাবিক রাখাঃ কোনো কোনো ক্ষেত্রে দেখা যায়, অতিরিক্ত পরিমানে আয়োডিন গ্রহনের কারণেও অনেক সময় গলগন্ড দেখা দেয়। এক্ষেত্রে আয়োডিনযুক্ত খাবার ও লবণ গ্রহনের মাত্রা সীমিত রাখতে হবে।

বিশেষজ্ঞ ডাক্তার

ডা: তানজিনা হোসেন

এন্ডোক্রাইনোলজি এন্ড মেটাবলিজম ( হরমোন) ( Endocrinology & Metabolism)

এসিস্ট্যান্ট প্রফেসর ডাঃ শাহাজাদা সেলিম

এন্ডোক্রাইনোলজি এন্ড মেটাবলিজম ( হরমোন) ( Endocrinology & Metabolism)

এমবিবিএস, এমডি(এন্ডোক্রাইনোলজী এন্ড মেটাবলিজম), এমএসিই (ইউএসএ)এন্ডোক্রাইনোলজী বিভাগ

ডা: এম.এ হাছানাত

এন্ডোক্রাইনোলজি এন্ড মেটাবলিজম ( হরমোন) ( Endocrinology & Metabolism)

প্রফেসর ডাঃ মোঃ ফারুক পাঠান

এন্ডোক্রাইনোলজি এন্ড মেটাবলিজম ( হরমোন) ( Endocrinology & Metabolism)

ডাঃ শাহাজাদা সেলিম

এন্ডোক্রাইনোলজি এন্ড মেটাবলিজম ( হরমোন) ( Endocrinology & Metabolism)

প্রফেসর ডাঃমোঃ হাফিজুর রহমান

এন্ডোক্রাইনোলজি এন্ড মেটাবলিজম ( হরমোন) ( Endocrinology & Metabolism)

ডা: ইন্দ্রজিত প্রসাদ

এন্ডোক্রাইনোলজি এন্ড মেটাবলিজম ( হরমোন) ( Endocrinology & Metabolism)

ডা: শাহাজাদা সেলিম

এন্ডোক্রাইনোলজি এন্ড মেটাবলিজম ( হরমোন) ( Endocrinology & Metabolism), ডায়াবেটোলজিষ্ট ( Diabetologist)