এন্ডোমেট্রিয়াল হাইপারপ্ল্যাসিয়া (Endometrial hyperplasia)

শেয়ার করুন

বর্ণনা

এন্ডোমেট্রিয়াল হাইপারপ্ল্যাসিয়া হলো এমন একটি অবস্থা যার কারণে জরায়ুর আস্তরণের ঘনত্ব বেড়ে যায়।জরায়ুর এই আস্তরণটিএন্ডোমেট্রিয়াম নামে পরিচিত।গর্ভধারনের পূর্বে প্রতি মাসে এই আস্তরণটির ঘনত্ব বাড়তে থাকে। যদি গর্ভাবস্থা না দেখা দেয় তাহলে এই আস্তরণটির ঘনত্ব কমতে থাকে। যার ফলে মাসিক দেখা দেয়। সাধারণত অধিকাংশ মহিলাদের ২৮ দিন পরপর মাসিক হয়ে থাকে। এই সামগ্রিক পদ্ধতিটি এস্ট্রোজেন এবং প্রোজেসটেরোন নামক দুইটি হরমোন দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। যদি এই হরমোন গুলোর ভারসাম্যতা বজায় না থাকে অথবা এই হরমোন গুলো কমপরিমাণে উৎপন্ন হয় তাহলে জরায়ুর আস্তরণের কোষের বৃদ্ধি বেড়ে যায় এবং এর ফলে এন্ডোমেট্রিয়াল হাইপারপ্ল্যাসিয়া দেখা দেয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এই সমস্যাটি ননক্যান্সারাস অথবা ক্ষতিকর নয়। যেহেতু এই সমস্যাটি হরমোন পরিবর্তনের কারণে হয়ে থাকে সেহেতু যেসমস্ত মহিলাদের মনোপজ শুরু হয়েছে অথবা মেনোপজ শুরু হবে তাদের মধ্যে এই সমস্যাটি বেশি দেখা দেয়। বিভিন্ন ধরনের শারীরিক সমস্যা যেমনঃ ডায়বেটিস, স্থুলতা অথবা পলিসিসটিক ওভারিয়ানসিন্ড্রোমের কারণেও এই সমস্যাটি হতে পারে।

যদি আপনার মাসিক প্রচুর পরিমাণে এবং দীর্ঘদিন স্থায়ী হয়, মাসিক অনিয়মিত ভাবে হয় অথবাপোস্টমেনোপোজাল ভ্যাজিনাল ব্লিডিং দেখা দেয় তাহলেআপনাকে জরুরী ভিত্তিতে চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে।


কারণ

প্রোজেসটেরোন ছাড়া শুধুমাত্র এস্ট্রোজেনের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার কারণে এন্ডোমেট্রিয়াল হাইপারপ্ল্যাসিয়া দেখা দেয়। যদি ওভুলেশন না ঘটে এবংপ্রোজেসটেরোন নামক হরমোনউৎপন্ন হয় না তাহলে জরায়ুর আস্তরণের ঘনত্ব বেড়ে যায়।এস্ট্রোজেননামক হরমোনের সহায়তার কারণে এন্ডোমেট্রিয়ামের ঘনত্ববাড়তে থাকে। যার কারণে জরায়ুর আস্তরণের কোষ গুলো একত্রিত হয় এবং অস্বাভাবিক আকার ধারন করে। এই অবস্থাটিকে হাইপারপ্ল্যাসিয়াবলা হয় এবং এই সমস্যাটির কারণে কিছু কিছু মহিলা ক্যান্সারে আক্রান্ত হতে পারেন। 

লক্ষণ

এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে চিকিৎসকেরা নিম্নলিখিত লক্ষণগুলি চিহ্নিত করে থাকেন:

ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়

এই রোগের ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়গুলো নিচে দেওয়া হলো।

• ৩৫ বছরের বেশি বয়স্ক মহিলা

• শ্বেত বর্ণের মহিলা

• যেসকল মহিলা কখনোই গর্ভধারণ করেন নি

• মহিলাদের মনোপজ চলাকালীন সময়

• মনোপজ শুরু হওয়ার পূর্বে

• বিভিন্ন ধরনের শারীরিক সমস্যা যেমনঃডায়বেটিসমেলাইটাস,পলিসিসটিকওভারিসিন্ড্রোম, গলব্লাডার ডিজিজ অথবা থায়রয়েড ডিজিজ

• স্থুলতা বা অধিক ওজন

• ধুমপান

• পরিবারে কারো ওভারিয়ান, কোলন অথবা ইউটারিয়ান (জরায়ুসংক্রান্ত)ক্যান্সার থাকলে


যারা ঝুঁকির মধ্যে আছে

লিঙ্গঃ

পুরুষদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ৩৪০ গুণ কম। মহিলাদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের গড়পড়তা সম্ভাবনা রয়েছে।

জাতিঃ 

শেতাঙ্গ এবং অন্যান্য জাতির মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের গড়পড়তা সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষ্ণাঙ্গ এবং হিস্প্যানিকদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ১ গুণ কম।


সাধারণ জিজ্ঞাসা


এন্ডোমেট্রিয়াল হাইপারপ্ল্যাসিয়া এবং এন্ডোমেট্রিয়াল ক্যান্সার একই ধরনের রোগ নয়। এন্ডোমেট্রিয়াল হাইপারপ্ল্যাসিয়া হলো এন্ডোমেট্রিয়াল ক্যান্সারের প্রাথমিক অবস্থা।প্রোজেসটেরোন থেরাপি প্রদানের মাধ্যমে এই অবস্থাটিকে দূর করা সম্ভব। কিন্তু এন্ডোমেট্রিয়াল হাইপারপ্ল্যাসিয়ায় আক্রান্ত রোগীকে থেরাপি না দিলে এই রোগটি ক্যান্সারে রূপান্তরিত হয়।      

হেলথ টিপস্‌

এন্ডোমেট্রিয়াল হাইপারপ্ল্যাসিয়া প্রতিরোধে নিম্নলিখিত বিষয় গুলো অনুসরণ করতে হবে।

• ১৮ বছর বয়সের পর থেকে মহিলাদেরকে নিয়মিত ভাবে পেলভিক পরীক্ষা করাতে হবে। যেকোনো ধরনের অস্বাভাবিকতা দেখা দিলে তা নিরাময় করতে হবে।

• ওজন নিয়ন্ত্রনের মাধ্যমে এই সমস্যা প্রতিরোধ করা সম্ভব।

• প্রতিদিন ব্যায়াম করলে এই সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কমে।

• স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে হবে এবং চর্বিযুক্ত খাবার পরিহার করতে হবে।


বিশেষজ্ঞ ডাক্তার

অধ্যাপক ডাঃ সারিয়া তাসনীম

গাইনি ও অবসটেট্রিক্স ( Obstetrics & Gynaecology)

এমবিবিএস, এফসিপিএস(গাইনী এন্ড অব্‌স), এমএসএমএড(ইংল্যান্ড), ডিআইপি সিইপিআইডি(লন্ডন)

ডাঃ শারমীনা সীদ্দিক

গাইনি ও অবসটেট্রিক্স ( Obstetrics & Gynaecology)

প্রফেসর ডাঃ কোহিনুর বেগম

গাইনি ও অবসটেট্রিক্স ( Obstetrics & Gynaecology)

প্রফেসর ডা: জেসমিন আরা বেগম

গাইনি ও অবসটেট্রিক্স ( Obstetrics & Gynaecology)

প্রফেসর ডাঃ শাহেরীন এফ. সিদ্দিকী

গাইনি ও অবসটেট্রিক্স ( Obstetrics & Gynaecology)

প্রফেসর ডাঃ সায়েবা আক্তার

গাইনি ও অবসটেট্রিক্স ( Obstetrics & Gynaecology)

প্রফেসর ডাঃ এস.এফ. নার্গিস

গাইনি ও অবসটেট্রিক্স ( Obstetrics & Gynaecology)

প্রফেসর ডাঃ সামিনা চৌধুরী

গাইনি ও অবসটেট্রিক্স ( Obstetrics & Gynaecology)