ফাইব্রো-সিস্টিক ব্রেস্ট ডিজিজ (Fibro-cystic breast disease)

শেয়ার করুন

বর্ণনা

ফাইব্রোসিসটিক ব্রেস্ট ডিজিজ একটি সাধারণ রোগ (ক্যান্সার নয়), যার ফলে মহিলাদের স্তনে ব্যথাযুক্ত পিণ্ড সৃষ্টি হয়। এটি খুব ক্ষতিকর কোনো রোগ নয়, তবে এর ফলে অস্বস্তিবোধ হতে পারে।

একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, প্রায় ৬০% মহিলা জীবনের কোনো না কোনো পর্যায়ে ফাইব্রোসিসটিক ব্রেস্ট ডিজিজে আক্রান্ত হয়। কোনো মহিলা একই সাথে ফাইব্রোসিসটিক ব্রেস্ট ডিজিজ ও ক্যান্সারে আক্রান্ত হলে তার শরীরে ক্যান্সার নির্ণয় করা কঠিন হয়ে পড়ে।     


কারণ

মহিলাদের ডিম্বাশয়ে সৃষ্ট হরমোনের প্রতিক্রিয়াস্বরূপ স্তনের টিস্যুতে পরিবর্তন হয়ে থাকে। ফাইব্রোসিসটিক ব্রেস্ট ডিজিজ হলে এই পরিবর্তন বেশি মাত্রায় হয়, যার ফলে স্তন ফুলে নরম হয়ে যায় বা সেখানে ব্যথাযুক্ত পিণ্ড সৃষ্টি হয়। এই রোগের লক্ষলগুলি সাধারণত মাসিকের পূর্বে বা মাসিক চলাকালীন দেখা দেয়। এই লক্ষণগুলি হলো সিস্টের কারণে পিণ্ড সৃষ্টি হওয়া এবং স্তনের লবিউল (দুগ্ধ উৎপন্নকারী গ্রন্থি) ফুলে যাওয়া। এছাড়া এই রোগ হলে স্তনের আঁশালো টিস্যুগুলি অতিরিক্ত মাত্রায় বৃদ্ধি পেতে পারে।

লক্ষণ

এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে চিকিৎসকেরা নিম্নলিখিত লক্ষণগুলি চিহ্নিত করে থাকেন:

ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়

নিম্নলিখিত বিষয়গুলি ফাইব্রোসিসটিক ব্রেস্ট ডিজিজ হওয়ার ঝুকিঁ বৃদ্ধি করে:

  • ক্যাফেইন গ্রহণ হওয়া।
  • পরিবারে কারো এই রোগ থাকা।
  • বয়স ৩০ থেকে ৫০ এর মধ্যে হওয়া।
  • হরমোন থেরাপি গ্রহণ।
  • মেনোপজ হওয়া।


যারা ঝুঁকির মধ্যে আছে

লিঙ্গ: নারীদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয় হওয়ার গড়পড়তা সম্ভাবনা থাকে।

জাতি: কৃষ্ণাঙ্গ ও হিস্প্যানিকদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয় হওয়ার সম্ভাবনা ১ গুণ কম। শ্বেতাঙ্গ ও অন্যান্য জাতির মানুষের মধ্যে এই রোগ নির্ণয় হওয়ার গড়পরতা সম্ভাবনা থাকে।


সাধারণ জিজ্ঞাসা


উত্তরঃ না, এই রোগের কারণে ব্রেস্ট ক্যান্সার হয় না। বেশিরভাগ ফাইব্রোসিসটিক ব্রেস্ট ডিজিজ ক্ষতিকর নয়। এই রোগে আক্রান্ত খুব কম সংখ্যক মহিলার ব্রেস্ট ক্যান্সার হয়ে থাকে। বায়োপসি অথবা ম্যামোগ্রাফির মাধ্যমে এটি নির্ণয় করা হয়ে থাকে।    

উত্তরঃ না, পর্যবেক্ষণের জন্য এ ধরনের সব পিণ্ড অপসারণের প্রয়োজন হয় না । এই পিণ্ড অপসারণ করা প্রয়োজন কিনা, তা বোঝার জন্য স্তন রোগ বিশেষজ্ঞরা আলট্রা সাউন্ড, ফাইন নিডল্‌ অ্যাসপিরেশন এবং কিছু ক্ষেত্রে ম্যামোগ্রাফির সাহায্য নিয়ে থাকেন।  

হেলথ টিপস্‌

ফাইব্রোসিসটিক ব্রেস্ট ডিজিজ প্রতিরোধ ও এর চিকিৎসা সংক্রান্ত কিছু পরামর্শ নিচে দেওয়া হলোঃ

  • বেশি পরিমাণে কার্বহাইড্রেট(কমপ্লেক্স) ও আঁশজাতীয় খাদ্য গ্রহণ: কোষ্ঠকাঠিন্য ও কম পরিমাণে আঁশজাতীয় খাদ্য গ্রহণের সাথে ফাইব্রোসিসটিক ব্রেস্ট ডিজিজের সম্পর্ক রয়েছে। কোনো মহিলার সপ্তাহে তিন বারের চেয়ে কম বার মলত্যাগ হলে তা এই রোগ হওয়ার ঝুকিঁ রয়েছে। নিয়মিত মলত্যাগ শরীর থেকে বিষাক্ত উপাদান (টক্সিন) ও হরমোন নির্গমন করতে সাহায্য করে। এছাড়া শাকসবজিতে বিদ্যমান কার্বহাইড্রেট (কমপ্লেক্স) ও আঁশ জাতীয় উপাদান মলত্যাগের পরিমাণ বৃদ্ধি করে ও প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও পুষ্টি সরবরাহ করে।
  • কম পরিমাণে মিথাইল্যাক্সানথাইন্স গ্রহণ: কফি, চকলেট, ব্ল্যাক টি ও কোলা জাতীয় ড্রিংক্সে মিথাইল্যাক্সানথাইন্স থাকে। ক্যাফেইন গ্রহণের ফলে অনেক মহিলার স্তনের টিস্যুতে সিস্ট সৃষ্টি হয়। একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, যে সব মহিলারা একবারেই মিথাইল্যাক্সানথাইন্স গ্রহণ করেন না, তাদের ৯৭%-এর ব্রেস্ট সিস্টের আকার ও সংবেদনশীলতা কমে গেছে। ক্যাফেইর গ্রহণ বন্ধ করার ৪ মাস পর এই ফল পাওয়া যায়। তীব্র মাত্রার ফাইব্রোসিসটিক ব্রেস্ট ডিজিজের ক্ষেত্রে বিষয়টি বেশি প্রযোজ্য।
  • থায়রয়েড হরমোনের মাত্রা পরিমাপ ও আয়োডিন কম গ্রহণ করা: থায়রয়েডের ক্রিয়াশীলতা স্বাভাবিক রাখার জন্য আয়োডিন প্রয়োজন। এছাড়া আয়োডিন এস্ট্রোজেনের প্রতি স্তনের টিস্যুর সংবেদনশীলতা কমায়। যে সব মহিলার কম মাত্রায় থায়রয়েড হরমোন রয়েছে চিকিৎসারত অবস্থায় তাদের স্তনের ব্যথা ও পিণ্ড প্রশমিত হয়। এই বিষয়টি প্রমাণ করে যে, ফাইব্রোসিসটিক ব্রেস্ট ডিজিজের ক্ষেত্রে থায়রয়েড হরমোনের কম মাত্রা ও আয়োডিনের অভাবের ভূমিকা রয়েছে।
  • ভিটামিন ই ও বি গ্রহণ: ভিটামিন সাপ্লিমেন্ট (ঔষধ হিসেবে) গ্রহণ করলে শরীর কার্যকরভাবে হরমোন প্রক্রিয়াজাত করতে পারে, এবং প্রোজেস্টেরনের মাত্রা বৃদ্ধি করে অতিরিক্ত এস্ট্রোজেনের সাথে ভারসাম্য রাখতে পারে। ভিটামিন ই শরীরে সংবহনরত হরমোনের মাত্রা স্বাভাবিক রেখে ফাইব্রোসিসটিক ব্রেস্ট ডিজিজের লক্ষণ প্রশমিত করে থাকে। ভিটামিন বি লিভারের ক্রিয়াশীলতা বৃদ্ধি করে। মূলত লিভারেই এস্ট্রোজেন প্রক্রিয়াজাত হয়ে শরীর থেকে নির্গত হয়।


বিশেষজ্ঞ ডাক্তার

ডাঃ শারমীনা সীদ্দিক

গাইনি ও অবসটেট্রিক্স ( Obstetrics & Gynaecology)

অধ্যাপক ডাঃ সারিয়া তাসনীম

গাইনি ও অবসটেট্রিক্স ( Obstetrics & Gynaecology)

এমবিবিএস, এফসিপিএস(গাইনী এন্ড অব্‌স), এমএসএমএড(ইংল্যান্ড), ডিআইপি সিইপিআইডি(লন্ডন)

প্রফেসর ডাঃ কোহিনুর বেগম

গাইনি ও অবসটেট্রিক্স ( Obstetrics & Gynaecology)

প্রফেসর ডাঃ সায়েবা আক্তার

গাইনি ও অবসটেট্রিক্স ( Obstetrics & Gynaecology)

প্রফেসর ডা: জেসমিন আরা বেগম

গাইনি ও অবসটেট্রিক্স ( Obstetrics & Gynaecology)

প্রফেসর ডা: মালিহা রশিদ

গাইনি ও অবসটেট্রিক্স ( Obstetrics & Gynaecology)

প্রফেসর ডাঃ সামিনা চৌধুরী

গাইনি ও অবসটেট্রিক্স ( Obstetrics & Gynaecology)

প্রফেসর ডাঃ এস.এফ. নার্গিস

গাইনি ও অবসটেট্রিক্স ( Obstetrics & Gynaecology)