নারী বন্ধ্যাত্ব (Female infertility)

শেয়ার করুন

বর্ণনা

সন্তান ধারণের অক্ষমতাকে বন্ধ্যাত্ব বলা হয়। মহিলা ও পুরুষ উভয়ই সন্তান জন্মদানে অক্ষম হতে পারে। মহিলাদের বন্ধাত্বের কারণ নির্ণয় করা খুব জটিল। তবে এ সমস্যার জন্য বিভিন্ন চিকিৎসার ব্যবস্থা রয়েছে। সব ক্ষেত্রে বন্ধ্যাত্বের জন্য চিকিৎসার প্রয়োজন হয় না। অনেক দম্পতি কোনো ধরনের চিকিৎসা ছাড়াই এ সমস্যা থেকে মুক্তি পায়। 

কারণ

গর্ভধারণ একটি জটিল প্রক্রিয়া। বেশ কিছু কারণে এই প্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটতে পারে ও বন্ধাত্ব্ দেখা দিতে পারে। নিচে এর কারণগুলো আলোচনা করা হলো:

  • ডিম্বাণু উৎপাদন প্রক্রিয়ায় ত্রুটি দেখা দেওয়া: এই ত্রুটির কারণে প্রায় ২৫ শতাংশ মহিলা গর্ভধারণে অক্ষম হয়ে পড়ে। হাইপোথ্যালামাস বা পিটুইটারি গ্রন্থি দ্বারা সেক্স হরমোন তৈরি না হলে বা ডিম্বাশয়ে কোনো ত্রুটি দেখা দিলে ডিম্বাণু উৎপাদনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। 
  • পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিন্ড্রোম বা পি-সি-ও-এসঃ মহিলাদের মধ্যে বন্ধাত্বের সাধারণ একটি কারণ হলো পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিন্ড্রোম। এ অবস্থায় একজন মহিলার হাইপোথ্যালামাস, পিটুইটারি গ্রন্থি ও ডিম্বাশয়ে লক্ষণীয় কিছু পরিবর্তন আসে। যার কারণে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয় ও স্বাভাবিকভাবে ডিম্বাণু উৎপন্ন হয় না। পি-সি-ও-এস এর লক্ষণগুলো হলো দেহে ইনসুলিনের মাত্রা কমে যাওয়া ও স্থূলতা, মুখমণ্ডল ও দেহের বিভিন্ন স্থানে লোমের পরিমাণ অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়া এবং ব্রণ হওয়া।
  • হাইপোথ্যালামাস সংক্রান্ত ত্রুটি বা সমস্যাঃ যে দুটি হরমোনের প্রভাবে একজন মহিলার দেহে প্রত্যেক মাসে ডিম্বাণু তৈরী হয় সেগুলো হলো ফলিকল স্টিমুলেটিং হরমোন (Follicle stimulating hormone)  বা  সংক্ষেপে এফ-এস-এইচ (FSH)  এবং লুইটিনাইজিং হরমোন (Luteinizing hormone) বা সংক্ষেপে এল-এইচ (LH)। এই হরমোন দুটি মাসিক চক্রের সময় একটি নির্দিষ্ট প্যাটার্নে পিটুইটারি গ্রন্থি দ্বারা উৎপাদিত হয়।

লক্ষণ

চিকিৎসকেরা এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে সাধারণত নিম্নলিখিত লক্ষণগুলো দেখতে পানঃ

চিকিৎসা

চিকিৎসকেরা এই রোগাক্রান্ত ব্যক্তিদের নিম্নের ঔষধগুলো দিয়ে থাকেনঃ

anastrozole clomiphene citrate
letrozole medroxyprogesterone acetate
metformin hydrochloride norethisterone
oestradiol

চিকিৎসকেরা এই রোগাক্রান্ত ব্যক্তিদের নিম্নের টেস্টগুলো দিয়ে থাকেনঃ

ইউ-এস-জি-এল/এ (USG L/A)
পেলভিক এক্সামিনেশন (pelvic examination)
সি-বি-সি (কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট) (CBC, Complete Blood Count)
এল-এইচ (LH)
হিস্টেরোসালপিঙ্গগ্রাম (Hysterosalpingogram)
হিস্টেরোস্কপি (Hysteroscopy)

ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়

বন্ধ্যাত্ব ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়গুলো নিম্নে আলোচনা করা হলোঃ

  • বয়স: বয়স বাড়ার সাথে সাথে, বিশেষ করে ত্রিশের মাঝামাঝিতে, ফলিকলের পরিমাণ দ্রুত হ্রাস পেতে থাকে। যার ফলে উৎপাদিত ডিম্বাণুর সংখ্যা ও গুণাগুণ  হ্রাস পেতে থাকে। এ কারণে গর্ভধারণের ক্ষেত্রে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয় ও গর্ভপাতের আশংকা বেড়ে যায়।
  • ধূমপান ও অ্যালকোহল গ্রহণ : ধূমপানের কারণে সার্ভিক্স ও ফেলোপিয়ান টিউবের ক্ষতি হয়ে থাকে এবং গর্ভপাতের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। এছাড়াও ধূমপানের কারণে অপরিণত অবস্থায় ডিম্বাণু নষ্ট হয়ে। ধূমপানের মত অ্যালকোহল ব্যবহারের ফলেও ডিম্বাণু উৎপাদন প্রক্রিয়ায় ত্রুটি দেখা দেয়।
  • যৌনরোগ: বিভিন্ন যৌনরোগ যেমন গনোরিয়া ও ক্ল্যামাইডিয়ায় আক্রান্ত হলে ফেলোপিয়ান টিউবের ক্ষতি হয়ে থাকে, যার ফলে গর্ভধারণের ক্ষেত্রে সমস্যা হতে পারে। একাধিক যৌনসঙ্গী থাকলে ও অনিরাপদ যৌন মিলনের মাধ্যমে যৌন রোগ হতে পারে।
  • ওজন: স্বাভাবিকের তুলনায় ওজন খুব বেশি বা কম হলে বন্ধ্যাত্ব দেখা দিতে পারে।

যারা ঝুঁকির মধ্যে আছে

লিঙ্গঃ মহিলাদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের গড়পড়তা সম্ভাবনা রয়েছে।

জাতিঃ শ্বেতাঙ্গ ও অন্যান্য জাতির ক্ষেত্রে এই রোগ নির্ণয়ের গড়পড়তা সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষ্ণাঙ্গদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ২ গুণ কম এবং হিস্প্যানিকদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ১ গুণ কম।

সাধারণ জিজ্ঞাসা

উত্তরঃ শুক্রাণু উৎপাদন প্রক্রিয়ায় কোনো ত্রুটি বা অস্বাভাবিকতা দেখা দিলে পুরুষদের মধ্যে বন্ধাত্ব দেখা দেয়। যে টিউব বা নালীর সাহায্যে শুক্রাণু বাইরে নির্গত হয় তাতে কোনো কারণে আবদ্ধতা দেখা দিলে বা কোনো আঘাত বা অপারেশনের কারণে বা হরমোনজনিত কারণে শুক্রাণু উৎপাদনের পরিমাণ কমে যেতে পারে।

উত্তরঃ কোনো ধরনের জন্ম নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গ্রহণ না করে সাধারণত এক বছর পর্যন্ত কোনো দম্পতি সন্তান ধারণে ব্যর্থ হলে এ অবস্থাকে বন্ধাত্ব বলে চিহ্নিত করা হয়।

হেলথ টিপস্‌

নিম্নলিখিত উপায়ে বন্ধাত্ব্যের ঝুঁকি প্রতিরোধ করা সম্ভব।

  • ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে ও নিয়মিত অনুশীলন করতে হবে।
  • ধূমপান ও অ্যালকোহল পরিহার করতে হবে।
  • দুশ্চিন্তা ও মানসিক চাপ কমাতে হবে।
  • ক্যাফেইনের(চা-কফি) ব্যবহার কমাতে হবে।

বিশেষজ্ঞ ডাক্তার

প্রফেসর ডাঃ কোহিনুর বেগম

গাইনি ও অবসটেট্রিক্স ( Obstetrics & Gynaecology)

প্রফেসর ডাঃ সামিনা চৌধুরী

গাইনি ও অবসটেট্রিক্স ( Obstetrics & Gynaecology)

অধ্যাপক ডাঃ সারিয়া তাসনীম

গাইনি ও অবসটেট্রিক্স ( Obstetrics & Gynaecology)

এমবিবিএস, এফসিপিএস(গাইনী এন্ড অব্‌স), এমএসএমএড(ইংল্যান্ড), ডিআইপি সিইপিআইডি(লন্ডন)

ডাঃ শারমীনা সীদ্দিক

গাইনি ও অবসটেট্রিক্স ( Obstetrics & Gynaecology)

প্রফেসর ডা: জেসমিন আরা বেগম

গাইনি ও অবসটেট্রিক্স ( Obstetrics & Gynaecology)

প্রফেসর ডাঃ সায়েবা আক্তার

গাইনি ও অবসটেট্রিক্স ( Obstetrics & Gynaecology)

প্রফেসর ডাঃ শাহেরীন এফ. সিদ্দিকী

গাইনি ও অবসটেট্রিক্স ( Obstetrics & Gynaecology)

প্রফেসর ডাঃ এস.এফ. নার্গিস

গাইনি ও অবসটেট্রিক্স ( Obstetrics & Gynaecology)