গ্যাস গ্যাংরিন (Gas gangrene)

শেয়ার করুন

বর্ণনা

গ্যাংরিন হল একটি মারাত্নক প্রাণঘাতী সমস্যা, এই অবস্থায় দেহের টিস্যু নষ্ট হয়ে যায়। এর একটি ধরণ হল গ্যাস গ্যাংরিন, যা ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশনের কারণে হয়ে থাকে। এটি ক্লোস্ট্রিডায়াল মায়োনেকরোসিস নামেও পরিচিত। এই রোগটি খুব দ্রুত ছড়ায় এবং এর কারণে রোগীর মৃত্যুও হতে পারে। এই ইনফেকশনের কারণে টক্সিন থেকে গ্যাসের উৎপত্তি হয়, যা টিস্যুকে নষ্ট করে দেয়। এই অবস্থায় ইনফেকশনে আক্রান্ত স্থান ফুলে যায় ও ফোস্কা পড়ে, বর্ণ ফ্যাকাসে থেকে বাদামী-লালে পরিণত হয়, হৃদস্পন্দন বেড়ে যায় এবং তীব্র জ্বর হয়। অ্যান্টিবায়োটিক ও সার্জারীর মাধ্যমে এর চিকিৎসা করানো হয়।

জরুরী ভিত্তিতে এই রোগের চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন। তৎক্ষণাৎ এর চিকিৎসা করানো না হলে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই রোগীর মৃত্যু হতে পারে।


কারণ

সাধারণত ক্লোসট্রিডিয়াম পারফ্রিঞ্জেন্স নামক ব্যাকটেরিয়া, গ্রুপ এ স্ট্রেপ্টোকোক্কাস, স্ট্যাফাইলোকোক্কাস অরিয়াস এবং ভিব্রিও ভালনিফিকাস এর কারণে এই রোগ হয়ে থাকে।

এই ব্যাকটেরিয়া সর্বত্র বিরাজ করে। এটি শরীরের ভিতরে প্রবেশ করে বিষাক্ত গ্যাস উৎপন্ন করে দেহের টিস্যু, কোষ ও রক্তনালীকে নষ্ট করে দেয়।

এই রোগটি হঠাৎ করেই হয়ে থাকে। সাধারণত কোন আঘাত প্রাপ্ত স্থানে বা অপারেশন হয়েছে এমন অংশে এটি হয়ে হয়ে থাকে, এসময় ব্যক্তি কোন ধরনের জ্বালাপোড়া বা ব্যথা অনুভব করে না। রক্তনালীর বিভিন্ন সমস্যা যেমন- অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিস, ডায়াবেটিস বা কোলন ক্যান্সারে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে এই রোগ হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেশি।


লক্ষণ

এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে চিকিৎসকেরা নিম্নলিখিত লক্ষণগুলি চিহ্নিত করে থাকেন:

ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়

যে সকল বিষয়ের কারণে এই রোগ হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায় সেগুলো হলোঃ

  • দীর্ঘদিন ধরে মদ্যপান।
  • অপুষ্টি।
  • জ্বালাপোড়া, ফ্র্যাকচারসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা।
  • ডায়াবেটিস মেলাইটাস।
  • করটিকস্টেরয়েডের ব্যবহার।
  • গ্যাস্ট্রোইন্টেস্টাইনাল ট্র্যাক্টের ম্যালিগনেন্সি-পেরিনিয়াম কিংবা স্ক্রটামে ইনফেকশন হওয়া।
  • রক্তের বিভিন্ন সমস্যা।
  • ইন্ট্রামাস্কুলার ইঞ্জেকশন গ্রহণ।
  • ধূলা-ময়লা বা শ্রাপ্নেল (বিস্ফোরকে ব্যবহৃত উপাদান)-এর কারণে ক্ষত সৃষ্টি হওয়া।
  • গর্ভপাত।তবে ক্রিমিনাল অ্যাবর্শন (সাধারণত গর্ভধারণের ৩ মাসের মধ্যে অ্যাবর্শন বা গর্ভপাত করানো) এর পরে গর্ভপাত করানো হলে মায়েরা বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হয় তাই আইনগত ভাবেই এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে দেওয়া হয় না। কিন্তু এর পরেও অনেকেই অবৈধভাবে অ্যাবর্শন করান, এ ক্ষেত্রে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়।

যারা ঝুঁকির মধ্যে আছে

লিঙ্গঃ পুরুষদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ২ গুণ কম। মহিলাদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের গড়পড়তা সম্ভাবনা রয়েছে।

জাতিঃ শ্বেতাঙ্গদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের গড়পড়তা সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষ্ণাঙ্গদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ৪ গুণ কম। হিস্প্যানিকদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ৩ গুণ কম। অন্যান্য জাতিদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ১ গুণ কম।


হেলথ টিপস্‌

শরীরের কোন স্থানে আঘাত পেলে সাথে সাথে তা ভালভাবে পরিষ্কার করতে হবে। আক্রান্ত স্থান লাল হয়ে যাওয়া, ফুলে যাওয়া, ব্যথা হওয়া বা তরল পদার্থ নির্গত হওয়া সহ ইনফেকশনের যে কোন লক্ষণ দেখা মাত্র চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। অপারেশনের মাধ্যমে যে কোন বাহ্যিক বস্ত বা মৃত কোষ অপসারণ করা হয়ে থাকে। অপারেশনের আগে ও পরে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সময়মত অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ করতে হবে, এতে করে ইনফেকশন হওয়ার ঝুঁকি কমে যায়।