এডওয়ার্ড সিন্ড্রোম (Edward syndrome)

শেয়ার করুন

বর্ণনা

এডওয়ার্ড সিন্ড্রোম হলো একটি বিরল অবস্থাযানবজাতকের শরীরের সেলে ক্রোমোজোমের সংখ্যা অস্বাভাবিক হলে দেখা দেয়।

সাধারণত নবজাতকের ৪৬ টি ক্রোমোজোম থাকে যা ২৩ জোড়ায় সাজানো থাকে। এডওয়ার্ড সিন্ড্রোমে আক্রান্ত নবজাতকের ক্রোমোজোমের সংখ্যা হলো ১৮ টি। এই সমস্যাটি ‘ট্রিসোমি ১৮’ নামেও পরিচিত।

এটি একটি মারাত্মক সমস্যা।দুঃখের বিষয় এই যে, এই সমস্যায় আক্রান্ত নবজাতক কয়েক দিন, কয়েক সপ্তাহ অথবা কয়েক মাস বেঁচে থাকে। যেসমস্ত নবজাতক ১ বছরের বেশি বেঁচে থাকে সেসমস্ত নবজাতকদের বিভিন্ন ধরনের শরীরিক সমস্যা দেখা দেয়।

গর্ভাবস্থায় এই রোগে আক্রান্ত নবজাতকদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যহত হয়। যার ফলে নবজাতক কম ওজন নিয়ে জন্ম গ্রহণ করে। তাদের হৃৎপিন্ড এবং কিডনি সঠিক ভাবে বিকাশিত হয় না। এই সমস্যায় আক্রান্ত শিশুদের খাবার গ্রহণে অসুবিধার সৃষ্টি হয়। তাছাড়াও তাদের শ্বাসকষ্ট সহ বিভিন্ন ধরনের শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়।


কারণ

খুব ক্ষেত্রেই এডওয়ার্ড সিন্ড্রোম বংশগত কারণে হয়ে থাকে। যখন ডিম্বাণু এবং শুক্রাণু উৎপন্ন হয় তখন ক্রোমোজোম ১৮ এরতিনটা প্রতিনিধি তৈরি হয়। এই ক্ষেত্রে কোষ বিভাজনে এক ধরনের ত্রুটি দেখা দেয়। এর ফলে ডিম্বাণুতে একটি অতিরিক্ত ক্রোমোজোম সৃষ্টি হয় অথবা শুক্রাণুতে একটি অতিরিক্ত ক্রোমোজোম দেখা দিতে পারে। যেহেতু এটা অনিয়মিত হয় সেহেতু এর কারণে একাধিকবার গর্ভাবস্থা ক্ষতিগ্রস্থ হয় না।

নবজাতকের এই সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা মায়ের বয়সের উপর নির্ভর করে। ‘ট্রিসোমি ১৮’ সমস্যাটিমাঝে মাঝে বংশগত কারণে দেখা দেয়।


লক্ষণ

এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে চিকিৎসকেরা নিম্নলিখিত লক্ষণগুলি চিহ্নিত করে থাকেন:

ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়

এই রোগের ঝুঁকিপূর্ণ বিষয় গুলো নিচে দেওয়া হলো।

• বংশগত কারণে এই রোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।

• মায়ের বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে নবজাতকের এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।


যারা ঝুঁকির মধ্যে আছে

লিঙ্গঃ

পুরুষদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের গড়পড়তা সম্ভাবনা রয়েছে। মহিলাদের মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ১ গুণ কম।

জাতিঃ

শেতাঙ্গ এবং হিস্প্যানিকদেরমধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের গড়পড়তা সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে কৃষ্ণাঙ্গ মধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ১ গুণ কম এবং অন্যান্য জাতিরমধ্যে এই রোগ নির্ণয়ের সম্ভাবনা ৬ গুণ কম।


সাধারণ জিজ্ঞাসা


এই রোগে আক্রান্ত নবজাতক সাধারণত মিসক্যারিজ (গর্ভস্রাব) অথবা মৃত হয়। বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার কারণে এই সমস্যায় আক্রান্ত ৩ শতাংশ নবজাতক কয়েক মাসের মধ্যেই মারা যায়। এই সমস্যায় আক্রান্ত ৫ থেকে ১০ শতাংশ নবজাতক কয়েক বছর বেঁচে থাকে এবং তাদের মারাত্মক ডেভেলপমেন্টাল ডিজঅ্যাবিলিটিস দেখা দেয়। এই রোগে আক্রান্তখুব কম সংখ্যক নবজাতকই কিশোর বয়স পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে। তবে এইধরনের কিশোরদের বিশেষ সেবার প্রয়োজন পরে এবং তারা অন্যের উপর নির্ভর করে।   

এই রোগের উপসর্গ গুলোকে নিয়ন্ত্রন করা খুবই কঠিন। অকুপেশনাল এবং ফিজিওথেরাপির মাধ্যমে এই রোগে আক্রান্ত নবজাতককে সুরক্ষা প্রদান করা যেতে পারে। এখন পর্যন্ত এডওয়ার্ড সিন্ড্রোম নিরাময়ে কোনো সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা পদ্ধতি আবিষ্কৃত হয় নি। পিতামাতাকে মনে রাখতে হবে যে, তারা নিজেদের যত্ন নেয়ার মাধ্যমে নবজাতকদেরকে এই রোগ হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করতে পারবেন।   

হেলথ টিপস্‌

গর্ভাবস্থায় বিভিন্ন ধরনের টেস্টের মাধ্যমে নবজাতকদের এই রোগ নির্নয় করা যেতে পারে। যেসমস্ত পিতামাতার একটি নবজাতক এই রোগে আক্রান্ত হয়ে জন্ম গ্রহণ করে এবং পরবর্তীতে তারা যদি একাধিক সন্তান জন্ম দিতে চান তাহলে তাদেরকে জিনেটিক টেস্টিং করারপরামর্শ দেওয়া হয়।    

বিশেষজ্ঞ ডাক্তার

প্রফেসর ডা: মো: সেলিমুজ্জামান

পেডিয়াট্রিকস ( Pediatrics)

ডা: আহমেদ জাহিদ হোসেন

পেডিয়াট্রিকস ( Pediatrics)

প্রফেসর ডা: আলী কাওছার

পেডিয়াট্রিকস ( Pediatrics)

প্রফেসর ডা: মো: মিজানুর রহমান

পেডিয়াট্রিকস ( Pediatrics)

প্রফেসর ডা:মোহাম্মদ হানিফ

পেডিয়াট্রিকস ( Pediatrics)

প্রফেসর ডাঃ সাঈদা আনোয়ার

পেডিয়াট্রিকস ( Pediatrics)

প্রফেসর ডা: সাইদা আনোয়ার

পেডিয়াট্রিকস ( Pediatrics)