এপিডিডাইমিটিস (Epididymitis)

শেয়ার করুন

বর্ণনা

প্রতিটি অন্ডকোষের উপরের অংশকে এপিডিডাইমিস বলে। এটি হল বীর্য সংরক্ষণের স্থান। টিউব এবং অন্যান্য নালী বেয়ে বীর্য এপিডিডাইমিস থেকে অন্ডকোষে চলে আসে। এর মাধ্যমে শুক্রাণু টেস্টিকল থেকে স্পার্মাটিক নালীতে যায়। এতে জ্বালাপোড়া হলে তাকে এপিডিডাইমিটিস বলে। এর কারণে এপিডিডাইমিস ও টেস্টিকল ফুলে যায় ও জ্বালাপোড়াসহ প্রচন্ড ব্যথা হয়। এছাড়াও এই অবস্থায় জ্বর, স্ক্রটাম ফুলে যাওয়া, লালবর্ণ ধারণ করা, ইউরেথ্রাইটিসে জ্বালাপোড়া হওয়া সহ বিভিন্ন সমস্যা দেখা যায়। এর দুইটি ফর্ম রয়েছে, একটি সেক্সুয়ালী ট্রান্সমিটেড ফর্ম আরেকটি নন-স্পেসিফিক ব্যাকটেরিয়াল ফর্ম।

কারণ

নিম্নলিখিত কারণে এই রোগ হয়ে থাকেঃ

বেশির ভাগ ক্ষেত্রে গনোরিয়া এবং ক্ল্যামাইডিয়ার কারণে অল্পবয়স্ক এবং যারা নিয়মিত যৌন মিলন করে থাকেন তাদের মধ্যে এপিডিডাইমিটিস দেখা যায়।

  • যৌন মিলনে সক্রিয় নয় এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে যৌনবাহিত ব্যতীত যে সকল ব্যাক্টেরিয়া আছে তাদের দ্বারা ইনফেকশন হয়ে থাকে।মূত্রনালী ও প্রস্টেটের ইনফেকশনের কারণে এই রোগ হয়ে থাকে।
  • হৃদরোগের বিভিন্ন ঔষধ খাওয়ার জন্যেও এপিডিডাইমিসে জ্বালাপোড়া হয়ে থাকে।
  • ভারী বস্তু ওঠা-নামানোর জন্য প্রস্রাব পিছনের দিকে প্রবাহিত হয়ে এপিডিডাইমিসে প্রবেশ করে। এর কারণেও এই রোগ হয়ে থাকে।
  • কুঁচকিতে কোন ধরনের আঘাতের কারণেও এটি হতে পারে।
  • কিছু কিছু ক্ষেত্রে টিউবারকুলোসিস ইনফেকশনের কারণেও এই রোগ হয়ে থাকে।


লক্ষণ

এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে চিকিৎসকেরা নিম্নলিখিত লক্ষণগুলি চিহ্নিত করে থাকেন:

ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়

যে সকল বিষয়ের কারণে এই রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায় সেগুলো হলোঃ

  • অনিরাপদ যৌনসম্পর্ক।
  • মূত্রনালীর গঠনগত সমস্যা।
  • মূত্রনালীর অপারেশন হওয়া।
  • ক্যাথেটার ব্যবহার করা।
  • প্রস্টেট বড় হয়ে যাওয়া।
  • অ্যামিওডেরন জাতীয় হৃদরোগের ঔষধ গ্রহণ করা।
  • টিউবারকুলেসিস।
  • ভারী কোন কিছু তোলা।
  • খৎনা করা হয়নি এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে।


যারা ঝুঁকির মধ্যে আছে

লিঙ্গঃ পুরুষদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের গড়পড়তা সম্ভাবনা রয়েছে। মহিলাদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ১ গুণ কম।

জাতিঃ শ্বেতাঙ্গ ও হিস্প্যানিকদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের গড়পড়তা সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষ্ণাঙ্গ ও অন্যান্য জাতিদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ১ গুণ কম।


সাধারণ জিজ্ঞাসা


উত্তরঃ এপিডিডাইমিসে কোন ধরনের ইনফেকশন হলে তাকে এপিডিডাইমিটিস বলে। অ্যান্টিবায়োটিক ও ব্যথানাশক ঔষধ গ্রহণের মাধ্যমে এই রোগ ৩-৪ সপ্তাহে ভাল হয়ে যায়। এছাড়াও গরম পানি দিয়ে গোসল করলে আরাম পাওয়া যায়। তবে এপিডিডাইমিস ফুলে গেলে বা দীর্ঘদিন ব্যথা থাকলে তা প্রস্টেটাইটিসের লক্ষণ হতে পারে এবং এই অবস্থায় একজন ইউরোলজিস্টের শরণাপন্ন হতে হবে। 

উত্তরঃ সাধারণত এই রোগটি ছোঁয়াচে নয়, তবে কখনো কখনো যৌনবাহিত ব্যাকটেরিয়ার কারণে এই রোগ হতে পারে।   

হেলথ টিপস্‌

এপিডিডাইমিটিস কারণে সহনীয় ব্যথা হতে পারে। অস্বস্তি কমাতে নিম্নলিখিত পন্থাগুলো মেনে চলতে হবেঃ

  • বিশ্রাম নিতে হবে।
  • স্ক্রটাম ফুলে গেলে বিছানায় শুইয়ে বিশ্রাম নিতে হবে।
  • ঐ স্থানে বরফ লাগাতে হবে।
  • খেলাধূলার সময় প্রয়োজনীয় পোশাক পরিধান করতে হবে।
  • ভারী বস্তু উঠা-নামানো থেকে বিরত থাকতে বিরত থাকতে হবে।
  • ইনফেকশন ভাল না হওয়া পর্যন্ত যৌনসম্পর্ক থেকে বিরত থাকতে হবে।


বিশেষজ্ঞ ডাক্তার

প্রফেসর ডাঃ এম.এ সালাম

ইউরোলজি ( মূত্রতন্ত্রের সার্জারী) ( Urology)

প্রফেসর ডাঃ সোহরাব

ইউরোলজি ( মূত্রতন্ত্রের সার্জারী) ( Urology)

সহকারী অধ্যাপক ডাঃ মোঃ সালাউদ্দিন ফারুক

ইউরোলজি ( মূত্রতন্ত্রের সার্জারী) ( Urology)

এমবিবিএস, এফসিপিএস(সার্জারী), এমএস(ইউরোলজি)

প্রফেসর ডাঃ জামানুল ইসলাম

ইউরোলজি ( মূত্রতন্ত্রের সার্জারী) ( Urology)