ফাইব্রোমায়ালজিয়া (Fibromyalgia)

শেয়ার করুন

বর্ণনা

ফাইব্রোমায়ালজিয়া এমন এক ধরনের সমস্যা যার ফলে হাড় এবং মাংস পেশীর সন্ধিস্থলে ব্যথা সহ অবসাদ, ঘুম ঘুম ভাব, মেজাজ ও স্মৃতিগত সমস্যা দেখা যায়। আমাদের শরীরে কোথাও ব্যথা হলে মস্তিষ্কে যে সংকেত পৌঁছায়, এই রোগের প্রভাবে এই প্রক্রিয়াতে ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়।

কোন কোন সময় শারীরিক কোন আঘাত, সার্জারী, ইনফেকশন অথবা কোন উল্লেখযোগ্য মানসিক চাপের কারণে এ রোগের লক্ষণ প্রকাশ পেতে শুরু করে। অন্যান্য ক্ষেত্রে কোন লক্ষণ ছাড়াই এই রোগের আবির্ভাব ঘটে।

পুরুষদের তুলনায় মহিলারা এ রোগে বেশি আক্রান্ত হয়ে থাকে।ফাইব্রোমায়ালজিয়ায় আক্রান্ত অনেকেরই দুশ্চিন্তা, মাথা ব্যথা, টেম্পোরোম্যান্ডিবুলার জয়েন্ট ডিসঅর্ডার, ইরিটেবলবাওয়েলসিন্ড্রম, উদ্বেগ এবং হতাশার লক্ষণ প্রকাশ পায়।

এই রোগের তেমন কোন চিকিৎসা নেই তবে কিছু ঔষধ সেবনের মাধ্যমে এর লক্ষণ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। ব্যায়াম, হালকা বিশ্রাম এবং মানসিক চাপ কমানোর পদ্ধতি অনুসরন এ ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।


কারণ

যেসব কারণে এই রোগ হয়ে থাকে সেগুলো হলঃ

  •   জিনগতবৈশিষ্ট্যঃ পরিবারের কারও এই সমস্যা থাকলে এই রোগ হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।
  •   ইনফেকশনঃ কিছু কিছু অসুস্থতার কারণে এই রোগের সম্ভাবনা বেড়ে যায়।
  •   শারীরিক অথবা মানসিক আঘাতঃ পোস্ট ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিজঅর্ডার এ রোগের সাথে সম্পর্কিত।

লক্ষণ

এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে চিকিৎসকেরা নিম্নলিখিত লক্ষণগুলি চিহ্নিত করে থাকেন:

ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়

যেসকল বিষয়ের কারণে এই রোগ হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়ঃ

  লিঙ্গঃপুরুষদের তুলনায় নারীদের এই রোগ বেশি হয়ে থাকে।

  পারিবারিক সূত্রঃপরিবারের কেউ এই রোগে আক্রান্ত হলে এই সমস্যার ঝুঁকি বেড়ে যায়।

  রিউমেটিকডিজিজঃ যদি কারও রিউমেটিকডিজিজযেমন- রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস অথবা লুপাস থাকে,তাদের এই রোগ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।


যারা ঝুঁকির মধ্যে আছে

লিঙ্গঃপুরুষদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ১ গুণ কম। মহিলাদের এ রোগ নির্ণয়ের গড়পড়তা সম্ভাবনা রয়েছে।

জাতিঃশ্বেতাঙ্গএবং কৃষ্ণাঙ্গদেরএই রোগ নির্ণয়ের গড়পড়তা সম্ভাবনা রয়েছে।হিস্পানিকএবং অন্যান্য জাতিদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ১ গুণ কম।


সাধারণ জিজ্ঞাসা


এই রোগ হলে অসহনীয় ব্যথা হয়। আক্রান্ত রোগীদের মাংস পেশীর গভীরে চিনচিনে, টনটন এবং খোঁচাখোঁচা ব্যথা হয়। তীব্র জ্বালাপোড়াও হতে পারে। অনেক সময় সকালের দিকে এই ব্যথা এবং মাংস পেশী শক্ত হয়ে যাওয়ার লক্ষণ বেশি দেখা যায় এবং যেসব মাংস পেশী দৈনন্দিন কাজে বারবার ব্যবহৃত হয় সেগুলোতে এই ব্যথা আরো তীব্র হয়ে থাকে।  

গবেষণা করে দেখা গেছে এ রোগে আক্রান্ত শতকরা ২৫ শতাংশব্যাক্তির অবস্থা আরো খারাপ হয়ে যায় এবং বাকি ২৫ শতাংশ সুস্থ হয়ে উঠে। সুচিকিৎসকেরশরণাপন্নকিছু রোগী ধীরে ধীরে আরোগ্য লাভ করতে থাকে। বয়স বাড়ার সাথে সাথে অন্যান্য মেডিকেল কন্ডিশন এই রোগের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিতে পারে। সুতরাং যারা বয়স্ক ব্যাক্তিঅর্থাৎ যাদের আর্থ্রাইটিসের মত বয়স বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে সম্পর্কিত অন্যান্য কোন সমস্যায় আক্রান্ত তাদেরচিকিৎসাগ্রহণ করা বাধ্যতামূলক।নিয়মমত ঔষধ সেবন, ব্যায়াম এবং একটি স্বাস্থ্যকরখাদ্যাভ্যাস এই অবস্থার উন্নতিতে সাহায্য করে। 

হেলথ টিপস্‌

এই সমস্যা প্রতিরোধের কয়টি উপায় হলঃ

  • মানসিক চাপকমানোঃমানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করতে একটি নির্দিষ্টবিধিমালা মেনে চলতে হবে। প্রতিদিন নিয়মানুসারে বিশ্রাম করুন। নিজের আত্মবিশ্বাস গড়ে তুলুন। পর্যাপ্ত শারিরীক পরিশ্রম করতে হবে। স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট পদ্ধতি যেমন- শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম অথবা ধ্যান করতে হবে।

  •  পর্যাপ্ত ঘুমানো চেষ্টা করুনঃঅবসাদ ফাইব্রোম্যালজিয়ার অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য, সেজন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুমানো প্রয়োজন। নিয়মিত ঘুমাতে যাওয়ার এবং ঘুম থেকে উঠার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

  • নিয়মিত ব্যায়াম করুনঃ প্রাথমিক দিকে ব্যায়ামের কারণে ব্যথা হতে পারে।কিন্তু নিয়মিত অভ্যাস গড়ে তুললে লক্ষণ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। এক্ষেত্রে হাঁটাচলা, সাঁতার কাটা, সাইকেল চালানো এবং ওয়াটার অ্যারোবিক্স করা যেতে পারে।চিকিৎসকেরপরামর্স অনুযায়ী নির্দিষ্ট ব্যায়াম করুন।

  • কাজেরভারসাম্যতা বজায় রাখুনঃ প্রয়োজন অনুসারে কাজের চাপ নিয়ন্ত্রণ করুন। কখনোই খুব বেশি চাপ নিবেন না আবার একেবারেই কাজ না করে থাকবেন না। আপনি যখন সুস্থ আছেন তখন চেষ্টা করুন অতিরিক্ত কাজের চাপ না নেওয়ার, কিন্তু তার মানে এই না যে প্রয়োজনের তুলনায় চাপ কমিয়ে ফেলবেন।

  • স্বাস্থ্যকরজীবনযাপন পালন করুনঃস্বাস্থ্যকর খাবার খান। ক্যাফেইন খাওয়া কমিয়ে দিন। আপনার মন মানসিকতা ভালো থাকে প্রতিদিন এমন কাজ করুন।


বিশেষজ্ঞ ডাক্তার

প্রফেসর ডা: মোঃ মামুন আল মাহাতাব (স্বপ্নীল)

মেডিসিন ( Medicine), হেপাটোলজি ( লিভার) ( Hepatology)

ডা: শাহ হাবিবুর রহমান

রিউম্যাটোলজি ( বাতরোগ) ( Rheumatology)

ডাঃ রওশন আরা স্বপ্না

রিউম্যাটোলজি ( বাতরোগ) ( Rheumatology)

অধ্যাপক ডাঃ এম এ আজহার

মেডিসিন ( Medicine)

এমবিবিএস , এফসিপিএস(মেডিসিন) , এফআরসিপি(এডিন), এফএসিপি

ডাঃএস জি মোগনী মওলা

মেডিসিন ( Medicine)

MBBS, FCPS(Medicine), FACP(America)

প্রফেসর ডা: খাজা নাজিম উদ্দীন

মেডিসিন ( Medicine)

MBBS(Dhaka),FCPS(Med), FRCP(Glasgo), FCPS(USA)