পরিপাকতন্ত্রের রক্তক্ষরণ (Gastrointestinal hemorrhage)

শেয়ার করুন

বর্ণনা

রোগটি জিআই ব্লিডিং (GI Bleeding), জিআই ব্লিড (GI Bleed), গ্যাস্ট্রোইনটেস্টিনাল ব্লিডিং, গ্যাস্ট্রোইনটেস্টিনাল ব্লিড এবং জিআই হেমোরেজ নামেও পরিচিত।

গ্যাস্ট্রোইনটেস্টিনাল ব্লিডিং বলতে পরিপাকতন্ত্রের যে কোনো ধরনের রক্তক্ষরণকে বোঝায়, যা গলবিল থেকে শুরু করে মলদ্বার পর্যন্ত হতে পারে। পরিপাকতন্ত্রের ত্রুটি এই রক্তক্ষরণের অন্যতম কারণ অনেক সময় এই রক্ত মলের সাথে অথবা বমির সাথে নির্গত হতে পারে, যদিও এই সমস্যা সব সময় দেখা যায় না। এই রক্তের পরিমাণ অধিক থেকে অধিকতর হতে পারে, যা অনেক সময় প্রাণনাশক হয়ে দাঁঁড়াতে পারে। জিআই ব্লিডিং (GI Bleeding) এর কারণ নির্ণয় অনেক সময় দুঃসাধ্য হতে পারে। তবে কোন মারাত্মক/ক্ষতিকর প্রক্রিয়া ছাড়াই আধুনিক চিকিৎসার মাধ্যমে এই রোগের সমস্যা শণাক্ত করা সম্ভব।

কারণ

পরিপাকনালী দুই ভাগে বিভক্ত। পরিপাকনালীর উপরের অংশগুলো হলোঃ

  • ইসোফেগাস/খাদ্যনালী - গলা থেকে পাকস্থলীতে খাদ্য বহনকারী পেশীবহুল নালী।
  • পাকস্থলী
  • ক্ষুদ্রান্ত্রের উপরিভাগ

পরিপাকনালীর নিচের অংশগুলো হলঃ

  • ক্ষুদ্রান্ত্রের নিম্নভাগ
  • বৃহদান্ত্র
  • মলদ্বার

অনেক কারণে জি আই ব্লিডিং (GI Bleeding)-এর লক্ষণ দেখা দিতে পারে। পরিপাকনালীর উপরাংশে যে সমস্যাগুলো হতে পারে তা সেগুলো হলোঃ

  • পেপ্টিক আলসার- পাকস্থলীর গাত্রে অথবা ক্ষুদ্রান্ত্রের উপরিভাগে ঘা/ক্ষত।
  • ইসোফেজিয়াল ভ্যারিসেস (স্থায়িভাবে স্ফীত বা বর্ধিত শিরা) - ইসোফেগাস/খাদ্যনালীর গায়ে অবস্থানকারী শিরার অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যাওয়া।
  • ম্যালরি – উইস টিয়ারস (Mallory-Weiss tears) - ইসোফেগাস/খাদ্যনালীর গাত্রের মিউকাস আবরণ নষ্ট হয়ে যাওয়া।
  • গ্যাস্ট্রাইসিস- এর ফলে পাকস্থলীর গাত্রে প্রদাহ এবং আলসার।
  • ইসোফেজাইটিস- ইসোফেগাস/খাদ্যনালীর প্রদাহ এবং আলসার।
  • বিনাইন টিউমারস- টিস্যুর অস্বাভাবিক বৃদ্ধি যা আসলে ক্যান্সার নয়।
  • পাকস্থলীর ধমনী বা শিরার ত্রুটিযুক্ত গঠন।
  • পাকস্থলি অথবা ক্ষুদ্রান্ত্রের ক্যান্সার।

পরিপাকনালীর নিম্নাংশে যে সমস্যাগুলো হতে পারে তা সেগুলো হলঃ

  • এঞ্জিও-ডিসপ্লেশিয়া (Angiodysplasia)- অন্ত্রে রক্ত নালীর অস্বাভাবিক বৃদ্ধি।
  • ডাইভার্টিকুলাম (Diverticulum)- বৃহদান্ত্রের দেয়ালে ক্ষুদ্র থলি আকৃতির অংশ।
  • ডাইভার্টিকুলাইটিস (Diverticulitis)- ডাইভার্টিকুলাম এর প্রদাহ।
  • কোলাইটিস (Colitis)- কোলনে (colon) প্রদাহ/জ্বালাপোড়া (যেমন-আলসারাটিভ কোলাটিস অথবা ক্রন’স ডিজিজ) (ulcerative colitis or Crohns disease)
  • হিমোরয়েডস/পাইলস (Hemorrhoids)- মলদ্বারে অবস্থিত শিরা ফুলে যাওয়া।
  • ফিশার/গেজ-পায়ু পথের দেয়াল/মাংসপেশী ছিঁড়ে যাওয়া।
  • পলিপস্‌ (Polyps) অথবা কোলন ক্যান্সার (colon cancer)

লক্ষণ

এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে চিকিৎসকেরা নিম্নলিখিত লক্ষণগুলি চিহ্নিত করে থাকেন

চিকিৎসা

চিকিৎসকেরা এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিম্নলিখিত ঔষধগুলি গ্রহণ করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন:  

adrenaline dopamine hydrochloride
esomeprazole pantoprazole
tranexamic acid vasopressin

চিকিৎসকেরা এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিম্নলিখিত টেস্টগুলি করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন:  

ব্লাড গ্রুপ এন্ড আর-এইচ (Blood Group & Rh)
ব্লাড ইউরিয়া নাইট্রোজেন, বি-ইউ-এন (Blood Urea Nitrogen, BUN)
ইলেক্ট্রোলাইটস, সেরাম (Electrolytes, serum)
এ-পি-টি-টি (অ্যাক্টিভেটেড পারশিয়াল থ্রম্বোপ্লাস্টিন টাইম) (APTT (Activated Partial Thromboplastin time))
সি-বি-সি (কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট) (CBC, Complete Blood Count)
এইচ-বি% (হিমোগ্লোবিন) (HB% (Haemoglobin))
পি-টি (প্রোথ্রম্বিন টাইম) (PT (Prothrombin time))
এন্ডোস্কপি ওফ আপার জি-আই (Endoscopy of Upper GI)
ন্যাজোগ্যাস্ট্রিক টিউব ইন্সারশন (Nasogastric tube insertion)
সিগময়ডোস্কপি অর কোলনস্কপি (Sigmoidoscopy or colonoscopy)
সিটি স্ক্যান অ্যাবডোমেন (CT scan abdomen)
ইলেক্ট্রোকার্ডিওগ্রাম (ই-সি-জি) (Electrocardiogram, ECG)
এক্স-রে, চেস্ট পি-এ ভিউ (X-ray, Chest P/A view)
এন্ডোস্কপি ওফ লোয়ার জি-আই (Endoscopy of Lower GI)
বেরিয়াম সোয়ালো (Barium swallow)
গ্যাষ্ট্রিন লেভেল, সেরাম (Gastrin level, serum)

ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়

যে সকল কারণে এই রোগের  ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে সেগুলি হল:

  • অস্বাভাবিক রক্তপাত (bleeding disorder)।
  • অতিরিক্ত মদ্যপান।
  • স্টেরয়েডের (steroids) দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহার, রক্তের ঘনত্ব কমিয়ে দেয় এমন ঔষধের ব্যবহার, নন-স্টেরয়ডাল অ্যান্টি-ইনফ্লামেটরী ড্রাগস/এনএসএআইডিস (nonsteroidal anti-inflammatory drugs/NSAIDs) অথবা অ্যাসপিরিন (aspirin) এর ব্যবহার
  • ধূমপান।
  • পূর্বে জি আই (GI) অথবা রক্তনালীর সার্জারি করা।
  • অতীতে গ্যাস্ট্রোইনটেস্টিনাল ডিজিজ অথবা ব্লিডিং (gastrointestinal disease or bleeding) হওয়া।
  • অতীতে আলসার রোগ হয়ে থাকা।
  • অতীতে হেলিকোব্যাক্টর পাইলরির (Helicobactor pylori) মত ব্যাক্টেরিয়াল ইনফেকশনের হওয়া। 

যারা ঝুঁকির মধ্যে আছে

লিঙ্গঃ মহিলাদের তুলনায় পুরুষদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের গড়পড়তা সম্ভাবনা রয়েছে। মহিলাদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ১ গুণ কম।

জাতিঃ শ্বেতাঙ্গ, কৃষ্ণাঙ্গ এবং অন্যান্যদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের গড়পড়তা সম্ভাবনা রয়েছে। হিস্প্যানিকদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ১ গুণ কম।

হেলথ টিপস্‌

জি আই ব্লিডিং (GI bleeding) থেকে অনেক মারাত্মক রোগের সৃষ্টি হতে পারে। এর কারণে পরিপাক নালীর বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সার হতে পারে, যেমন-

  • কোলন(colon) ক্যান্সার।
  • ক্ষুদ্রান্তের ক্যান্সার।
  • পাকস্থলীর ক্যান্সার।
  • অন্ত্রের পলিপস্‌ (ক্যান্সারের প্রাথমিক লক্ষণ)।

নিম্নে এ রোগের কতগুলো প্রতিরোধক টিপস্‌ দেওয়া হলো:

  • হেলিকোব্যাক্টর পাইলরির  (Helicobactor pylori ) চিকিৎসা গ্রহণ। 
  • অ্যালকোহল/মদ্যপান এবং এনএসএআইডিস (NSAIDs) সেবনের মাত্রা কমানো।
  • ধূমপান ত্যাগের জন্য প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া।

বিশেষজ্ঞ ডাক্তার

প্রফেসর ডা: এম.এ মাসুদ

গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজি ( খাদ্যনালী, পরিপাকতন্ত্র) ( Gastroenterology)

প্রফেসর ডা: মো: হাসান মাসুদ

গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজি ( খাদ্যনালী, পরিপাকতন্ত্র) ( Gastroenterology)

প্রফেসর মো: আনিছুর রহমান

গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজি ( খাদ্যনালী, পরিপাকতন্ত্র) ( Gastroenterology)

ডা: চঞ্চল কুমার ঘোষ

গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজি ( খাদ্যনালী, পরিপাকতন্ত্র) ( Gastroenterology)

প্রফেসর ডা: একেএম ফজলুল হক

কোলোরেক্টাল সার্জারী ( Colorectal Surgery)

প্রফেসর ডা: এম.এ মাসুদ

গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজি ( খাদ্যনালী, পরিপাকতন্ত্র) ( Gastroenterology)

প্রফেসর ডা:এম.এস. আরফিন

গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজি ( খাদ্যনালী, পরিপাকতন্ত্র) ( Gastroenterology)

প্রফেসর ডাঃ এস.এম.এ. এরফান

কোলোরেক্টাল সার্জারী ( Colorectal Surgery)