গ্যাস্ট্রোইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স ডিজিজ/ বুকজ্বালা (Gastroesophageal reflux disease)

শেয়ার করুন

বর্ণনা

এই রোগ রিফ্লাক্স, GERD (গ্যাস্ট্রইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স ডিজিজ), গ্যাস্ট্রিক রিফ্লাক্স ডিজিজ অথবা এসিড রিফ্লাক্স ডিজিজ নামে পরিচিত।

গ্যাস্ট্রোইসোফেজিয়াল বলতে পাকস্থলী এবং খাদ্যনালীকে বোঝায়। রিফ্লাক্স হল বিপরীতমূখী প্রবাহ । পাকস্থলীতে অবস্থিত খাদ্যাংশ এবং অন্যান্য পদার্থের বিপরীতমুখী গমন বা খাদ্যনালীর দিকে ফিরে আসাকে গ্যাস্ট্রোইসোফিজিয়াল রিফ্লাক্স বলে । খাদ্যনালীর নিচের দিকে, পাকস্থলী এবং খাদ্যনালীর মধ্যে একধরনের গোলাকার পেশী (LES - Lower Esophageal Sphincter) খাদ্যের এই বিপরীতমুখী গমনকে বাধা দেয়। এই গোলাকার পেশীর দুর্বলতার ফলে পাকস্থলী হতে এসিডযুক্ত খাদ্য বিপরীতমুখে প্রবাহিত হয় এবং এর ফলে বুক জ্বালাপোড়ার মত লক্ষণ দেখা দেয়। এই লক্ষণগুলো প্রতি সপ্তাহে দুই বার অথবা প্রায়ই দেখা দিলে খাদ্যনালীতে ক্ষত দেখা দেয়।

কারণ

এসিডের ঘন ঘন বিপরীতমূখী প্রবাহের কারণে গ্যাস্ট্রোইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স ডিজিজ (GERD) হয়ে থাকে। যখন আমরা খাবার গ্রহন করি তখন তা খাদ্যনালীর মাধ্যমে আমাদের পাকস্থলীতে প্রবেশ করে। খাদ্যনালীর নিচের দিকে অবস্থিত চাকতি আকৃতির পেশীতন্তু খাবারকে উপরে উঠতে বাধা দেয়। এই ধরনের পেশীবহুল তন্তুকে নিম্ন খাদ্যনালীর স্ফিঙ্কটার (LES - Lower Esophageal Sphincter) বলা হয়। যখন এই স্ফিঙ্কটার সঠিকভাবে কাজ করে না তখন পাকস্থলী হতে খাদ্য উপাদানগুলো খাদ্যনালীতে প্রবেশ করে। এই পদ্ধতিকে রিফ্লাক্স অথবা গ্যাস্ট্রোইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স বলে থাকে। রিফ্লাক্স এর কারণে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে। পাকস্থলীর অ্যাসিড খাদ্যনালীর দেয়ালের মারাত্মক ক্ষতি সাধন করে।

গর্ভাবস্থায় বুকজ্বালাপোড়া এবং গ্যাস্ট্রোইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স প্রকট আকার ধারণ করতে পারে। নিম্নলিখিত ঔষধগুলোর কারণেও এর লক্ষণ দেখা দিতে পারে।

  • সি-সিকনেসের(Sea sickness) চিকিৎসায় ব্যবহৃত অ্যান্টিকোলাইনার্গিক্স (Anticholinergics) ঔষধ।
  • হৃৎপিণ্ডের রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত বেটা-ব্লকার্স (Beta-blockers)।
  • এ্যাজমার চিকিৎসায় ব্যবহৃত ব্রঙ্কোডায়ালেটরস (Bronchodilators)।
  • উচ্চ রক্তচাপের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ক্যালসিয়াম ব্লকার্স (Calcium channel blockers)।
  • পার্কিনসন্স রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ডোপামিন (Dopamine)
  • মাসিকে অস্বাভাবিক রক্তপাতের চিকিৎসায় বা জন্মনিয়ন্ত্রনে ব্যবহৃত প্রোজেস্টিন (Progestin)
  • নিদ্রাহীনতা এবং উদ্বেগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত সিডাটিভ (Sedatives)

লক্ষণ

এই রোগে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে চিকিৎসকেরা নিম্মলিখিত লক্ষণগুলো দেখতে পানঃ

চিকিৎসা

চিকিৎসকেরা এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিম্নলিখিত ঔষধগুলো দিয়ে থাকেন:

aluminium hydroxide esomeprazole
famotidine magnesium hydroxide
metoclopramide omeprazole
pantoprazole rabeprazole
ranitidine

চিকিৎসকেরা এই রোগাক্রান্ত ব্যাক্তিদের নিম্নলিখিত টেস্টগুলো দিয়ে থাকেনঃ

এন্ডোস্কপি ওফ আপার জি-আই (Endoscopy of Upper GI)
ইলেক্ট্রোকার্ডিওগ্রাম (ই-সি-জি) (Electrocardiogram, ECG)
ইসোফেজিয়াল মনোমেট্রি (Esophageal Manometry)
পি-এইচ মনিটরিং (pH Monitoring)

ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়

যে সকল কারণে গ্যাস্ট্রোইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স ডিজিজ (GERD) রোগের  ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারেঃ

  • স্থূলতা/মেদবৃদ্ধি।
  • পাকস্থলীর উপরের অংশ ফুলে ডায়াফার্মের কাছাকাছি চলে আসা (জন্মগত হার্নিয়া)।
  • গর্ভাবস্থা।
  • ধূমপান।
  • মুখে শুষ্কতা অনুভব হওয়া।
  • হাঁপানি/এজমা।
  • ডায়াবেটিস। 
  • দীর্ঘ সময় ধরে পেট খালি থাকা।
  • যোজক কলার অস্বাভাবিকতা, যেমন- স্ক্লেরোডার্মা।
  • মদ্যপান করা।
  • নির্দিষ্ট কিছু খাবার ও পানীয়, যেমন- চকলেট, মেনথল, ভাজাপোড়া, চা, কফি এবং তেলযুক্ত খাবার।
  • পরিবারে অন্য কেউ এই রোগে আক্রান্ত হওয়া।

যারা ঝুঁকির মধ্যে আছে

  • লিঙ্গঃ পুরুষ এবং মহিলা উভয়ের মধ্যেই এই রোগ নির্ণয়ের গড়পড়তা সম্ভাবনা রয়েছে।
  • জাতিঃ শ্বেতাঙ্গ, হিস্প্যানিক এবং কৃষ্ণাঙ্গদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের গড়পড়তা সম্ভাবনা রয়েছে। অপরপক্ষে অন্যান্যদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ১ গুণ কম।

সাধারণ জিজ্ঞাসা

উত্তরঃ পেঁয়াজ, মেনথল, উচ্চ চর্বিযুক্ত খাবার এবং মদ্যপান পরিহার করতে হবে। ক্যাফেইনযুক্ত খাবার ও পানীয় (যেমন কফি, চা, কোমল পানীয় এবং চকলেট) বুকজ্বালা এবং গ্যাস্ট্রোইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স (GERD) এর প্রকোপ বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। টমেটো, টকজাতীয় ফল অথবা জুস থেকে প্রাপ্ত অতিরিক্ত এসিড অন্ননালীতে জ্বালাপোড়া সৃষ্টি করে। ধূমপান নিম্ন খাদ্যনালীর স্ফিংক্টার শিথিল করে বুক জ্বালাপোড়া এবং গ্যাস্ট্রোইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স (GERD) সৃষ্টি করে । খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের মাধ্যমেও রিফ্লাক্স নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে। পরিমিত পরিমাণে খাবার খেতে হবে। খাবারের পর সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে। খাওয়ার দুই থেকে তিন ঘন্টা পর ঘুমাতে হবে এবং ঘুমানোর পূর্বে হালকা খাবার খাওয়ার অভ্যাস পরিহার করতে হবে।

উত্তরঃ যাদের খাদ্যনালীতে ক্রনিক GERD অথবা প্রদাহ থাকে তাদের খাদ্য নালীর নিম্ন স্তরে পরিবর্তন দেখা যায়। এ অবস্থাকে ব্যারেট’স ইসোফেগাস (Barrett's esophagus) বলে।

হেলথ টিপস্‌

নিম্নে গ্যাস্ট্রোইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্সের (GERD) কিছু প্রতিরোধক টিপস দেওয়া হলঃ

  • ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাখা।
  • আঁটসাট কাপড় না পরা।
  • বুকে জ্বালাপোড়া সৃষ্টি করে এমন খাদ্য এবং পানীয় এড়িয়ে চলা।
  • অল্প অল্প করে খাদ্য গ্রহণ করা।
  • খাবার খাওয়ার পরপরই ঘুমাতে না যাওয়া।
  • ঘুমানোর সময় মাথা বিছানা থেকে একটু উপরে রাখা।
  • ধূমপান বর্জন করতে হবে।
  • অ্যাস্পিরিন, আইবিউপ্রফেন অথবা ন্যাপ্রক্সেনের মত ঔষধ পরিহার করা।

ঔষধ খাওয়ার পর প্রচুর পরিমাণে পানি খেতে হবে। ডাক্তার কোনো ঔষধের পরামর্শ দিয়ে থাকলে অবশ্যই জেনে নিতে হবে এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ফলে বুকজ্বালাপোড়া বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে কিনা।

বিশেষজ্ঞ ডাক্তার

প্রফেসর ডা:এম.এস. আরফিন

গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজি ( খাদ্যনালী, পরিপাকতন্ত্র) ( Gastroenterology)

প্রফেসর মো: আনিছুর রহমান

গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজি ( খাদ্যনালী, পরিপাকতন্ত্র) ( Gastroenterology)

প্রফেসর ডা: মো: হাসান মাসুদ

গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজি ( খাদ্যনালী, পরিপাকতন্ত্র) ( Gastroenterology)

প্রফেসর ডা: এম.এ মাসুদ

গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজি ( খাদ্যনালী, পরিপাকতন্ত্র) ( Gastroenterology)

ডা: চঞ্চল কুমার ঘোষ

গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজি ( খাদ্যনালী, পরিপাকতন্ত্র) ( Gastroenterology)

প্রফেসর ডা: এম.এ মাসুদ

গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজি ( খাদ্যনালী, পরিপাকতন্ত্র) ( Gastroenterology)

প্রফেসর ডা: এ.এস.এম.এ রাইহান

গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজি ( খাদ্যনালী, পরিপাকতন্ত্র) ( Gastroenterology)