গ্যাস্ট্রাইটিস (Gastritis)

শেয়ার করুন

বর্ণনা

রোগটি স্টোমাক ইনফ্লামেশন এবং গ্যাস্ট্রিক ইনফ্লামেশন নামেও পরিচিত।

পাকস্থলীতে জ্বালাপোড়া/প্রদাহের কারণে গ্যাস্ট্রাইটিস দেখা দেয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ব্যাক্টেরিয়ার ইনফেকশনের কারণে পাকস্থলীতে আলসারের হয়ে থাকে। এছাড়াও যে কোনো ধরনের ক্ষত, ব্যথা উপশমের ঔষধ এবং অতিরিক্ত পরিমাণে মদ্যপানও গ্যাস্ট্রাইটিস রোগের অন্যতম কারণ।

গ্যাস্ট্রাইটিসের সমস্যা হঠাৎ করেই হতে পারে (একিউট গ্যাস্ট্রাইটিস), অথবা অনেকদিন ধরে ধীরে ধীরে হতে পারে (ক্রনিক গ্যাস্ট্রাইটিস)। কোনো কোনো ক্ষেত্রে গ্যাস্ট্রাইটিস থেকে আলসারের উৎপত্তি হয় এবং এর ফলে পাকস্থলীর ক্যান্সারের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। বেশিরভাগ মানুষের ক্ষেত্রে এই রোগ খুব ক্ষতিকর রূপ ধারণ করে না। চিকিৎসার মাধ্যমে গ্যাসট্রাইটিস তাড়াতাড়ি সারানো সম্ভব।

কারণ

অধিক পরিমাণে মদ্যপানের জন্য জ্বালাপোড়া, ঘন ঘন বমি, অতিরিক্ত মানসিক চাপ অথবা অ্যাস্পিরিন এবং জ্বালাপোড়া উপশমকারী ঔষধ সেবনের জন্য গ্যাস্ট্রাইটিস হতে পারে। এছাড়া নিম্নোক্ত কারণ সমূহের জন্য এই রোগ দেখা দিতে পারেঃ

  • হেলিকোব্যাক্টর পাইরোলি ( Helicobactor pylori) ঃ এই ধরনের ব্যাক্টেরিয়া পাকস্থলীর ভেতরের স্তরে বসবাস করে। চিকিৎসা করা না হলে এই ইনফেকশন থেকে আলসার অথবা কোনো কোনো রোগীর ক্ষেত্রে পাকস্থলীর ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
  • পারনিশিয়াস অ্যানিমিয়া ঃ পাকস্থলিতে ভিটামিন বি১২ শোষণ এবং পরিপাকের ঘাটতি দেখা দিলে এই অ্যানিমিয়ার উৎপত্তি হয়।
  • বাইল রিফ্লাক্স ঃ  পাকস্থলীতে পিত্তরসের বিপরীতমুখী প্রবাহ, ব্যাক্টেরিয়া এবং ভাইরাসজনিত ইনফেকশনের কারণে এই সমস্যা দেখা দিতে পারে। গ্যাস্ট্রাইটিসের চিকিৎসা করা না হলে রক্তশূন্যতা এবং পাকস্থলীর ক্যান্সারের প্রবণতা বেড়ে যাবে। 

লক্ষণ

এই রোগে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে চিকিৎসকেরা নিম্মলিখিত লক্ষণগুলো দেখতে পানঃ

চিকিৎসা

চিকিৎসকেরা এই রোগাক্রান্ত ব্যাক্তিদের নিম্নলিখিত ঔষধগুলো দিয়ে থাকেনঃ

esomeprazole omeprazole
ranitidine amoxycillin
clarithromycin metronidazole
tetracycline bismuth subsalicylate

এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে চিকিৎসকেরা নিম্নলিখিত লক্ষণগুলি চিহ্নিত করে থাকেন:

কিডনী ফাংশন টেস্ট (Kidney function test)
লিভার ফাংশন টেস্ট (Liver function tests)
সি-বি-সি (কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট) (CBC, Complete Blood Count)
এন্ডোস্কপি ওফ আপার জি-আই (Endoscopy of Upper GI)
প্যানক্রিয়েটিক ফাংশন টেষ্ট (Pancreatic Function Tests)
ইউরিয়া ব্র্যাথ টেষ্ট (urea breath test)

ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়

যে সকল কারণে গ্যাস্ট্রাইসিস রোগের  ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারেঃ

  • ব্যাক্টেরিয়াল ইনফেকশনঃ সারা বিশ্বে হেলিকোব্যাক্টর পাইরোলি দ্বারা আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা অনেক বেশি, এদের মধ্যে কিছু সংখ্যক মানুষ গ্যাস্ট্রাইসিস অথবা এর মত পাকস্থলির রোগে আক্রান্ত হয়। ডাক্তারদের মতে এই ব্যাক্টেরিয়া বংশগত অথবা ধূপমান ও অতিরিক্ত মানসিক চাপ সহ মানুষের জীবন যাপনের নিয়ম কানুনের উপর নির্ভর করে।
  • নিয়মিত ব্যথা উপশমের ঔষধ সেবনঃ অ্যাস্পিরিন এবং ন্যাপ্রক্সেনের মত সাধারণ ব্যথা উপশমকারি ঔষধগুলো অ্যাকিউট এবং ক্রনিক গ্যাস্ট্রাইসিসের অন্যতম কারণ। অধিক মাত্রায় এ সকল ঔষধ সেবন করলে পাকস্থলির অভ্যন্তরীন দেয়ালে অবস্থিত মিউকাস স্তর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর জন্য এই ধরনের ঔষধ যতটা সম্ভব কম ব্যবহার করা উচিৎ।
  • বয়স বৃদ্ধিঃ বয়স বাড়ার সাথে সাথে গ্যাস্ট্রাইসিসের ঝুঁকি বাড়তে থাকে কারণ বয়সের সাথে সাথে মানুষের পাকস্থলীর অভ্যন্তরীন স্তর পাতলা হতে থাকে এবং অল্প বয়স্কদের তুলনায় প্রাপ্তবয়স্কদের pylori ইনফেকশন অথবা অটোইমিউন ডিজঅর্ডার হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।
  • অতিরিক্ত মদ্যপানঃ মদ্যপানের ফলে পাকস্থলীথৈ জ্বালাপোড়ার সৃষ্টি হয়। এই জন্য পাকস্থলী এর পাচক রস দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অতিরিক্ত মদ্যপান অ্যাকিউট গ্যাস্ট্রাইসিসের অন্যতম কারণ।
  • মানসিক চাপঃ গুরুতর সার্জারির কারণে মানসিক চাপ, আঘাত, পোড়া ও তীব্র ক্ষতের কারণে একিউট গ্যাস্ট্রাইসিস হয়ে থাকে।

যারা ঝুঁকির মধ্যে আছে

  • লিঙ্গঃ পুরুষদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ১ গুণ কম। মহিলাদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের গড়পড়তা সম্ভাবনা রয়েছে।
  • জাতিঃ শ্বেতাঙ্গদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ১ গুণ কম। কৃষ্ণাঙ্গ, হিস্প্যানিক এবং অন্যান্যদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের গড়পড়তা সম্ভাবনা রয়েছে।  

সাধারণ জিজ্ঞাসা

উত্তরঃ অ্যালকোহল/মদ্যপান ও ধূমপান পরিহার করতে হবে। অ্যাস্পিরিন নিয়ন্ত্রিত পরিমাণে ব্যবহার করতে হবে (অ্যাসিটামিনোফেন ব্যথা উপশমের জন্য উত্তম)। সুষম ও পুষ্টিকর খাদ্য খেতে হবে। রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসার জন্য ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।

হেলথ টিপস্‌

নিম্নলিখিত বিষয় এই রোগ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ভূমিকা পালন করেঃ

  • ঘন ঘন/বারে বারে খাওয়াঃ হজমে সমস্যা দেখা দিলে একবারে বেশি না খেয়ে বার বার অল্প অল্প করে খাওয়া উচিৎ।
  • জ্বালাপোড়া হতে পারে এমন খাদ্য গ্রহণঃ পাকস্থলীতে জ্বালাপোড়া অনুভূত হতে পারে এমন খাবার বিশেষ করে ঝাল ও অ্যাসিডযুক্ত খাবার, ভাঁজাপোড়া ও চর্বিযুক্ত খাবার পরিহার করতে হবে।
  • অ্যালকোহল/মদ্যপানঃ অ্যালকোহল পাকস্থলীর মিউকাস স্তরের উপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। তাই অ্যালকোহল গ্রহণ ত্যাগ করতে হবে।
  • ব্যথা উপশমকারী ঔষধ গ্রহণের ব্যাপারে সচেতনতাঃ ব্যথা উপশমকারী ঔষধ নিয়মিত সেবনের প্রয়োজন হলে ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করতে হবে।
  • মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণঃ মানসিক চাপের কারণে গ্যাস্ট্রাইসিস আরও গুরুতর হতে পারে। এটি এড়ানো সম্ভব না হলেও মানিয়ে নিতে হবে। মেডিটেশন ও যোগ ব্যায়ামের মাধ্যমে মানসিক চাপ সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসতে হবে।

হেলিকোব্যাক্টর পাইরোলি কিভাবে বিস্তার লাভ করে এটা পরিষ্কার না হলেও, মানুষ থেকে মানুষের মাধ্যমে অথবা দূষিত খাবার ও পানির মাধ্যমে এ ব্যাক্টেরিয়া ছড়ায় বলে কিছু প্রমাণ পাওয়া গেছে। বারবার সাবান ও পানি দিয়ে হাত ধোয়া এবং ভালোভাবে রান্না করা খাবার খাওয়ার  মাধ্যমে হেলিকোব্যাক্টর পাইরোলির মত ইনফেকশন থেকে নিজেকে রক্ষা করা যেতে পারে।

বিশেষজ্ঞ ডাক্তার

প্রফেসর ডা: এম.এ মাসুদ

গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজি ( খাদ্যনালী, পরিপাকতন্ত্র) ( Gastroenterology)

ডাঃএস জি মোগনী মওলা

মেডিসিন ( Medicine)

MBBS, FCPS(Medicine), FACP(America)

অধ্যাপক ডাঃ এম এ আজহার

মেডিসিন ( Medicine)

এমবিবিএস , এফসিপিএস(মেডিসিন) , এফআরসিপি(এডিন), এফএসিপি

প্রফেসর ডা: মো: হাসান মাসুদ

গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজি ( খাদ্যনালী, পরিপাকতন্ত্র) ( Gastroenterology)

প্রফেসর ডা: এ.এস.এম.এ রাইহান

গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজি ( খাদ্যনালী, পরিপাকতন্ত্র) ( Gastroenterology)